পেঁয়াজের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি: সিন্ডিকেটের দায় কতটুকু?

- প্রকাশের সময় : ০৬:৩৬:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
- / 160
দেশের বাজারে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়ে ৬০–৭০ টাকা থেকে পৌঁছে গেছে ১২০–১৪০ টাকায়। এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ। প্রশ্ন উঠেছে—এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী কে? সরবরাহ ঘাটতি, নাকি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজি?
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ভারত সাময়িকভাবে রপ্তানি বন্ধ রাখলেও স্থানীয় বাজারে সরবরাহ পুরোপুরি ব্যাহত হয়নি। তবুও দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইকারি পর্যায়ে গড়ে ওঠা কিছু সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে মজুদ রেখে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে খুচরা পর্যায়ে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও মূল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা প্রতি বছর একই কৌশলে বাজার অস্থিতিশীল করে তুলছে।
পেঁয়াজ বাংলাদেশের প্রতিটি রান্নাঘরের অপরিহার্য উপাদান। এর দামের ওঠানামা সরাসরি প্রভাব ফেলে সাধারণ মানুষের জীবনে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় বেড়ে যায়, ছোট রেস্তোরাঁ ও হোটেল ব্যবসার খরচও বৃদ্ধি পায়, যার চাপ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাঁধেই এসে পড়ে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সরকারকে এখনই বাজার তদারকি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। মজুদদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি টিসিবির মাধ্যমে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রণোদনা দিলে ভবিষ্যতে পেঁয়াজের ওপর আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।
সুশীল সমাজের অভিমত, সিন্ডিকেটের কারণে বারবার বাজারে কৃত্রিম অস্থিরতা সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে—এটি কেবল অর্থনৈতিক নয়, নৈতিক অপরাধও বটে। এখন সময় এসেছে সরকার, ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার—যাতে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা সহজ ও স্বস্তিদায়ক হয়।





















