বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলা নিয়ে দিল্লির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান ঢাকার
- প্রকাশের সময় : ০৯:৫৪:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 164
দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের সামনে হামলা, বিক্ষোভ এবং হাইকমিশনারকে হত্যার হুমকির ঘটনায় ভারতের দেওয়া ব্যাখ্যা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে কূটনৈতিক নিরাপত্তা লঙ্ঘনের গুরুতর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ঢাকা।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ভারতের প্রেস নোটে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বাংলাদেশের হাইকমিশন কূটনৈতিক এলাকার ভেতরে অবস্থিত এবং এটিকে কূটনৈতিক এলাকার বাইরে বলে দেখানোর সুযোগ নেই।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ভারত দাবি করেছে ২০–২৫ জনের একটি দল সেখানে উপস্থিত ছিল, তবে সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। প্রশ্ন হলো, একটি সুরক্ষিত কূটনৈতিক এলাকায় কীভাবে চরমপন্থি সংগঠনের সদস্যরা প্রবেশ করতে পারল। এতে স্পষ্ট হয়, কোনো না কোনোভাবে তাদের সেখানে আসতে দেওয়া হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাকে হত্যার হুমকির বিষয়ে তিনি বলেন, সরাসরি প্রমাণ না থাকলেও এমন হুমকির কথা সরকার জানতে পেরেছে। মূল বিষয় হলো, তারা কীভাবে সেখানে গিয়ে এ ধরনের হুমকি দিতে পারে। এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি শুধু স্লোগান দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। হাইকমিশনের ভেতরে হাইকমিশনার ও তার পরিবার বসবাস করেন এবং তারা সরাসরি আতঙ্কের মধ্যে পড়েছেন। সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না এবং উপস্থিত নিরাপত্তাকর্মীরা কার্যকর ভূমিকা পালন করেননি। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্বাগতিক দেশের দায়িত্ব, যা এ ঘটনায় যথাযথভাবে পালিত হয়নি।
বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ভুল তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ নাকচ করে তৌহিদ হোসেন বলেন, দেশের গণমাধ্যমে মোটামুটি সঠিক তথ্যই প্রকাশিত হয়েছে এবং সেগুলোকে ভুল বলা সঠিক নয়।
এ সময় ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন বাংলাদেশি নাগরিক নৃশংসভাবে নিহত হয়েছেন এবং ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে সংখ্যালঘু নিরাপত্তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই।
দিল্লির ঘটনায় আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো বা ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় দূতকে তলব করার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, প্রতিবাদের ফরম্যাট প্রকাশ্যে আলোচনা করা সমীচীন নয়। বাংলাদেশ ও ভারত পারস্পরিক যোগাযোগ রাখছে এবং বাংলাদেশ তার অবস্থান স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে দিল্লিতে মিশনের কার্যক্রম সীমিত করার সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, পরিস্থিতি তৈরি হলে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে বাংলাদেশ এখনো আশা করছে, ভারত যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।





















