এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল রেসে তরুণের মৃত্যু, লাশ ফেলে পালাল বন্ধুরা
- প্রকাশের সময় : ০৪:০৫:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 19
মাদারীপুরের শিবচরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে মোটরসাইকেল রেস করতে গিয়ে সাকিবুল হাসান (১৯) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর সাকিবুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় রেখেই তার সঙ্গে থাকা বন্ধুরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের শিবচর হাইওয়ে থানা-সংলগ্ন বাচামারা এলাকায় ঢাকাগামী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সাকিবুল হাসান মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া মৌহালী এলাকার তরিকুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মানিকগঞ্জ থেকে ১১টি মোটরসাইকেলে করে একদল তরুণ ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা হন। পরে ফরিদপুর থেকে আরও ৯ বাইকার তাদের সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর তারা ভাঙ্গা থেকে পদ্মা সেতু পর্যন্ত মোটরসাইকেল রেস করার পরিকল্পনা করেন।
ভাঙ্গা থেকে পদ্মা সেতুর দিকে যাওয়ার পথে শিবচরের আড়িয়াল খাঁ সেতু পার হওয়ার পর দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন সাকিবুল। একপর্যায়ে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ে ধাক্কা খান। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সাকিবুলের মৃত্যু হয়।
সাকিবুলের বান্ধবী আরোহী আক্তার বলেন, ‘আমরা মানিকগঞ্জ থেকে দৌলতদিয়া ফেরি হয়ে ফরিদপুরে আসি। সেখান থেকে আরও নয়জন আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়। ভাঙ্গায় আসার পর আমাকে ও আরেক বান্ধবীকে রেখে তারা বাইক রেসিংয়ে চলে যায়। পরে খবর পাই, সাকিব দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। ঘটনাস্থলে এসে দেখি সাকিব মারা গেছে। রেসিংয়ে থাকা অন্যরা কেউ এগিয়ে আসেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওরা প্রায়ই বাইক রেস করত। এভাবেই ফেসবুকের মাধ্যমে অন্য বাইকারদের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। একসঙ্গে রেসিং করতে গিয়ে সাকিব পড়ে গিয়ে মারা গেছে। তার বাইকার বন্ধুরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে।’
শিবচর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন বলেন, ‘দুপুরের পর দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে ওই তরুণকে মৃত অবস্থায় পাই। নিহতের পরিচিত কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। শুনেছি, তিনি কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার পর তার বন্ধুরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিহতের মরদেহ হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



















