Dhaka ১০:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুখের খোঁজে মালয়েশিয়া, হত্যার পর পোড়ানো হয় নাজমুল-কোহিনুরকে

একরামুল ইসলাম তুষার, কালীগঞ্জ
  • প্রকাশের সময় : ১১:২৩:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 126

জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামের নজরুল ইসলাম। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের আগেই তার মৃত্যু সংবাদ পৌঁছেছে দেশে। একই ঘটনায় নিহত হয়েছেন তার বাংলাদেশি সঙ্গী কোহিনুর বেগম।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে তাদের হত্যা করা হয়েছে। পরে মরদেহের সঙ্গে অবমাননাকর আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

নজরুল ইসলাম উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে। ২০১৮ সালে তিনি জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়ায় যান। সেখানে একটি খামার গড়ে তোলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন।

স্বজনরা জানান, সম্প্রতি তিনি দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খামারের সম্পদ বিক্রি করে সবকিছু গুছিয়ে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন। এর মধ্যেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, নজরুল আগে থেকেই ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে বিরোধের কথা জানিয়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দ্রুত দেশে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

নজরুলের বোন শাপলা খাতুন বলেন, ছোটবেলা থেকেই নজরুল পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ভেঙে পড়েছে।

নিহতের ভাগনি সাদিয়া ইসলাম মীম বলেন, মামা খুব শিগগির দেশে ফেরার কথা বলেছিলেন। এখন পরিবারের একমাত্র দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হোক এবং মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।

নজরুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ। বাবা-মা ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। তারা সরকারের কাছে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানা-এর অফিসার ইনচার্জ জেল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি বিদেশে ঘটায় স্থানীয় থানার কাছে সরাসরি তথ্য নেই। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দূতাবাস ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

সুখের খোঁজে মালয়েশিয়া, হত্যার পর পোড়ানো হয় নাজমুল-কোহিনুরকে

প্রকাশের সময় : ১১:২৩:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া গিয়েছিলেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামের নজরুল ইসলাম। কিন্তু স্বপ্ন পূরণের আগেই তার মৃত্যু সংবাদ পৌঁছেছে দেশে। একই ঘটনায় নিহত হয়েছেন তার বাংলাদেশি সঙ্গী কোহিনুর বেগম।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে তাদের হত্যা করা হয়েছে। পরে মরদেহের সঙ্গে অবমাননাকর আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

নজরুল ইসলাম উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে। ২০১৮ সালে তিনি জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়ায় যান। সেখানে একটি খামার গড়ে তোলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন।

স্বজনরা জানান, সম্প্রতি তিনি দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খামারের সম্পদ বিক্রি করে সবকিছু গুছিয়ে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছিলেন। এর মধ্যেই এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহতের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, নজরুল আগে থেকেই ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে বিরোধের কথা জানিয়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দ্রুত দেশে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

নজরুলের বোন শাপলা খাতুন বলেন, ছোটবেলা থেকেই নজরুল পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে পরিবার ভেঙে পড়েছে।

নিহতের ভাগনি সাদিয়া ইসলাম মীম বলেন, মামা খুব শিগগির দেশে ফেরার কথা বলেছিলেন। এখন পরিবারের একমাত্র দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হোক এবং মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।

নজরুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ। বাবা-মা ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। তারা সরকারের কাছে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানা-এর অফিসার ইনচার্জ জেল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি বিদেশে ঘটায় স্থানীয় থানার কাছে সরাসরি তথ্য নেই। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দূতাবাস ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।