Dhaka ০৮:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
আগামী পাঁচ বছর কুষ্টিয়া সদর আসনে আমিই প্রধানমন্ত্রী: আমির হামজা ভাষার আলোয় মেধার উচ্ছ্বাস, রাজবাড়ী একাডেমির উদ্যোগে প্রাক বাংলা উৎসব বিভ্রান্তি ও হঠকারিতার রাজনীতি ছেড়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসুন: প্রধানমন্ত্রী নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: আইনমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে দেশ স্বাধীন হতো না, তিনি স্বাধীনতার স্থপতি: আসিফ নজরুল ভারতের স্বাধীনতা দিবসে বেনাপোল-পেট্রাপোলে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ নওগাঁর ধামইরহাট থানা পরিদর্শনে পুলিশ সুপার বিএনপি ৩১ দফা দেয়, পূরণ করে ৩২ দফা পর্যন্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নওগাঁয় খাল খননের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত ঝিনাইদহে নিখোঁজের তিনদিন পর নদী থেকে রমজানের মরদেহ উদ্ধার

হাত-পাবিহীন শিশুর জন্ম: বাবা বললেন ফেলে দিতে, হাসপাতাল করল বিল মওকুফ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:৪০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 190

নেছারাবাদ উপজেলায় হাত-পা বিহীন এক নবজাতকের জন্মকে ঘিরে হৃদয়বিদারক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। জন্মের পর শিশুটিকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তার বাবা। তবে স্বামীর এমন নিষ্ঠুর নির্দেশ উপেক্ষা করে সন্তানকে বুকে নিয়েই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মা লিজা আক্তার।

জানা যায়, বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মিয়ারহাট বন্দরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ছেলেশিশুটির জন্ম হয়। শিশুটির দুই পা নেই এবং একটি হাত আংশিক গঠিত। পিতা দিনমজুর আল আমীন নবজাতককে নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং স্ত্রীকে সন্তানটি অন্যত্র দিয়ে দিতে বা ফেলে আসতে বলেন।

তবে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রসূতির অপারেশনসহ সব চিকিৎসা ব্যয় মওকুফ করা হয়েছে। অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসকও তার সার্জন ফি নেননি।

লিজা আক্তারের বাড়ি পাশের নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামে। তিনি জানান, এটি তার তৃতীয় সন্তান। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করলেও সন্তান প্রসবের আগে তিনি বাড়িতে আসেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে লিজা বলেন, “আমার সন্তান স্বাভাবিকভাবে জন্মায়নি বলে স্বামী তাকে ফেলে দিতে বলেছে। কিন্তু আমি কখনোই আমার সন্তানকে ফেলে দিতে পারব না। স্বামী আমাকে ছেড়ে গেলেও আমি আমার সন্তানকে মানুষ করে তুলব।”

তিনি আরও বলেন, “আমি বেঁচে থাকা পর্যন্ত কাজ করে সন্তানকে খাওয়াতে পারব। কিন্তু আমার মৃত্যুর পর তার কী হবে—এই চিন্তাই আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি সাহায্য করলে সন্তানের ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও নিশ্চিত হবে।”

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, দিনমজুর পরিবারের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে হাসপাতালের সব খরচ মওকুফ করা হয়েছে।

অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসক প্রীতিষ বিশ্বাস বলেন, জিনগত কারণ বা গর্ভকালীন যথাযথ চিকিৎসার অভাবে অনেক সময় এ ধরনের শিশু জন্ম নিতে পারে। মানবিক দিক বিবেচনায় তিনি নিজের ফিও মওকুফ করেছেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

হাত-পাবিহীন শিশুর জন্ম: বাবা বললেন ফেলে দিতে, হাসপাতাল করল বিল মওকুফ

প্রকাশের সময় : ১০:৪০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

নেছারাবাদ উপজেলায় হাত-পা বিহীন এক নবজাতকের জন্মকে ঘিরে হৃদয়বিদারক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। জন্মের পর শিশুটিকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তার বাবা। তবে স্বামীর এমন নিষ্ঠুর নির্দেশ উপেক্ষা করে সন্তানকে বুকে নিয়েই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মা লিজা আক্তার।

জানা যায়, বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মিয়ারহাট বন্দরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ছেলেশিশুটির জন্ম হয়। শিশুটির দুই পা নেই এবং একটি হাত আংশিক গঠিত। পিতা দিনমজুর আল আমীন নবজাতককে নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং স্ত্রীকে সন্তানটি অন্যত্র দিয়ে দিতে বা ফেলে আসতে বলেন।

তবে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রসূতির অপারেশনসহ সব চিকিৎসা ব্যয় মওকুফ করা হয়েছে। অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসকও তার সার্জন ফি নেননি।

লিজা আক্তারের বাড়ি পাশের নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামে। তিনি জানান, এটি তার তৃতীয় সন্তান। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করলেও সন্তান প্রসবের আগে তিনি বাড়িতে আসেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে লিজা বলেন, “আমার সন্তান স্বাভাবিকভাবে জন্মায়নি বলে স্বামী তাকে ফেলে দিতে বলেছে। কিন্তু আমি কখনোই আমার সন্তানকে ফেলে দিতে পারব না। স্বামী আমাকে ছেড়ে গেলেও আমি আমার সন্তানকে মানুষ করে তুলব।”

তিনি আরও বলেন, “আমি বেঁচে থাকা পর্যন্ত কাজ করে সন্তানকে খাওয়াতে পারব। কিন্তু আমার মৃত্যুর পর তার কী হবে—এই চিন্তাই আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি সাহায্য করলে সন্তানের ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও নিশ্চিত হবে।”

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, দিনমজুর পরিবারের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে হাসপাতালের সব খরচ মওকুফ করা হয়েছে।

অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসক প্রীতিষ বিশ্বাস বলেন, জিনগত কারণ বা গর্ভকালীন যথাযথ চিকিৎসার অভাবে অনেক সময় এ ধরনের শিশু জন্ম নিতে পারে। মানবিক দিক বিবেচনায় তিনি নিজের ফিও মওকুফ করেছেন।