সাউথ পয়েন্ট কলেজের ১১তলা থেকে পড়ে আহত অমিত আর নেই
- প্রকাশের সময় : ০১:১৩:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 5
সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ ক্যাম্পাসের বহুতল ভবন থেকে পড়ে গুরুতর আহত অমিত ঘোষ আর নেই। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা গেছে। তার অকাল প্রয়াণে কলেজজুড়ে শোকের ছায়া নেমেছে।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কলেজের দুজন শিক্ষক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে অমিত কলেজের ৬ নম্বর ভবনের ১১ তলা থেকে পড়ে যায়। এতে গুরুতর জখম হয় সে। দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরে পরিবার তাকে শ্যামলীর একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিল সে। সোমবার সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে অমিত ঘোষকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন বলেও জানান শিক্ষকরা।
এদিকে, সোমবার সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ শাখার বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের গ্রুপে শিক্ষকরা একটি বার্তা দিয়েছেন। তাতে লেখা হয়েছে, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমাদের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী অমিত ঘোষ আর আমাদের মাঝে নেই। আজ সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে অমিত ঘোষ ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে পরলোকে পাড়ি জমিয়েছে। অমিতের অকাল প্রয়াণে সাউথ পয়েন্ট পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।’
অমিত ঘোষ সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ইংরেজি ভার্সনের ‘আইসোটোপ’ সেকশনের ছাত্র।
এদিকে, অমিত ঘোষের ভবন থেকে পড়ে যাওয়া নিছক দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত, তা নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। শিক্ষকরা বলছেন, সে আত্মহত্যার উদ্দেশে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েছে। তবে অভিভাবকরা তা মানতে নারাজ। তারা বলছেন, ভবনটি নির্মাণাধীন। কোনো দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।
অমিত ঘোষের ব্যবহৃত ফেসবুক আইডির তথ্য অবশ্য ভিন্ন কথা বলছে। তার প্রোফাইলের বায়োতে অমিত ঘোষ নিজের জন্মতারিখ এবং মৃত্যুর তারিখ লিখে রেখেছেন। সেখানে লেখা রয়েছে, ‘01/11/2007-13/09/2026’। ‘Stand proud. You’re limited edition. Only one ever created.’
ভবন থেকে পড়ার পর তার প্রোফাইলে আগে থেকেই মৃত্যুর তারিখ লেখা দেখে চমকে উঠেছেন শিক্ষক-অভিভাবকরা। তারা এটি দেখে ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছেন।
তবে অভিভাবকদের আরেকটি পক্ষ বলছে, যে ভবন থেকে অমিত পড়েছে, সেই ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। ১১ তলার পুরো খোলা। সেখানে এখনো কাজ চলমান। শিক্ষার্থীদের সেখানে যাওয়া নিষেধ। তারপরও কেন এবং কীভাবে অমিত ঘোষ সেখানে গিয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা উচিত।
প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখে ঘটনার বর্ণনা
সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অন্তত তিনজন শিক্ষক ও দুজন প্রত্যক্ষদর্শী অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলেছে জাগো নিউজ। তারা জানান, রোববার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের মালিবাগ ক্যাম্পাসের ৬ নম্বর ভবনের (১১তলা) ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায় সে। উপুড় হয়ে পড়ায় তার নাক-মুখ ও মাথায় গুরুতর জখম হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অভিভাবক শাকিলা আক্তার দীপা সাউথ পয়েন্ট স্কুলের একটি ফেসবুক গ্রুপে লিখেছেন, ‘সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের একটা ছেলে নিজে নিজেই লাফ দিয়েছে। সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে ওর ব্যাগে। সঙ্গে সঙ্গে ওকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখন ওর কী অবস্থা তা বলতে পারছি না।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের সামনেই ঘটনাটা ঘটেছে। এখনো আমার হাত-পা কাঁপছে। স্থির হতে পারছি না। একদম মুখ-চোখ থেঁতলে গেছে। ছেলেটা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুক সেই দোয়া করি।’
বিষয়টি নিয়ে জানতে অধ্যক্ষ মো. শামসুল আলম এবং উপাধ্যক্ষ জেরিনা ফেরদৌসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি।
এদিকে, রামপুরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানিয়েছেন রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




















