Dhaka ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সৌদিসহ পাঁচ আরব দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ইরানের বিভেদ নয়, সবার অংশগ্রহণে দেশ এগিয়ে যাবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী ট্রাম্পকে হতভাগা জলদস্যু বলে ইরানের বিদ্রুপ আন্দামান সাগরে নৌকাডুবিতে ২৫০ জন নিখোঁজ, রোহিঙ্গা ছাড়াও রয়েছেন বাংলাদেশি মেরিলের সেই বিজ্ঞাপন নামিয়ে দিল পৌর প্রশাসন অতিথিদের ফুলের পরিবর্তে গাছ উপহার দিন: উপদেষ্টা তিতুমীর পাংশায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ তারেক রহমান সবসময় গ্রামীণ জনপদ ও কৃষকের উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন : রিজভী বিতাড়িত স্বৈরাচারের ভূত বিরোধীদলের কাঁধে চেপেছে: প্রধানমন্ত্রী মার্কিন হুঁশিয়ারির মধ্যে হরমুজ পাড়ি দেওয়া চার জাহাজ নিয়ে যা জানা গেল

সৌদিসহ পাঁচ আরব দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ইরানের

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ১০:৪৭:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 15

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সহায়তা করার অভিযোগে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, এই দেশগুলো তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিয়ে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে।

গত সোমবার জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি।

যেসব দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে, সেগুলো হলো- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান। চিঠিতে ইরানি দূত উল্লেখ করেন, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা পরিচালনার সুযোগ করে দিয়ে এই দেশগুলো সরাসরি দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করেছে। ফলে যুদ্ধে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার দায় নিয়ে দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রমাণ রয়েছে যে, উল্লিখিত দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এসব তথ্য আগেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

চিঠিতে আমির সাঈদ ইরাভানি আরও বলেন, ইরান পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, আগ্রাসীরা (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) ওই দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করেছে এবং কিছু বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অবৈধ হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে। এই পাঁচটি দেশ তাদের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করেছে। তাই ইরানের ওপর সংঘটিত সব ধরনের বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতির জন্য তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়, যাতে বহু মানুষ হতাহত হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ ইরাক, জর্ডান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা চালায়। এতে অগ্নিগর্ভে পরিণত হয় গোটা মধ্যপ্রাচ্য। টানা ৩৯ দিন ভয়াবহ এই সংঘাত চললেও গত সপ্তাহে ১৪ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।

এদিকে পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া সংকট নিরসনে গত রবিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনও সমঝোতা ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে যুদ্ধবিরতি চললেও এই ক্ষতিপূরণের দাবি নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

সৌদিসহ পাঁচ আরব দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ইরানের

প্রকাশের সময় : ১০:৪৭:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সহায়তা করার অভিযোগে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, এই দেশগুলো তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিয়ে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন করেছে।

গত সোমবার জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি জানান জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি।

যেসব দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে, সেগুলো হলো- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান। চিঠিতে ইরানি দূত উল্লেখ করেন, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা পরিচালনার সুযোগ করে দিয়ে এই দেশগুলো সরাসরি দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করেছে। ফলে যুদ্ধে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার দায় নিয়ে দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রমাণ রয়েছে যে, উল্লিখিত দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এসব তথ্য আগেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

চিঠিতে আমির সাঈদ ইরাভানি আরও বলেন, ইরান পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, আগ্রাসীরা (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) ওই দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করেছে এবং কিছু বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অবৈধ হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেছে। এই পাঁচটি দেশ তাদের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা লঙ্ঘন করেছে। তাই ইরানের ওপর সংঘটিত সব ধরনের বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতির জন্য তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়, যাতে বহু মানুষ হতাহত হয়। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ ইরাক, জর্ডান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা চালায়। এতে অগ্নিগর্ভে পরিণত হয় গোটা মধ্যপ্রাচ্য। টানা ৩৯ দিন ভয়াবহ এই সংঘাত চললেও গত সপ্তাহে ১৪ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।

এদিকে পাল্টাপাল্টি হামলার প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া সংকট নিরসনে গত রবিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনও সমঝোতা ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে যুদ্ধবিরতি চললেও এই ক্ষতিপূরণের দাবি নতুন করে উত্তাপ ছড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি