পাঁচ বছরে ১২৩৬ লাখ টাকা লোপাটের অডিট আপত্তি
ইসলামিক ফাউন্ডেশনে কোরআন কেনাকাটায়ও অনিয়মের অভিযোগ
- প্রকাশের সময় : ০৪:৩০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 8
ইসলামিক ফাউন্ডেশনে পবিত্র কোরআনুল কারিম মুদ্রণ ও কেনাকাটায় অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অডিট প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত বাইরে থেকে কোরআনের কপি কিনে এবং নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে কম সরবরাহের ঘটনায় বিপুল অর্থের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে সহজ কোরআন শিক্ষাসহ কয়েকটি বই মুদ্রণ ও কেনাকাটাতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অডিট প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ওই পাঁচ অর্থবছরে মসজিদভিত্তিক প্রকল্পের জন্য মোট ২৩ লাখ ৩১ হাজার কপি কোরআন কেনা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নিজস্ব প্রেসে মুদ্রণের জন্য প্রতি কপির মূল্য ১৯৫ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বাইরে থেকে কম দামে কোরআন কিনে হিসাবের খাতায় বেশি দাম দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। এতে পাঁচ বছরে প্রায় ১২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এছাড়া প্রায় এক লাখ কপি কোরআন সরবরাহ না করেই প্রায় দুই কোটি টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাউন্ডেশনের নিজস্ব প্রেসে কোরআন মুদ্রণ ও বাঁধাইয়ের বিধান থাকলেও ধলেশ্বরী, দশদিশা প্রিন্টার্সসহ কয়েকটি বেসরকারি ছাপাখানা থেকে কোরআনের কপি সরবরাহ করা হয়। নিম্নমানের কাগজে কোরআন সরবরাহের অভিযোগও ওঠে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তৎকালীন মান যাচাইকারী কর্মকর্তা আব্দুর রশীদ আল মামুন বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, আল্লাহর দোহাই, নিম্নমানের দিয়েন না। যখনই মান খারাপ পেয়েছি, তখনই রিপোর্ট দিয়েছি।’
অডিট প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৫ থেকে ২০১৯ শিক্ষাবর্ষের জন্য সহজ কোরআন শিক্ষাসহ তিনটি বইয়ের প্রায় দেড় কোটি কপি বাইরের প্রেস থেকে ছাপানো হয়। এসব বই কম দামে কিনে হিসাবের খাতায় বেশি দাম দেখানোর মাধ্যমে প্রায় ২১ কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
প্রিয়াঙ্কা প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশনের স্বত্বাধিকারী সামছুল হক বলেন, ‘২০১০ থেকে ২০১১ সাল থেকেই বাইরের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করানো হচ্ছে। তাদের কী নীতিমালা, সেটা তো আমরা জানি না। আমাদের কাছে প্রিন্ট করতে দেওয়া হয়েছে, আমরা সেটাই করেছি।’
এদিকে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষেও সহজ কোরআন শিক্ষাসহ নিম্নমানের পাঠ্যপুস্তক বিতরণ ও অনিয়মের অভিযোগে ধর্ম মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে সেই তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনিয়মের বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রেস শাখার ব্যবস্থাপক মো. মহিউদ্দীন মাহিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অডিট বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মুদ্রণ-বাঁধাই, কেনাকাটা ও নিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৫৩১ কোটি টাকার অডিট আপত্তি রয়েছে, যার বড় অংশ এখনো অনিষ্পন্ন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব শেখ মুর্শিদুল ইসলাম বলেন, ‘এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যে-ই জড়িত থাকুক, তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদও ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘ধর্মীয় কাজে কোনো অর্থের ঘাটতি থাকলে অনেক সময় মানুষ নিজের পকেটের টাকা খরচ করে তা পূরণ করে দেন। অথচ সেখান থেকেই যদি ঘুষ ও দুর্নীতির মতো জালিয়াতির ঘটনা ঘটে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
গেল বছর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্ত প্রতিবেদনেও ইসলামিক ফাউন্ডেশনে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে আসে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এসব অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বছরের পর বছর একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসছে।
সূত্র: স্টার নিউজ
























