সেন্টমার্টিন খুললেও জাহাজ না চালানোর ঘোষণা মালিকদের
- প্রকাশের সময় : ০৪:০০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
- / 104
দীর্ঘ নয় মাস পর আগামীকাল শনিবার (১ নভেম্বর) থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। তবে দ্বীপে পর্যটক পরিবহনকারী জাহাজগুলো একই দিন থেকে না চালানোর ঘোষণা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ। এতে বিপাকে পড়তে পারেন ভ্রমণপ্রেমীরা।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে পর্যটকদের দিনে গিয়ে দিনে ফেরার শর্তে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের অনুমতি থাকবে। প্রাথমিকভাবে কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে ‘কর্ণফুলী এক্সপ্রেস’ ও ‘বার-আউলিয়া’ নামের দুটি জাহাজ চালুর কথা ছিল। কিন্তু জাহাজ মালিকরা শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন।
সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, আগামীকাল থেকে কোনো জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছাড়বে না।
তিনি বলেন, ট্যুরিজম বোর্ডের অনলাইন সফটওয়্যার চালু না হওয়া এবং দিনে গিয়ে দিনে ফেরার শর্তে পর্যাপ্ত পর্যটক না পাওয়ার আশঙ্কায় আমরা আপাতত জাহাজ চালাচ্ছি না।” তবে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে জাহাজ চালুর প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সেন্টমার্টিন ভ্রমণ ও পর্যটকদের উপস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ) অনুমোদন ছাড়া দ্বীপে কোনো নৌযান চলাচলের অনুমতি না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পর্যটকদের জন্য টিকিট কেনা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অনুমোদিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে। প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল বলে গণ্য হবে।
নতুন নিয়মে নভেম্বর মাসে কোনো পর্যটকের রাত্রিযাপন অনুমোদিত নয়। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক রাত কাটাতে পারবেন। ফেব্রুয়ারিতে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
দ্বীপের নাজুক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি, কেয়া বনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা বিক্রয়, সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়া সৈকতে মোটরসাইকেল, সিবাইকসহ যেকোনো মোটরচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করতে একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক সামগ্রী যেমন—চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিক চামচ, স্ট্র, সাবান-শ্যাম্পুর মিনিপ্যাক, ছোট প্লাস্টিক বোতল বহন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছে সরকার।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে ঘাটে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। তারা টিকিটের কিউআর কোড যাচাইসহ সরকারের ১২ দফা নির্দেশনা পর্যটকরা মানছেন কি না, তা কঠোরভাবে তদারকি করবেন।
সরকারের আশা, নতুন নিয়মে সেন্টমার্টিনে দায়িত্বশীল ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে।























