পোরশায় হাতুড়ে চিকিৎসক দিয়ে সিজার, নবজাতকের মৃত্যু : ক্লিনিক মালিকসহ গ্রেপ্তার ৪
- প্রকাশের সময় : ০৬:১৬:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 5
নওগাঁর পোরশা উপজেলায় রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরিবর্তে হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করানোর অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ক্লিনিক মালিকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পোরশা থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই ২০২৬ বিকেলে পোরশা উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের মো. আমিন (৩৮) তাঁর প্রসববেদনায় আক্রান্ত স্ত্রী খাদিজা খাতুনকে আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোছা. শারমিন আক্তার রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও আল্ট্রাসনোগ্রামের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। চিকিৎসকের ওপর আস্থা রেখে পরিবারের সদস্যরা অস্ত্রোপচারে সম্মতি দেন এবং হাসপাতালের খরচ পরিশোধ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে নির্ধারিত চিকিৎসকের পরিবর্তে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে দিয়ে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করান। অস্ত্রোপচারের পর মা ও নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নবজাতককে নওগাঁ সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেয়।
নওগাঁ সদর হাসপাতালের চিকিৎসকেরা নবজাতকের অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ জুলাই ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে নবজাতকটির মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা করা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। পরে পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়।
পুলিশ জানায়, অভিযানে মামলার এজাহারনামীয় আসামি আল-মদিনা ল্যাব অ্যান্ড হাসপাতালের মালিক মো. আহসান হাবিবকে পোরশার সরাইগাছী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ক্লিনিক মালিকসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় অস্ত্রোপচারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের চিকিৎসাগত যোগ্যতা এবং চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।




















