Dhaka ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক, রাষ্ট্রে সবার সমান অধিকার: রিজভী কালীগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত সব ধর্মের মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মাচরণের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য: প্রধানমন্ত্রী যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসে ৫ সরকারি কর্মচারী গ্রেফতার, উদ্ধার ৪৮ পাতার ব্যাংক চেক পদ্মা পাড়ি দিয়ে ঢালারচর রেলস্টেশন পরিদর্শন, ‘ওরা ১১ জন’-এর নৌকা ভ্রমণ নুর হাসিনার পুত্র হলে আসিফ-নাহিদ-আখতাররা হাসিনার নাতি: আবু হানিফ ক্ষমা চেয়েও শাস্তি এড়াতে পারলেন না মার্তিনেজ কালীগঞ্জে ডোপ টেস্টের কিট কিনতে বিএনপির আর্থিক সহায়তা প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে ফল প্রকাশ পর্যন্ত নিয়োগ পরীক্ষা তদারকি করবেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ভয়ভীতিমুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করবো: তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৭:১৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 131

ভয়ভীতিমুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ বাংলাদেশে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হলো সরকারের সকল পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরা। তবে এটি একার পক্ষে সম্ভব নয়; এ কাজে গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন হবে না, যদি গণমাধ্যমকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করতে না দেওয়া হয়। সে কারণেই আমি গণমাধ্যমের দায়িত্ব নিয়েছি। গণমাধ্যমের অভিভাবক হিসেবে কাজ করাই আমার দায়িত্ব।

শনিবার বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, একটি দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম না থাকলে সেখানে গণতন্ত্র টেকসই হতে পারে না। আবার জবাবদিহিতা ছাড়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও পূর্ণতা পায় না। সেই কারণেই আমরা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

সাংবাদিকতা একটি স্বতন্ত্র পেশা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো সমস্যা বা সংকট সাংবাদিকতার নিজস্ব কাঠামো ও নীতিমালার মধ্যেই সমাধান হওয়া উচিত। অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক বা মন্ত্রণালয়ভিত্তিক হস্তক্ষেপ পেশাগত স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।

সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে গণমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওয়েজ বোর্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সময়োপযোগী করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজও বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে সরকারের পরিকল্পনার অগ্রগতি জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।

দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নদীর জোয়ার-ভাটার পানি কৃষকের জমিতে পৌঁছে দিতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। পায়রা বন্দরকে রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত করতে ভাঙ্গা থেকে পায়রা পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

ভোলার গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোলা-বরিশাল সেতু ও গ্যাস সরবরাহ নেটওয়ার্ক একসঙ্গে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কুয়াকাটাকে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে, যা শিগগিরই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নির্ধারণ করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে পরিবার কার্ড কর্মসূচি চালুর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবার রয়েছে। প্রতিটি পরিবারে একজন নারী সদস্য এই কার্ডের মালিক হবেন। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে তা বৃদ্ধি করা হবে।

বেকারত্ব সমস্যা সমাধানকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে কর্মসংস্থানের মানচিত্র তৈরি করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে তরুণদের কর্মমুখী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ভয়ভীতিমুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করবো: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৭:১৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভয়ভীতিমুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ বাংলাদেশে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হলো সরকারের সকল পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরা। তবে এটি একার পক্ষে সম্ভব নয়; এ কাজে গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, কোনো পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন হবে না, যদি গণমাধ্যমকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করতে না দেওয়া হয়। সে কারণেই আমি গণমাধ্যমের দায়িত্ব নিয়েছি। গণমাধ্যমের অভিভাবক হিসেবে কাজ করাই আমার দায়িত্ব।

শনিবার বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, একটি দেশে স্বাধীন গণমাধ্যম না থাকলে সেখানে গণতন্ত্র টেকসই হতে পারে না। আবার জবাবদিহিতা ছাড়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও পূর্ণতা পায় না। সেই কারণেই আমরা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

সাংবাদিকতা একটি স্বতন্ত্র পেশা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো সমস্যা বা সংকট সাংবাদিকতার নিজস্ব কাঠামো ও নীতিমালার মধ্যেই সমাধান হওয়া উচিত। অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক বা মন্ত্রণালয়ভিত্তিক হস্তক্ষেপ পেশাগত স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।

সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে গণমাধ্যমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ওয়েজ বোর্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সময়োপযোগী করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজও বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে সরকারের পরিকল্পনার অগ্রগতি জাতির সামনে তুলে ধরা হবে।

দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নদীর জোয়ার-ভাটার পানি কৃষকের জমিতে পৌঁছে দিতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। পায়রা বন্দরকে রাজধানীর সঙ্গে যুক্ত করতে ভাঙ্গা থেকে পায়রা পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

ভোলার গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোলা-বরিশাল সেতু ও গ্যাস সরবরাহ নেটওয়ার্ক একসঙ্গে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কুয়াকাটাকে আধুনিক পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে, যা শিগগিরই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নির্ধারণ করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে পরিবার কার্ড কর্মসূচি চালুর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবার রয়েছে। প্রতিটি পরিবারে একজন নারী সদস্য এই কার্ডের মালিক হবেন। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং পরবর্তীতে তা বৃদ্ধি করা হবে।

বেকারত্ব সমস্যা সমাধানকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে কর্মসংস্থানের মানচিত্র তৈরি করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে তরুণদের কর্মমুখী করে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।