Dhaka ০২:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বাংলাদেশে আল কায়েদার উপস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুমাননির্ভর : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অসুস্থ হওয়ায় রাস্তায় ফেলে যান স্ত্রী, সেই প্রবাসীর মৃত্যু বদলে গেল অর্থবছর, ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ নির্ধারণ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান কোনো গোষ্ঠীর একক অর্জন নয় : ববি হাজ্জাজ ৩০০ টাকার কাঁচা মরিচ এখন ১০০ টাকা, ১০ দিনে আমদানি ২৩৩ টন ‘স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর দেশে ১৮০ দিন পার করাই সরকারের বড় অর্জন’ উপসচিব হলেন ২৭৭ কর্মকর্তা গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের জামিন নামঞ্জুর ঢাকায় লিথুয়ানিয়ার ভিসা সেন্টার খোলার অনুরোধ পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বাংলাদেশ প্রাক্তন সৈনিক সংস্থার বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত

আবদ্ধ পানিতে ইলিশ চাষ, আশার কথা শোনালেন পশ্চিমবঙ্গের বিজ্ঞানীরা

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৯:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • / 24

বাঙালির প্রিয় মাছ ইলিশ। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় প্রতিবছরই বাজারে ইলিশের দাম থাকে চড়া। এবার সেই সংকট কাটানোর আশার কথা শোনালেন পশ্চিমবঙ্গের বিজ্ঞানীরা। নদী বা সাগরের পরিবর্তে পুকুরসহ আবদ্ধ জলাশয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ইলিশের চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় অন্তঃস্থলীয় মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের (সিফ্রি) বিজ্ঞানীরা।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুরে অবস্থিত সিফ্রির রহড়া কেন্দ্রে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এ গবেষণা চলছে। পাশাপাশি কোলাঘাট ও কাকদ্বীপেও গবেষণার কাজ চলছে। গবেষকদের দাবি, নির্দিষ্ট পরিবেশ ও পানির গুণগত মান বজায় রেখে আবদ্ধ জলাশয়েও ইলিশের স্বাভাবিক বৃদ্ধি সম্ভব।

গবেষণায় ইলিশের স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি বিশেষভাবে তৈরি ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন, জুপ্ল্যাঙ্কটন ও পুষ্টিকর ফিড ব্যবহার করা হয়েছে। এতে মাছের দ্রুত বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়। গবেষণায় আবদ্ধ জলাশয়ে সর্বোচ্চ ৯৯২ গ্রাম ওজনের ইলিশ উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

সিফ্রির প্রধান বৈজ্ঞানিক শ্রীকান্ত সামন্ত বলেন, ‘ইলিশের বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবেই ধীরগতির। প্রথম বছরে মাছের ওজন প্রায় ১৫০ গ্রাম এবং দ্বিতীয় বছরে ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামে পৌঁছায়। সাধারণত বাজারে যে ইলিশ পাওয়া যায়, তার বয়স তিন থেকে সাড়ে তিন বছর। এবারের গবেষণায় আবদ্ধ জলাশয়ে সর্বোচ্চ ৯৯২ গ্রাম ওজনের ইলিশ উৎপাদন হয়েছে, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’

গবেষকদের মতে, ইলিশের শরীরে পটকা না থাকায় মাছটির অক্সিজেনের চাহিদা বেশি। তাই এক জলাশয় থেকে অন্য জলাশয়ে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ঝুঁকি রয়েছে। তবে পানির গুণগত মান ঠিক রাখা এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা গেলে আবদ্ধ জলাশয়েও ইলিশের বৃদ্ধি সম্ভব।

ব্যারাকপুর কেন্দ্রের কর্মকর্তা ড. প্রদীপ দে বলেন, ‘গবেষণার ফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আগামী দিনে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে পুকুরেও ব্যাপক হারে ইলিশ চাষ সম্ভব হবে। এতে মৎস্যচাষীরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি বাজারে ইলিশের জোগান বাড়বে। ফলে সাধারণ মানুষের কাছেও প্রিয় এই মাছ আরও সহজলভ্য হয়ে উঠবে।’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

আবদ্ধ পানিতে ইলিশ চাষ, আশার কথা শোনালেন পশ্চিমবঙ্গের বিজ্ঞানীরা

প্রকাশের সময় : ০৯:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

বাঙালির প্রিয় মাছ ইলিশ। চাহিদার তুলনায় জোগান কম থাকায় প্রতিবছরই বাজারে ইলিশের দাম থাকে চড়া। এবার সেই সংকট কাটানোর আশার কথা শোনালেন পশ্চিমবঙ্গের বিজ্ঞানীরা। নদী বা সাগরের পরিবর্তে পুকুরসহ আবদ্ধ জলাশয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ইলিশের চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় অন্তঃস্থলীয় মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের (সিফ্রি) বিজ্ঞানীরা।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ব্যারাকপুরে অবস্থিত সিফ্রির রহড়া কেন্দ্রে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এ গবেষণা চলছে। পাশাপাশি কোলাঘাট ও কাকদ্বীপেও গবেষণার কাজ চলছে। গবেষকদের দাবি, নির্দিষ্ট পরিবেশ ও পানির গুণগত মান বজায় রেখে আবদ্ধ জলাশয়েও ইলিশের স্বাভাবিক বৃদ্ধি সম্ভব।

গবেষণায় ইলিশের স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি বিশেষভাবে তৈরি ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন, জুপ্ল্যাঙ্কটন ও পুষ্টিকর ফিড ব্যবহার করা হয়েছে। এতে মাছের দ্রুত বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়। গবেষণায় আবদ্ধ জলাশয়ে সর্বোচ্চ ৯৯২ গ্রাম ওজনের ইলিশ উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

সিফ্রির প্রধান বৈজ্ঞানিক শ্রীকান্ত সামন্ত বলেন, ‘ইলিশের বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবেই ধীরগতির। প্রথম বছরে মাছের ওজন প্রায় ১৫০ গ্রাম এবং দ্বিতীয় বছরে ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামে পৌঁছায়। সাধারণত বাজারে যে ইলিশ পাওয়া যায়, তার বয়স তিন থেকে সাড়ে তিন বছর। এবারের গবেষণায় আবদ্ধ জলাশয়ে সর্বোচ্চ ৯৯২ গ্রাম ওজনের ইলিশ উৎপাদন হয়েছে, যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’

গবেষকদের মতে, ইলিশের শরীরে পটকা না থাকায় মাছটির অক্সিজেনের চাহিদা বেশি। তাই এক জলাশয় থেকে অন্য জলাশয়ে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ঝুঁকি রয়েছে। তবে পানির গুণগত মান ঠিক রাখা এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা গেলে আবদ্ধ জলাশয়েও ইলিশের বৃদ্ধি সম্ভব।

ব্যারাকপুর কেন্দ্রের কর্মকর্তা ড. প্রদীপ দে বলেন, ‘গবেষণার ফল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আগামী দিনে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে পুকুরেও ব্যাপক হারে ইলিশ চাষ সম্ভব হবে। এতে মৎস্যচাষীরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি বাজারে ইলিশের জোগান বাড়বে। ফলে সাধারণ মানুষের কাছেও প্রিয় এই মাছ আরও সহজলভ্য হয়ে উঠবে।’