Dhaka ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বাংলাদেশে আল কায়েদার উপস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুমাননির্ভর : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় রাস্তায় ফেলে যান স্ত্রী, সেই প্রবাসীর মৃত্যু বদলে গেল অর্থবছর, ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ নির্ধারণ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কোনো গোষ্ঠীর একক অর্জন নয় : ববি হাজ্জাজ ৩০০ টাকার কাঁচা মরিচ এখন ১০০ টাকা, ১০ দিনে আমদানি ২৩৩ টন ‘স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর দেশে ১৮০ দিন পার করাই সরকারের বড় অর্জন’ উপসচিব হলেন ২৭৭ কর্মকর্তা গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের জামিন নামঞ্জুর ঢাকায় লিথুয়ানিয়ার ভিসা সেন্টার খোলার অনুরোধ পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বাংলাদেশ প্রাক্তন সৈনিক সংস্থার বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত

মৌসুমের প্রথম যাত্রায় কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনে ১২শ পর্যটক

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১২:২৯:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 117

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন সমুদ্ররুটে চলতি মৌসুমের প্রথম যাত্রা শুরু হয়েছে।

সোমবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া ও কেয়ারি সিন্দাবাদ নামের তিনটি জাহাজ ১২শ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেয়। ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা যাত্রীরা ঘাটে জড়ো হতে থাকেন। টিকিট যাচাই শেষে প্রতিটি যাত্রীর হাতে প্রশাসন উপহার হিসেবে পরিবেশবান্ধব পানির বোতল তুলে দেয়।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক অরুপ হোসেন জানান, প্রথমবার সেন্টমার্টিন যাওয়ার আনন্দ তাকে রোমাঞ্চিত করছে। তার মতে, প্রস্তুতির দিক থেকে প্রশাসনের তৎপরতা প্রশংসনীয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক অনুমতিপ্রাপ্ত জাহাজে সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন এবং ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুবিধা থাকছে। যাত্রার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডসহ টিকিট সংগ্রহ বাধ্যতামূলক। কিউআর কোডবিহীন কোনো টিকিটকে নকল হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, ছয়টি জাহাজকে অনুমতি দেওয়া হলেও যাত্রীর চাহিদা অনুযায়ী প্রথম দিন তিনটি জাহাজ চলাচল করছে। জোয়ার-ভাটা ও নাব্যতা বিবেচনায় প্রতিদিনের যাত্রার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সেন্টমার্টিন থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলো বিকেলে আবার কক্সবাজারে ফিরবে।

চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক রোকসানা আলী জানান, টেকনাফ রুট বন্ধ থাকায় কক্সবাজার থেকে দীর্ঘ সমুদ্রপথের যাত্রা কিছুটা কষ্টকর হলেও সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। ঘাট এলাকায় তল্লাশির পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কক্সবাজার রিজিয়নের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সমুদ্রপথে এবং দ্বীপে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার ১২টি নির্দেশনা জারি করেছে। এর মধ্যে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান, বারবিকিউ, কেয়াবনে প্রবেশ, প্রবাল, রাজকাঁকড়া ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী সংগ্রহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ পলিথিন ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক ব্যবহারও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসন বদ্ধপরিকর এবং পর্যটক ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

গত ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও নভেম্বর মাসে রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোনো জাহাজ কক্সবাজার থেকে দ্বীপে যায়নি। রাত্রিযাপন চালু হওয়ায় নতুন মৌসুমের প্রথম দিনেই কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হলো।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মৌসুমের প্রথম যাত্রায় কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনে ১২শ পর্যটক

প্রকাশের সময় : ১২:২৯:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন সমুদ্ররুটে চলতি মৌসুমের প্রথম যাত্রা শুরু হয়েছে।

সোমবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, এমভি বার আউলিয়া ও কেয়ারি সিন্দাবাদ নামের তিনটি জাহাজ ১২শ পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেয়। ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা যাত্রীরা ঘাটে জড়ো হতে থাকেন। টিকিট যাচাই শেষে প্রতিটি যাত্রীর হাতে প্রশাসন উপহার হিসেবে পরিবেশবান্ধব পানির বোতল তুলে দেয়।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক অরুপ হোসেন জানান, প্রথমবার সেন্টমার্টিন যাওয়ার আনন্দ তাকে রোমাঞ্চিত করছে। তার মতে, প্রস্তুতির দিক থেকে প্রশাসনের তৎপরতা প্রশংসনীয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক অনুমতিপ্রাপ্ত জাহাজে সেন্টমার্টিন যেতে পারবেন এবং ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুবিধা থাকছে। যাত্রার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডসহ টিকিট সংগ্রহ বাধ্যতামূলক। কিউআর কোডবিহীন কোনো টিকিটকে নকল হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, ছয়টি জাহাজকে অনুমতি দেওয়া হলেও যাত্রীর চাহিদা অনুযায়ী প্রথম দিন তিনটি জাহাজ চলাচল করছে। জোয়ার-ভাটা ও নাব্যতা বিবেচনায় প্রতিদিনের যাত্রার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সেন্টমার্টিন থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলো বিকেলে আবার কক্সবাজারে ফিরবে।

চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক রোকসানা আলী জানান, টেকনাফ রুট বন্ধ থাকায় কক্সবাজার থেকে দীর্ঘ সমুদ্রপথের যাত্রা কিছুটা কষ্টকর হলেও সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। ঘাট এলাকায় তল্লাশির পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কক্সবাজার রিজিয়নের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সমুদ্রপথে এবং দ্বীপে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার ১২টি নির্দেশনা জারি করেছে। এর মধ্যে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দে অনুষ্ঠান, বারবিকিউ, কেয়াবনে প্রবেশ, প্রবাল, রাজকাঁকড়া ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী সংগ্রহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ পলিথিন ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক ব্যবহারও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন, এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসন বদ্ধপরিকর এবং পর্যটক ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

গত ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও নভেম্বর মাসে রাত্রিযাপনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোনো জাহাজ কক্সবাজার থেকে দ্বীপে যায়নি। রাত্রিযাপন চালু হওয়ায় নতুন মৌসুমের প্রথম দিনেই কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে জাহাজ চলাচল শুরু হলো।