Dhaka ১২:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ীতে সদর হাসপাতালে ৩ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ ইউনিট চালু

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৭:০৭:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১
  • / 546

জনতার আদালত অনলাইন ॥ ॥ করোনা আক্রান্ত রোগী বাড়ার খবরের মধ্যেই রাজবাড়ীবাসীর জন্য সুসংবাদ হলো রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে তিন শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ ইউনিট চালু করা হয়েছে। যা ছিল রাজবাড়ীবাসীর বহুদিনের কাক্সিক্ষত। এতে করে করোনায় আক্রান্ত জটিল রোগী ও তীব্র শ^াসকষ্টে ভোগা রোগীদের ঢাকা অথবা ফরিদপুরে যেতে হবেনা। সোমবার থেকে করোনা রোগীদের জন্য এ ইউনিট পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। এদিকে গতকাল মঙ্গলবারও রাজবাড়ী জেলায় ২৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৯৩১ জন।

রাজবাড়ী জেলা সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, রাজবাড়ী জেলার করোনা রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ কর্ম কমিশন সচিব ও রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় এবং জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে তিনটি আইসিইউ শয্যা স্থাপন সম্ভব হয়েছে। করোনা আক্রান্ত তীব্র শ্বাসকষ্টযুক্ত রোগীদের জন্য প্রত্যেকটি শয্যার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে হাইফ্লো ন্যাসাল ক্যানুলা। যেখানে সাধারণ অক্সিজেন সিলিন্ডারের সাহায্যে প্রতি মিনিটে সর্বোচ্চ ১৫ লিটার করে অক্সিজেন দেওয়া যায়, সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সিদ্ধান্তনুযায়ী রোগীদের প্রয়োজন অনুসারে হাইফ্লো ন্যাসাল ক্যানুলার দ্বারা মিনিটে ৬০ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. ইব্রাহীম হোসেন টিটন বলেন, বর্তমানে করোনার তীব্র সংক্রমণের এ সময়ে মারাত্মক শ্বাসকষ্টযুক্ত রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন নিশ্চিত করার মাধ্যমে হাইফ্লো ন্যাসাল ক্যানুলাসহ এই আইসিইউ বেড কোভিড ১৯ মোকাবেলার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরও বলেন, তিন শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ শয্যা স্থাপনের এ উদ্যোগ পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র। কারণ, পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ ইউনিটের জন্য আইসিইউ শয্যার সাথে আইসিইউ মনিটর, সার্বক্ষণিক ল্যাব সুবিধা, কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস চালু রাখার ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন স্যাচুরেশন মনিটরিং, রক্ত পরিসঞ্চালনের বহুমুখী ব্যবস্থা, ব্লাড গ্যাস অ্যানালাইসিসসহ রোগীর যাবতীয় শারীরিক সংকট মোকাবেলার জন্য নানা জীবনদায়ী ব্যবস্থা এবং সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত জনবল থাকা প্রয়োজন। যা নির্মাণাধীন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শেষ হলে জনবল এবং আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি পাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ ইউনিট চালু করা সম্ভব হবে। তিনি করোনা প্রতিরোধে নির্দেশনা অনুযায়ী মাস্ক পরা ও টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাজবাড়ীতে সদর হাসপাতালে ৩ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ ইউনিট চালু

প্রকাশের সময় : ০৭:০৭:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১

জনতার আদালত অনলাইন ॥ ॥ করোনা আক্রান্ত রোগী বাড়ার খবরের মধ্যেই রাজবাড়ীবাসীর জন্য সুসংবাদ হলো রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে তিন শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ ইউনিট চালু করা হয়েছে। যা ছিল রাজবাড়ীবাসীর বহুদিনের কাক্সিক্ষত। এতে করে করোনায় আক্রান্ত জটিল রোগী ও তীব্র শ^াসকষ্টে ভোগা রোগীদের ঢাকা অথবা ফরিদপুরে যেতে হবেনা। সোমবার থেকে করোনা রোগীদের জন্য এ ইউনিট পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। এদিকে গতকাল মঙ্গলবারও রাজবাড়ী জেলায় ২৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৯৩১ জন।

রাজবাড়ী জেলা সিভিল সার্জন সূত্র জানায়, রাজবাড়ী জেলার করোনা রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ কর্ম কমিশন সচিব ও রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় এবং জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে তিনটি আইসিইউ শয্যা স্থাপন সম্ভব হয়েছে। করোনা আক্রান্ত তীব্র শ্বাসকষ্টযুক্ত রোগীদের জন্য প্রত্যেকটি শয্যার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে হাইফ্লো ন্যাসাল ক্যানুলা। যেখানে সাধারণ অক্সিজেন সিলিন্ডারের সাহায্যে প্রতি মিনিটে সর্বোচ্চ ১৫ লিটার করে অক্সিজেন দেওয়া যায়, সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সিদ্ধান্তনুযায়ী রোগীদের প্রয়োজন অনুসারে হাইফ্লো ন্যাসাল ক্যানুলার দ্বারা মিনিটে ৬০ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. ইব্রাহীম হোসেন টিটন বলেন, বর্তমানে করোনার তীব্র সংক্রমণের এ সময়ে মারাত্মক শ্বাসকষ্টযুক্ত রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন নিশ্চিত করার মাধ্যমে হাইফ্লো ন্যাসাল ক্যানুলাসহ এই আইসিইউ বেড কোভিড ১৯ মোকাবেলার অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরও বলেন, তিন শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ শয্যা স্থাপনের এ উদ্যোগ পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র। কারণ, পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ ইউনিটের জন্য আইসিইউ শয্যার সাথে আইসিইউ মনিটর, সার্বক্ষণিক ল্যাব সুবিধা, কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস চালু রাখার ভেন্টিলেটর, অক্সিজেন স্যাচুরেশন মনিটরিং, রক্ত পরিসঞ্চালনের বহুমুখী ব্যবস্থা, ব্লাড গ্যাস অ্যানালাইসিসসহ রোগীর যাবতীয় শারীরিক সংকট মোকাবেলার জন্য নানা জীবনদায়ী ব্যবস্থা এবং সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত জনবল থাকা প্রয়োজন। যা নির্মাণাধীন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শেষ হলে জনবল এবং আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি পাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ ইউনিট চালু করা সম্ভব হবে। তিনি করোনা প্রতিরোধে নির্দেশনা অনুযায়ী মাস্ক পরা ও টিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।