ইরান-সৌদি যৌথ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব ইরাকের
- প্রকাশের সময় : ০৮:৫০:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / 16
ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে আস্থার সংকট কাটিয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে দুই দেশের জন্য একটি যৌথ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ইরাক।
দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রবিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি বলেন, বাগদাদ ইতোমধ্যে তেহরান ও রিয়াদের কাছে এ প্রস্তাব তুলে ধরেছে। তবে প্রস্তাবিত পরিষদের কাঠামো, দায়িত্ব ও কার্যপ্রণালি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। ইরান বা সৌদি আরবের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইরাকিয়া টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আল-আরাজি বলেন, “দুই দেশের মধ্যকার সমস্যা মূলত আস্থার সংকট।”
তার মতে, এই আস্থার ঘাটতি দূর করতে সরাসরি নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই প্রস্তাব
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইরাকের এই উদ্যোগ সামনে এলো। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, সৌদি আরব ও তাদের মিত্রদের ঘিরে বিভিন্ন নিরাপত্তা ও সামরিক ইস্যুতে উদ্বেগ বেড়েছে।
এরই মধ্যে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং বিরোধগুলো শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতির বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিরাপত্তা, আঞ্চলিক প্রভাব এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঘিরে পারস্পরিক অবিশ্বাস এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
ইরাকের ভূখণ্ড থেকে ড্রোন হামলার অভিযোগ
বাগদাদের নতুন প্রস্তাবের পেছনে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গত ২৭ জুলাই সৌদি আরব জানিয়েছিল, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপিত বেশ কয়েকটি ড্রোন তারা শনাক্ত ও ধ্বংস করেছে। এসব ড্রোন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং রাজধানী রিয়াদে তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল বলে রিয়াদ দাবি করে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ এসব হামলার জন্য ‘ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া’ গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে এবং প্রয়োজন হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণের কথা জানায়।
অন্যদিকে, ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি একই দিন দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে তদন্তের নির্দেশ দেন। সৌদি আরবের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ড্রোনগুলো ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়।
ইরাকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণেও জোর
ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা কাসিম আল-আরাজি একই সঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন। তিনি বলেন, দেশের সব অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা ‘সম্পূর্ণভাবে ইরাকের নিজস্ব কৌশলগত সিদ্ধান্ত’।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুদ্ধ ও শান্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র অধিকার ইরাকি রাষ্ট্রের।
ইরাকে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির নিরাপত্তা ও রাজনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এসব গোষ্ঠীর কিছু অংশ পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) কাঠামোর ভেতরে থাকলেও অন্য কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী এর বাইরে সক্রিয় রয়েছে।
গত ৩ জুন ইরাকি সেনাবাহিনী অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কমিটিটিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইরাকের মধ্যস্থতার নতুন উদ্যোগ
ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে এর আগেও ইরাক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। এবার দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব সেই মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাগদাদের প্রস্তাব বাস্তবে রূপ নিলে তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সরাসরি যোগাযোগের একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়েও আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে ইরান ও সৌদি আরব এখনও প্রস্তাবটি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া না জানানোয় উদ্যোগটি কতটা এগোবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

























