Dhaka ০২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বামীর মৃত্যুর পর জায়গা হয়নি বাড়িতে, দুই সন্তান নিয়ে কবরের পাশে সোনিয়া

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৩:১০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • / 43

স্বামীর কবরের পাশেই দুই সন্তানকে নিয়ে আশ্রয়ের খোঁজ করছেন সোনিয়া বেগম। একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই আর সামান্য মানবিক সহায়তার আশায় দিন কাটছে তার। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার উত্তর লস্করচালা গ্রামে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে গভীর সহানুভূতি ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্বামীর কবরের পাশে বসে আছেন সোনিয়া। পাশে ৯ বছরের কন্যা ছোঁয়া, কোলে ১৮ মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য পুত্রসন্তান। তাদের এই অসহায় অবস্থায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনিয়া আক্তারের স্বামী সুজন মাহমুদের অকাল মৃত্যুর পর থেকেই বিপাকে পড়েন তিনি। সোনিয়ার অভিযোগ, শ্বশুরবাড়িতে আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তার স্বামীর মৃত্যু হয়।

স্বামীর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই তিনি জানতে পারেন, শ্বশুরবাড়িতে তার এবং সন্তানদের জন্য আর কোনো জায়গা নেই।

তার দাবি, শ্বশুর কফিল উদ্দিন ও শাশুড়ি তাদের মেনে নিতে রাজি নন। এমনকি স্বামীর দাফনের সময় শ্বশুর ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

স্বামী হারানোর শোকের মধ্যেই দুই সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন সোনিয়া। তার অসহায় অবস্থা দেখে স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের পরিবার মানবিক কারণে কিছুদিন আশ্রয় দিলেও পরে আইনি জটিলতার আশঙ্কায় সেই আশ্রয়ও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

শেষ পর্যন্ত কোথাও ঠাঁই না পেয়ে স্বামীর কবরের পাশেই অবস্থান নিতে বাধ্য হন সোনিয়া। বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ছোট্ট ছোঁয়ার কান্না উপস্থিত অনেকের চোখে জল এনে দিচ্ছে।

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে সোনিয়া বলেন, ‘স্বামীর লাশ ফেলে শ্বশুর চলে গিয়েছিলেন। এখন আমি এই দুই সন্তান নিয়ে কোথায় যাব? আমার তো যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। শ্বশুরবাড়িতে থাকার অধিকারটুকুও দেওয়া হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে স্বামীর কবরের পাশে বসে আছি, আল্লাহ যদি কোনো ব্যবস্থা করেন।’

এদিকে ১৮ মাস বয়সী শিশুটি পরিস্থিতি বুঝে ওঠার মতো বড় না হলেও বড় মেয়ে ছোঁয়া বাবার ভিটেতে একটি আশ্রয়ের জন্য নীরব লড়াই করে যাচ্ছে।

এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করছেন, পারিবারিক বিরোধ ভুলে শিশুদের কথা ভেবে দাদা-দাদির তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল। কিন্তু, বাস্তবে শিশুরা পড়েছে চরম অনিশ্চয়তা ও অবহেলায়।

সচেতন মহলের প্রশ্ন—একটি অসহায় পরিবার কি সমাজের চোখের সামনেই এভাবে আশ্রয়হীন হয়ে থাকবে?

স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজকর্মীরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সোনিয়া ও তার দুই শিশুর আইনি অধিকার নিশ্চিত করে নিরাপদ বসবাসের ব্যবস্থা করা হোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষকে নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। মীমাংসা না হলে আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

স্বামীর মৃত্যুর পর জায়গা হয়নি বাড়িতে, দুই সন্তান নিয়ে কবরের পাশে সোনিয়া

প্রকাশের সময় : ০৩:১০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

স্বামীর কবরের পাশেই দুই সন্তানকে নিয়ে আশ্রয়ের খোঁজ করছেন সোনিয়া বেগম। একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই আর সামান্য মানবিক সহায়তার আশায় দিন কাটছে তার। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার উত্তর লস্করচালা গ্রামে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে গভীর সহানুভূতি ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্বামীর কবরের পাশে বসে আছেন সোনিয়া। পাশে ৯ বছরের কন্যা ছোঁয়া, কোলে ১৮ মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য পুত্রসন্তান। তাদের এই অসহায় অবস্থায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোনিয়া আক্তারের স্বামী সুজন মাহমুদের অকাল মৃত্যুর পর থেকেই বিপাকে পড়েন তিনি। সোনিয়ার অভিযোগ, শ্বশুরবাড়িতে আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যথাযথ চিকিৎসার অভাবে তার স্বামীর মৃত্যু হয়।

স্বামীর মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই তিনি জানতে পারেন, শ্বশুরবাড়িতে তার এবং সন্তানদের জন্য আর কোনো জায়গা নেই।

তার দাবি, শ্বশুর কফিল উদ্দিন ও শাশুড়ি তাদের মেনে নিতে রাজি নন। এমনকি স্বামীর দাফনের সময় শ্বশুর ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

স্বামী হারানোর শোকের মধ্যেই দুই সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন সোনিয়া। তার অসহায় অবস্থা দেখে স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের পরিবার মানবিক কারণে কিছুদিন আশ্রয় দিলেও পরে আইনি জটিলতার আশঙ্কায় সেই আশ্রয়ও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

শেষ পর্যন্ত কোথাও ঠাঁই না পেয়ে স্বামীর কবরের পাশেই অবস্থান নিতে বাধ্য হন সোনিয়া। বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ছোট্ট ছোঁয়ার কান্না উপস্থিত অনেকের চোখে জল এনে দিচ্ছে।

অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে সোনিয়া বলেন, ‘স্বামীর লাশ ফেলে শ্বশুর চলে গিয়েছিলেন। এখন আমি এই দুই সন্তান নিয়ে কোথায় যাব? আমার তো যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। শ্বশুরবাড়িতে থাকার অধিকারটুকুও দেওয়া হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে স্বামীর কবরের পাশে বসে আছি, আল্লাহ যদি কোনো ব্যবস্থা করেন।’

এদিকে ১৮ মাস বয়সী শিশুটি পরিস্থিতি বুঝে ওঠার মতো বড় না হলেও বড় মেয়ে ছোঁয়া বাবার ভিটেতে একটি আশ্রয়ের জন্য নীরব লড়াই করে যাচ্ছে।

এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করছেন, পারিবারিক বিরোধ ভুলে শিশুদের কথা ভেবে দাদা-দাদির তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল। কিন্তু, বাস্তবে শিশুরা পড়েছে চরম অনিশ্চয়তা ও অবহেলায়।

সচেতন মহলের প্রশ্ন—একটি অসহায় পরিবার কি সমাজের চোখের সামনেই এভাবে আশ্রয়হীন হয়ে থাকবে?

স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজকর্মীরা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সোনিয়া ও তার দুই শিশুর আইনি অধিকার নিশ্চিত করে নিরাপদ বসবাসের ব্যবস্থা করা হোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষকে নিয়ে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। মীমাংসা না হলে আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।