Dhaka ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সৌদিসহ পাঁচ আরব দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি ইরানের বিভেদ নয়, সবার অংশগ্রহণে দেশ এগিয়ে যাবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী ট্রাম্পকে হতভাগা জলদস্যু বলে ইরানের বিদ্রুপ আন্দামান সাগরে নৌকাডুবিতে ২৫০ জন নিখোঁজ, রোহিঙ্গা ছাড়াও রয়েছেন বাংলাদেশি মেরিলের সেই বিজ্ঞাপন নামিয়ে দিল পৌর প্রশাসন অতিথিদের ফুলের পরিবর্তে গাছ উপহার দিন: উপদেষ্টা তিতুমীর পাংশায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ তারেক রহমান সবসময় গ্রামীণ জনপদ ও কৃষকের উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন : রিজভী বিতাড়িত স্বৈরাচারের ভূত বিরোধীদলের কাঁধে চেপেছে: প্রধানমন্ত্রী মার্কিন হুঁশিয়ারির মধ্যে হরমুজ পাড়ি দেওয়া চার জাহাজ নিয়ে যা জানা গেল

আন্দামান সাগরে নৌকাডুবিতে ২৫০ জন নিখোঁজ, রোহিঙ্গা ছাড়াও রয়েছেন বাংলাদেশি

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:২২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 11

আন্দামান সাগরে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ২৫০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকরা আছেন।

মঙ্গলবার এই ঘটনায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) গভীরভাবে শোক প্রকাশ করেছে।

সংস্থা দু’টি জানিয়েছে, ট্রলারটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের টেকনাফ থেকে যাত্রা শুরু করে মালয়েশিয়ার পথে যাচ্ছিল এবং প্রচণ্ড বাতাস, উত্তাল সমুদ্র ও অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে এটি ডুবে যায়।

সংস্থা দুটির বিবৃতিতে বলা হয়, এই মর্মান্তিক ঘটনাটি দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি এবং রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই সমাধানের অভাবের এক ভয়াবহ পরিণতি। রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা অদূর ভবিষ্যতে নিরাপদে বাড়ি ফেরার আশা ম্লান করে দিয়েছে।

অন্যদিকে, মানবিক সহায়তা কমে যাচ্ছে। ক্যাম্পের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে; রয়েছে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাব। এসব কারণে মানুষ নিরাপত্তা ও সুযোগের আশায় এমন বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা বেছে নিচ্ছে। বিদেশে ভালো বেতনের আশা এবং পাচারকারীদের ভুল তথ্য মানুষকে বিশাল ঝুঁকি নিতে প্রলুব্ধ করে। এই পরিস্থিতি পাচারকারীদের অসহায় মানুষকে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। আন্দামান সাগর বারবার এমন বিপজ্জনক যাত্রায় বের হওয়া মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়ে সংস্থা দু’টির পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন তাদের সংহতি জোরদার করে এবং অর্থায়ন অব্যাহত রাখে। এতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা নিশ্চিত হবে, পাশাপাশি স্থানীয় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীও উপকৃত হবে।

এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ যখন নতুন বছরকে বরণ করছে, তখন এই মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত হওয়ার মূল কারণগুলো দ্রুত সমাধান করা জরুরি। একই সঙ্গে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এমন ভয়ংকর সমুদ্রযাত্রায় আরও অনেক প্রাণ অকালে হারিয়ে যাবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

আন্দামান সাগরে নৌকাডুবিতে ২৫০ জন নিখোঁজ, রোহিঙ্গা ছাড়াও রয়েছেন বাংলাদেশি

প্রকাশের সময় : ০৯:২২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

আন্দামান সাগরে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ২৫০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকরা আছেন।

মঙ্গলবার এই ঘটনায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) গভীরভাবে শোক প্রকাশ করেছে।

সংস্থা দু’টি জানিয়েছে, ট্রলারটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের টেকনাফ থেকে যাত্রা শুরু করে মালয়েশিয়ার পথে যাচ্ছিল এবং প্রচণ্ড বাতাস, উত্তাল সমুদ্র ও অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে এটি ডুবে যায়।

সংস্থা দুটির বিবৃতিতে বলা হয়, এই মর্মান্তিক ঘটনাটি দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি এবং রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই সমাধানের অভাবের এক ভয়াবহ পরিণতি। রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা অদূর ভবিষ্যতে নিরাপদে বাড়ি ফেরার আশা ম্লান করে দিয়েছে।

অন্যদিকে, মানবিক সহায়তা কমে যাচ্ছে। ক্যাম্পের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে; রয়েছে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাব। এসব কারণে মানুষ নিরাপত্তা ও সুযোগের আশায় এমন বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা বেছে নিচ্ছে। বিদেশে ভালো বেতনের আশা এবং পাচারকারীদের ভুল তথ্য মানুষকে বিশাল ঝুঁকি নিতে প্রলুব্ধ করে। এই পরিস্থিতি পাচারকারীদের অসহায় মানুষকে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। আন্দামান সাগর বারবার এমন বিপজ্জনক যাত্রায় বের হওয়া মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়ে সংস্থা দু’টির পক্ষ থেকে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন তাদের সংহতি জোরদার করে এবং অর্থায়ন অব্যাহত রাখে। এতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনরক্ষাকারী সহায়তা নিশ্চিত হবে, পাশাপাশি স্থানীয় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীও উপকৃত হবে।

এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ যখন নতুন বছরকে বরণ করছে, তখন এই মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত হওয়ার মূল কারণগুলো দ্রুত সমাধান করা জরুরি। একই সঙ্গে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে। সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এমন ভয়ংকর সমুদ্রযাত্রায় আরও অনেক প্রাণ অকালে হারিয়ে যাবে।