জাবির কুন্তশালায় প্রথম ‘দার্শনিক বাদ’ অনুষ্ঠিত
- প্রকাশের সময় : ০৬:৪৪:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 6
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কুন্তুশালার আয়োজনে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ধ্রুপদী প্রাচ্য দর্শননির্ভর প্রথাবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ‘দার্শনিক বাদ’।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাতটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কুন্তশালা’ প্রাঙ্গণে কুন্তশালার উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়। দর্শন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ‘ভারতীয় দর্শন’ কোর্সের অংশ হিসেবে কোর্স শিক্ষক ড. সৈয়দ নিজারের নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।
“আত্মার অস্তিত্ব আছে, নাকি নাই?”—প্রাচীন দর্শনের এই চিরন্তন প্রশ্নকে উপজীব্য করে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় প্রাচ্য দর্শনের অন্যান্য ধারাকে পেছনে ফেলে বিচারকদের দৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে বৌদ্ধ দর্শনের প্রতিনিধিত্বকারী দল ‘ত্রিরত্ন’।
প্রতিযোগিতার দীর্ঘ চার রাউন্ডের এই তাত্ত্বিক দ্বৈরথে প্রাচীন ভারতীয় দর্শনের চার প্রধান ধারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দার্শনিক যুক্তি উপস্থাপন করে।
এতে বেদান্ত দর্শনের পক্ষে ‘বোধিচিত্ত’, সাংখ্য দর্শনের পক্ষে ‘প্রাণায়াম’, বৌদ্ধ দর্শনের পক্ষে ‘ত্রিরত্ন’ এবং চার্বাক বা লোকায়ত দর্শনের পক্ষে ‘সংবৃত’ গ্রুপ অংশ নেয়। প্রতিটি দলের তীক্ষ্ণ যুক্তি, খণ্ডন ও প্রতিখণ্ডনের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ দর্শনের ‘অনাত্মবাদ’ ও ‘অনিত্যবাদ’-এর চমৎকার বিশ্লেষণ তুলে ধরে বিচারকমণ্ডলীর সর্বসম্মতিক্রমে সেরা নির্বাচিত হয় ‘ত্রিরত্ন’।
অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এস এম আনওয়ারুল্লাহ ভূঁইয়া, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক খোরশেদ আলম, তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক হামিম কামরুল হক, দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহিদ সুমন, অধ্যাপক মাহমুদা আকন্দ এবং কবি ও গবেষক ওরুপ রাহী।
পুরো অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন অঞ্জন কুমার দাস, জন ববি রোজারিও ও মেহরাব হোসেন ইমন।
অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী দল ‘ত্রিরত্ন’-এর হাতে ট্রফি তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথি ও বিচারকমণ্ডলী।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজান টিটু, শ্যামা ভট্টাচার্য, অমিত হাসান, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক তানভীর রহমান, সাইফ নেহাল, শিক্ষার্থী তানভীর আকন্দ, সোহান শরীফ, আনিসুজ্জামান সানি, ওয়ায়েজ রিজন, জোনায়েদ হোসাইন, সৌমিক প্রমুখ।























