Dhaka ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মানিকগঞ্জে দেবরের বিরুদ্ধে ভাবি-ভাতিজাকে হত্যার অভিযোগ তামাকের প্রভাব থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর পাঁচদিনের পূর্বাভাসে যা জানাল আবহাওয়া অফিস মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের বিএনপির বিরুদ্ধে জামায়াত ও এনসিপি অপপ্রচার চালাচ্ছে: রাশেদ খান প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল টিমের সাথে বাগবিতণ্ডা, পদ হারালেন ছাত্রদল নেতা অসহায় মানুষের পাশে থাকতে নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রাত্রিযাপনে এসে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ, হোটেল মালিক গ্রেফতার বরিশালে এইডস রোগী বাড়ছে, বেশির ভাগই সমকামী খুলনায় ভাড়া বাসা থেকে নানী ও দুই নাতির মরদেহ উদ্ধার

দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: নিহতদের স্মরণে রাজবাড়ীতে কান্নাভেজা শোকসভা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 59

গত ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পদ্মা নদীতে মর্মান্তিক বাসডুবির ঘটনায় নিহতদের স্মরণে রাজবাড়ীতে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘রাজবাড়ী জেলার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ’র ব্যানারে রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। শোকসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কান্নাভেজা চোখে বলেন তাদের প্রিয়জনদের কথা। সভায় সভাপতিত্ব করেন মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদের সভাপতি অধ্যাপক কবি সালাম তাসির। সভা থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের দাবি তোলা হয়।
রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দা এলাকার কাজী মুকুল হারিয়েছেন তার ছেলে ও পুত্রবধূকে। তাদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ক্রন্দনরত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেটাকে কোলেপিঠে করে বড় করেছি। ছেলেটাকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন ছিল। কিছুদিন আগে ছেলেকে বিয়ে দিয়ে বৌমাকে ঘরে তুলেছি। আমার বৌমা ছিল মেয়ের মত। আমাকে বাবারও অধিক সম্মান করত। ও রাজশাহীতে পড়াশোনা করত। রাজশাহী থেকে আসার সময় বলত, আমি যেন স্টেশনে থাকি। আমি স্টেশনে বৌমার জন্য অপেক্ষা করতাম। ট্রেন থেকে নেমেই আমাকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরত। আমাকে ঢাকা নিয়ে যেতে চেয়েছিল। আমিই বাড়ি ছেড়ে যেতে চাইনি। ওরা কোথাও গেলে আমাকে এগিয়ে দিতে বলত। সেদিনও ওদের এগিয়ে দিয়ে এলাম। আমি ওদের সাথে ঢাকা না যাওয়ায় মন খারাপ করে।
একই সাথে বোন, আদরের ভাগ্নে ও নাতিতে হারিয়েছেন আওয়াল আনোয়ার। তিনি বলেন, আমাদের ভাই-বোন-ভাগ্নেদের সম্পর্ক ছিল অতুলনীয়। দৃষ্টান্ত বলা যেতে পারে। একই দিনে প্রিয় তিনজন মানুষকে হারিয়েছি। এত বড় কষ্ট আর জীবনে কখনও পাইনি। তিনি দৌলতদিয়া ঘাটের নানা অব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরে তা সমাধানের জোর দাবি জানান।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী কোরবান আলী বলেন, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এতগুলো লাশ আমি জীবনে দেখিনি। সেখানে সাত মাসের এক শিশুর লাশ দেখে আমি যেন বিহ্বল হয়ে পড়েছিলাম। একথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
সভায় অন্যদের মাঝে বক্তৃতা করেন অ্যাডভোকেট দেবাহুতী চক্রবর্তী, রাজবাড়ী একাডেমির সভাপতি সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান, প্রাক্তন অধ্যক্ষ চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু, রাজবাড়ী কিন্ডার গার্টেনের অধ্যক্ষ নুরুল হক আলম, বিশ্ব ভরা প্রাণ এর সভাপতি আতাউর রহমান, রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের সভাপতি আহসান হাবীব, রাজবাড়ী সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি খোকন মাহমুদ, জেলা জাসাসের সদস্য সচিব কাজী মিজানুর রহমান পলাশ, কবি নেহাল আহমেদ, অজয় দাস তালুকদার প্রমুখ।
অন্য বক্তারা বলেন, দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা গোটা জেলাবাসীকে শোকাহত করেছে। এমন দুর্ঘটনা শুধু কয়েকটি প্রাণহানিই নয়, বহু পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ কেড়ে নিয়েছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। বক্তারা আরও বলেন, ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, যানবাহন ওঠানামার ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা। এসময় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের দাবিও জানানো হয়।
সঞ্চালনা করেন সেখ আব্দুর রউফ ও রাজ্জাকুল আলম।
সভার শুরুতে দাঁড়িয়ে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: নিহতদের স্মরণে রাজবাড়ীতে কান্নাভেজা শোকসভা

প্রকাশের সময় : ০৯:১২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

গত ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পদ্মা নদীতে মর্মান্তিক বাসডুবির ঘটনায় নিহতদের স্মরণে রাজবাড়ীতে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘রাজবাড়ী জেলার সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহ’র ব্যানারে রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। শোকসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কান্নাভেজা চোখে বলেন তাদের প্রিয়জনদের কথা। সভায় সভাপতিত্ব করেন মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদের সভাপতি অধ্যাপক কবি সালাম তাসির। সভা থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের দাবি তোলা হয়।
রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দা এলাকার কাজী মুকুল হারিয়েছেন তার ছেলে ও পুত্রবধূকে। তাদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ক্রন্দনরত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেটাকে কোলেপিঠে করে বড় করেছি। ছেলেটাকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন ছিল। কিছুদিন আগে ছেলেকে বিয়ে দিয়ে বৌমাকে ঘরে তুলেছি। আমার বৌমা ছিল মেয়ের মত। আমাকে বাবারও অধিক সম্মান করত। ও রাজশাহীতে পড়াশোনা করত। রাজশাহী থেকে আসার সময় বলত, আমি যেন স্টেশনে থাকি। আমি স্টেশনে বৌমার জন্য অপেক্ষা করতাম। ট্রেন থেকে নেমেই আমাকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরত। আমাকে ঢাকা নিয়ে যেতে চেয়েছিল। আমিই বাড়ি ছেড়ে যেতে চাইনি। ওরা কোথাও গেলে আমাকে এগিয়ে দিতে বলত। সেদিনও ওদের এগিয়ে দিয়ে এলাম। আমি ওদের সাথে ঢাকা না যাওয়ায় মন খারাপ করে।
একই সাথে বোন, আদরের ভাগ্নে ও নাতিতে হারিয়েছেন আওয়াল আনোয়ার। তিনি বলেন, আমাদের ভাই-বোন-ভাগ্নেদের সম্পর্ক ছিল অতুলনীয়। দৃষ্টান্ত বলা যেতে পারে। একই দিনে প্রিয় তিনজন মানুষকে হারিয়েছি। এত বড় কষ্ট আর জীবনে কখনও পাইনি। তিনি দৌলতদিয়া ঘাটের নানা অব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরে তা সমাধানের জোর দাবি জানান।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী কোরবান আলী বলেন, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে এতগুলো লাশ আমি জীবনে দেখিনি। সেখানে সাত মাসের এক শিশুর লাশ দেখে আমি যেন বিহ্বল হয়ে পড়েছিলাম। একথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
সভায় অন্যদের মাঝে বক্তৃতা করেন অ্যাডভোকেট দেবাহুতী চক্রবর্তী, রাজবাড়ী একাডেমির সভাপতি সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান, প্রাক্তন অধ্যক্ষ চৌধুরী আহসানুল করিম হিটু, রাজবাড়ী কিন্ডার গার্টেনের অধ্যক্ষ নুরুল হক আলম, বিশ্ব ভরা প্রাণ এর সভাপতি আতাউর রহমান, রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের সভাপতি আহসান হাবীব, রাজবাড়ী সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি খোকন মাহমুদ, জেলা জাসাসের সদস্য সচিব কাজী মিজানুর রহমান পলাশ, কবি নেহাল আহমেদ, অজয় দাস তালুকদার প্রমুখ।
অন্য বক্তারা বলেন, দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা গোটা জেলাবাসীকে শোকাহত করেছে। এমন দুর্ঘটনা শুধু কয়েকটি প্রাণহানিই নয়, বহু পরিবারের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ কেড়ে নিয়েছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। বক্তারা আরও বলেন, ফেরিঘাটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, যানবাহন ওঠানামার ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা। এসময় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের দাবিও জানানো হয়।
সঞ্চালনা করেন সেখ আব্দুর রউফ ও রাজ্জাকুল আলম।
সভার শুরুতে দাঁড়িয়ে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।