সীমান্তহীন আকাশ ও বন্দি কুয়াশা
- প্রকাশের সময় : ০৮:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 9
যার অন্তর এক ফালি তৃষ্ণার্ত মরুভূমি,
সে কি কখনো মরমী সাগরের বিশালতা ছুঁতে পারে?
সংকীর্ণতার ঘূর্ণাবর্তে যার চেতনা চিরবন্দি,
সে তো কেবল নিজের ক্ষুদ্র ছায়াকেই সমগ্র বিশ্ব ভাবে।
তুমি হয়তো তার দুয়ারে মেলে দিলে অনন্ত দিগন্ত,
আর সে ভয়ে কুঁকড়ে রইল তার নিজের চেনা অন্ধকূপে।
যে চোখে প্রীতির তীব্র আলো সয় না এক পলক,
সে কি কোনো দিন বুঝতে পারবে
অন্ধকারের বুক চিরে জ্বলে ওঠা বিশ্বাসের সেই চিরন্তন দীপশিখা?
ভালোবাসার অতল সমুদ্র তাকে যতই ডাকুক মুক্ত আহ্বানে,
সে তীরের নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে কেবল গুনে যায় নিজের স্বার্থের কড়ি।
যে হৃদয়ে ত্যাগের কোনো সুবিশাল আকাশ নেই,
সে ঝড়ের রাতে কারও বিপদে বাড়িয়ে দিতে জানে না হাত—
সে কেবল নিজের ক্ষুদ্র অস্তিত্ব বাঁচানোর অন্তহীন ব্যস্ততায়
খুলে নেয় বিশ্বাসের সবশেষ পবিত্র বাঁধনটুকুও।
সংকীর্ণ মনের এই অবরুদ্ধ ও ভারী দরজায়
কোনো দিনই মহত্ত্বের এক ফালি মুক্ত হাওয়া এসে লাগে না;
সেখানে সূর্যের সোনাঝরা আলো প্রবেশ করে না কোনো কালেও,
সেখানে কেবল জমে থাকে দীর্ঘশ্বাসের গুমোট আর অন্তহীন কুয়াশা।
তবুও… তোমার উদার হৃদয়ের প্লাবন জোয়ারে
ধুয়েমুছে যাক তার অবিশ্বাসের সব জীর্ণ আবরণ।
কারণ, মহত্ত্ব তো কেবল নিজের প্রাপ্তিতে নয়—
নিঃস্বার্থভাবে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার মাঝেই
সে খুঁজে পায় তার পরম পূর্ণতা।

























