Dhaka ১২:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

ভারত-বাংলাদেশের ট্রেন পরিষেবা আবারও চালুর উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 5

নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০২৪ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারত-বাংলাদেশের আন্তঃদেশীয় ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা হবে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় শুরু হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের রেল কর্তৃপক্ষের দুই দিনের আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক (আইজিআরএম)। বৈঠকে আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল, রেল অবকাঠামো, মালবাহী পরিবহন এবং যৌথ বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এবারের বৈঠকে ২০২৪ সালের পর প্রথমবারের মতো কলকাতা-ঢাকা, কলকাতা-খুলনা ও নিউ জলপাইগুড়ি-ঢাকা রুটের মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় উঠছে। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে আগামী মাস থেকেই তিনটি ট্রেন ফের চালু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মৈত্রী এক্সপ্রেস কলকাতা ও ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী প্রথম আন্তঃদেশীয় ট্রেন। গেদে-দর্শনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা ট্রেনটি প্রায় ৩৭৫ থেকে ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে প্রায় ৯ ঘণ্টা সময় নেয়।

কলকাতা-খুলনা রুটে চলাচল করে বন্ধন এক্সপ্রেস। প্রায় ১৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ট্রেনটির সময় লাগে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা। পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

অন্যদিকে নিউ জলপাইগুড়ি ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে সপ্তাহে দুই দিন চলাচল করে মিতালী এক্সপ্রেস। ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌথভাবে ট্রেনটির যাত্রা উদ্বোধন করেন। প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে মিতালীর সময় লাগে প্রায় ১১ ঘণ্টা। হালদিবাড়ী-চিলাহাটি সীমান্ত দিয়ে এটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় মিতালী এক্সপ্রেসের একটি রেক পাঁচ মাসের বেশি সময় বাংলাদেশে আটকে ছিল। পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ভারতীয় রেলওয়ে তিনটি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেনের চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে। ডিসেম্বরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মিতালীর রেকটি চিলাহাটি-হালদিবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

বৈঠকে রাজশাহী থেকে কলকাতা পর্যন্ত নতুন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাব দিতে পারে বাংলাদেশ। পাশাপাশি পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তনের প্রস্তাবও আসতে পারে।

দুই দেশের মধ্যে রেলপথে পণ্য পরিবহন এবং ভারতের ঋণে বাংলাদেশে বাস্তবায়নাধীন কয়েকটি স্থবির রেল প্রকল্প নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হবে। এর মধ্যে কমলাপুর থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত নতুন দুটি রেললাইন নির্মাণের প্রকল্প রয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের পুরোনো কোচ আধুনিকায়নেও ভারত সহযোগিতা করছে। ভারতের কাপুরথালা রেল কোচ ফ্যাক্টরি থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ১৯টি এলএইচবি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের প্রথম রেক ইতোমধ্যে উৎপাদন করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, ভারত থেকে মোট ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ আমদানি করবে বাংলাদেশ। প্রায় ৯১৫ কোটি রুপির এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক। চলতি বছরের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব কোচ বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ভারত-বাংলাদেশের ট্রেন পরিষেবা আবারও চালুর উদ্যোগ

প্রকাশের সময় : ১১:১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০২৪ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারত-বাংলাদেশের আন্তঃদেশীয় ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের রেল কর্তৃপক্ষের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা হবে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় শুরু হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের রেল কর্তৃপক্ষের দুই দিনের আন্তঃসরকার রেলওয়ে বৈঠক (আইজিআরএম)। বৈঠকে আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল, রেল অবকাঠামো, মালবাহী পরিবহন এবং যৌথ বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এবারের বৈঠকে ২০২৪ সালের পর প্রথমবারের মতো কলকাতা-ঢাকা, কলকাতা-খুলনা ও নিউ জলপাইগুড়ি-ঢাকা রুটের মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় উঠছে। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে আগামী মাস থেকেই তিনটি ট্রেন ফের চালু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মৈত্রী এক্সপ্রেস কলকাতা ও ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী প্রথম আন্তঃদেশীয় ট্রেন। গেদে-দর্শনা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা ট্রেনটি প্রায় ৩৭৫ থেকে ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে প্রায় ৯ ঘণ্টা সময় নেয়।

কলকাতা-খুলনা রুটে চলাচল করে বন্ধন এক্সপ্রেস। প্রায় ১৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ট্রেনটির সময় লাগে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা। পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

অন্যদিকে নিউ জলপাইগুড়ি ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে সপ্তাহে দুই দিন চলাচল করে মিতালী এক্সপ্রেস। ২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যৌথভাবে ট্রেনটির যাত্রা উদ্বোধন করেন। প্রায় ৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে মিতালীর সময় লাগে প্রায় ১১ ঘণ্টা। হালদিবাড়ী-চিলাহাটি সীমান্ত দিয়ে এটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় মিতালী এক্সপ্রেসের একটি রেক পাঁচ মাসের বেশি সময় বাংলাদেশে আটকে ছিল। পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ভারতীয় রেলওয়ে তিনটি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেনের চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে। ডিসেম্বরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে মিতালীর রেকটি চিলাহাটি-হালদিবাড়ী সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

বৈঠকে রাজশাহী থেকে কলকাতা পর্যন্ত নতুন একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাব দিতে পারে বাংলাদেশ। পাশাপাশি পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তনের প্রস্তাবও আসতে পারে।

দুই দেশের মধ্যে রেলপথে পণ্য পরিবহন এবং ভারতের ঋণে বাংলাদেশে বাস্তবায়নাধীন কয়েকটি স্থবির রেল প্রকল্প নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হবে। এর মধ্যে কমলাপুর থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত নতুন দুটি রেললাইন নির্মাণের প্রকল্প রয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের পুরোনো কোচ আধুনিকায়নেও ভারত সহযোগিতা করছে। ভারতের কাপুরথালা রেল কোচ ফ্যাক্টরি থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ১৯টি এলএইচবি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের প্রথম রেক ইতোমধ্যে উৎপাদন করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, ভারত থেকে মোট ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ আমদানি করবে বাংলাদেশ। প্রায় ৯১৫ কোটি রুপির এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক। চলতি বছরের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে এসব কোচ বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।