গাজায় ‘গণহত্যা’ বন্ধে ইইউ’র প্রতি যে আহ্বান জানালো স্পেন-স্লোভেনিয়া
- প্রকাশের সময় : ০৪:৪০:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
- / 14
গাজায় ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার রক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আরও সক্রিয় ভূমিকা দাবি করেছে স্পেন ও স্লোভেনিয়া।
বুধবার স্লোভেনিয়া স্পেনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও জাতিসংঘের স্বাধীনতা রক্ষায় ইইউকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলব স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজের আহ্বানের প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) স্লোভেনিয়া সরকারের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে রবার্ট গোলব বলেন, “এ পর্যন্ত ইউরোপের প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতির ভয়াবহতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে, কারণ ইউরোপের মৌলিক মূল্যবোধের কোনও মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। আন্তর্জাতিক আদালতগুলোর স্বাধীনতা কোনওভাবেই আপসযোগ্য নয়।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা ও আইনের শাসনের বিরুদ্ধে যেকোনও ধরনের হুমকি বৈশ্বিক মানবাধিকার কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
এর আগে বুধবার পেড্রো সানচেজ ইউরোপীয় কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান, “যেন তারা দ্রুত ব্লকিং স্ট্যাটিউট’ সক্রিয় করে। তার ভাষায়, এর উদ্দেশ্য হবে- আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও জাতিসংঘের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং গাজায় চলমান গণহত্যা বন্ধে তাদের পদক্ষেপকে সুরক্ষা দেওয়া।”
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সানচেজ বলেন, “স্পেন নীরব দর্শক হয়ে থাকতে চায় না। যারা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে রক্ষা করছে, তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ পুরো মানবাধিকার ব্যবস্থাকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। এই নিপীড়নের মুখে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে না।”
‘ব্লকিং স্ট্যাটিউট’ হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি আইন, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের এমন নিষেধাজ্ঞা মানতে নিষেধ করা হয়, যেগুলো মার্কিন ভূখণ্ডের বাইরেও প্রয়োগ করার চেষ্টা করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত বছর ইসরায়েল–সংক্রান্ত মামলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এসব পদক্ষেপের আওতায় আইসিসির বিচারকরাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা যুদ্ধ ঘিরে পশ্চিমা বিশ্বে ক্রমবর্ধমান বিভাজনের মধ্যেই স্পেন ও স্লোভেনিয়ার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং যুদ্ধাপরাধের প্রশ্নে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে আরও জোরালো বিতর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই উদ্যোগ। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর






















