Dhaka ১২:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাত্র ৩ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ডুবল খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 7

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় মাত্র তিন ঘণ্টার অতিপ্রবল বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ সময়ে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে মাইনী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি পাহাড় ধসে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত থেকে দীঘিনালায় টানা ভারি বৃষ্টি শুরু হয়। এতে মেরুং, কবাখালী ও বোয়ালখালী এলাকার নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দীঘিনালা-মেরুং সড়কের ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানিতে আমনের খেত ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে। আকস্মিক এ বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। ভোর পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টিপাতের পর ভোর ৪টার দিকে বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করে।

দীঘিনালার চৌমুহনী এলাকার জগন্নাথপাড়ার এক বাসিন্দা বলেন, রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন। সকালে উঠে দেখেন ঘরে পানি ঢুকে গেছে। গত মাসের বন্যায় বাড়িতে পানি না উঠলেও এবার মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টার বৃষ্টিতেই পানি উঠে গেছে। আশপাশের পাহাড়ি ছড়াগুলোতেও পানি বেড়ে গেছে।

মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি পাহাড়ি ছড়াগুলোতে হঠাৎ পানি বেড়ে ফ্ল্যাশ ফ্লাডের সৃষ্টি হয়েছে। বোয়ালখালী ছড়ার পানি বেড়ে জামতলীর নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, আগের রাতে ছড়ায় তেমন পানি ছিল না। কিন্তু তিন থেকে চার ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে ছড়ার পানি দ্রুত বেড়ে যায়। ছড়ার উজানে তৈদুছড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়ায় নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূধি চাকমা জানান, রাতে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এত অল্প সময়ে এত বেশি বৃষ্টিপাত এর আগে রেকর্ড হয়নি।

এদিকে, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে পাহাড় ধসে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের ৫ মাইল ও ৯ মাইল এলাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ মাটি সরানোর কাজ শুরু করেছে।

খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার বলেন, সড়কের ধসে পড়া অংশটি বেশ বড়। ইতোমধ্যে মাটি সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। মাটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

 

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মাত্র ৩ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ডুবল খাগড়াছড়ির নিম্নাঞ্চল

প্রকাশের সময় : ১১:০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় মাত্র তিন ঘণ্টার অতিপ্রবল বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ সময়ে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে মাইনী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি পাহাড় ধসে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাত থেকে দীঘিনালায় টানা ভারি বৃষ্টি শুরু হয়। এতে মেরুং, কবাখালী ও বোয়ালখালী এলাকার নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দীঘিনালা-মেরুং সড়কের ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানিতে আমনের খেত ডুবে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে। আকস্মিক এ বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত ১২টার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। ভোর পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টিপাতের পর ভোর ৪টার দিকে বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করে।

দীঘিনালার চৌমুহনী এলাকার জগন্নাথপাড়ার এক বাসিন্দা বলেন, রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন। সকালে উঠে দেখেন ঘরে পানি ঢুকে গেছে। গত মাসের বন্যায় বাড়িতে পানি না উঠলেও এবার মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টার বৃষ্টিতেই পানি উঠে গেছে। আশপাশের পাহাড়ি ছড়াগুলোতেও পানি বেড়ে গেছে।

মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি পাহাড়ি ছড়াগুলোতে হঠাৎ পানি বেড়ে ফ্ল্যাশ ফ্লাডের সৃষ্টি হয়েছে। বোয়ালখালী ছড়ার পানি বেড়ে জামতলীর নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, আগের রাতে ছড়ায় তেমন পানি ছিল না। কিন্তু তিন থেকে চার ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে ছড়ার পানি দ্রুত বেড়ে যায়। ছড়ার উজানে তৈদুছড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত হওয়ায় নিচু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের বেলুন মেকার সুভূধি চাকমা জানান, রাতে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে এত অল্প সময়ে এত বেশি বৃষ্টিপাত এর আগে রেকর্ড হয়নি।

এদিকে, প্রবল বৃষ্টির মধ্যে পাহাড় ধসে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের ৫ মাইল ও ৯ মাইল এলাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ মাটি সরানোর কাজ শুরু করেছে।

খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার বলেন, সড়কের ধসে পড়া অংশটি বেশ বড়। ইতোমধ্যে মাটি সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। মাটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।