Dhaka ১২:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বেনাপোলে বিদেশি পিস্তল, ২ ম্যাগাজিন ও ১৪ রাউন্ড গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার পত্নীতলায় ৪ লিটার চোলাই মদসহ নারী গ্রেপ্তার, ৭০ লিটার তৈরির উপকরণ জব্দ ঝিনাইদহে আন্তর্জাতিক র‌্যাপিড দাবায় চ্যাম্পিয়ন রাবিদ, বয়সভিত্তিকে সিএম আবজিদ আত্মীয়ের জামিন পেতে মাছ, লেবু, সিঁদুর দিয়ে শ্মশানে কালো জাদু, আটক ১ শার্শায় এক হাজার পিস ইয়াবাসহ বেনাপোলের কাদের আটক শিশু হত্যা মামলায় জামিনে বেরিয়ে গৃহকর্ত্রীকে খুন, কে এই লাইলী? ছাত্রত্ব শেষে হলে থাকার সুযোগ প্রত্যাখ্যান জাকসুর, প্রজ্ঞাপন বাতিলে আলটিমেটাম রাজবাড়ীতে সাপের কামড়ে যুবকের মৃত্যু, ‌‘আইসিইউ নেই’ বলে দেওয়া হয়নি অ্যান্টিভেনম আমাকে ‘যৌন ডাক্তার’ বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল: তাসনিম জারা দেশ গঠনে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

শিশু হত্যা মামলায় জামিনে বেরিয়ে গৃহকর্ত্রীকে খুন, কে এই লাইলী?

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:১৫:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / 7

অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় শিশুকে হত্যা করে প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগ করেছিলেন লাইলী আক্তার। মাসখানেক আগে জামিনে মুক্তি পান তিনি। জামিনে বের হওয়ার পর এবার এক নারীকে হত্যার পর লাশ খণ্ড-বিখণ্ড করে পলিথিনের প্যাকেটে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

নিহত নারী ফরিদা ইয়াসমিন দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে চাকরি করেন। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা বাড়িতে একাই থাকতেন। গত ১ আগস্ট তিনি বাড়ির একটি কক্ষ লাইলী আক্তারকে ভাড়া দেন।

শনিবার ফরিদার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ার পর তার ছোট মেয়ে মরিয়ম ও স্বজনরা খোঁজ শুরু করেন। বিকেলে ফরিদার ভাগ্নে মামুনসহ স্বজনরা বাড়িতে গিয়ে লাইলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার কথাবার্তায় অসংগতি দেখা দিলে সন্দেহ হয়। এ সময় লাইলীকে তার ঘরের বারান্দা পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে দেখা যায়।

পরে বাড়ির পেছনে খোঁজাখুঁজি করে একটি বস্তার মধ্যে পলিথিনে মোড়ানো খণ্ড-বিখণ্ড লাশ দেখতে পান স্বজনরা। এ সময় লাইলীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে ফরিদা বাড়িতে একা থাকার সুযোগে লাইলী তার সহযোগী চাঁপানগর গ্রামের আমির হোসেন, সোহেল রানা ও রবিউল ইসলামকে ডেকে আনেন। তারা ঘরে ঢুকে ফরিদাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে লাশটি খণ্ড-বিখণ্ড করে পলিথিনে মুড়িয়ে বাড়ির পেছনে ও ডোবায় ফেলে রাখেন। এ সময় বাড়ি থেকে ৭ লাখ টাকা ও ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

শনিবার বাড়ির পেছন থেকে পলিথিনে মোড়ানো লাশের নয়টি প্যাকেট উদ্ধার করে পুলিশ। রবিবার মাথাসহ আরও চারটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে ১৩ প্যাকেটে লাশের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

লাইলীর বিরুদ্ধে এর আগেও হত্যার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানায়, ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় ফাহিমা নামের এক শিশুকে গলা কেটে হত্যা করে খালে পুঁতে রাখেন লাইলী ও তার প্রেমিক আমির হোসেন। নিহত ফাহিমা ছিল আমির হোসেনের মেয়ে। ওই মামলায় প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগের পর মাত্র এক মাস আগে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান লাইলী।

ফরিদা ইয়াসমিনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চারজনকে আসামি করে দেবীদ্বার থানায় মামলা করেছেন তার স্বামী মফিজুল ইসলাম।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহীন জানান, গ্রেফতার প্রধান আসামি লাইলী আক্তার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। স্বর্ণালংকার ও টাকা লুটের উদ্দেশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

শিশু হত্যা মামলায় জামিনে বেরিয়ে গৃহকর্ত্রীকে খুন, কে এই লাইলী?

প্রকাশের সময় : ১০:১৫:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় শিশুকে হত্যা করে প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগ করেছিলেন লাইলী আক্তার। মাসখানেক আগে জামিনে মুক্তি পান তিনি। জামিনে বের হওয়ার পর এবার এক নারীকে হত্যার পর লাশ খণ্ড-বিখণ্ড করে পলিথিনের প্যাকেটে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

নিহত নারী ফরিদা ইয়াসমিন দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে চাকরি করেন। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা বাড়িতে একাই থাকতেন। গত ১ আগস্ট তিনি বাড়ির একটি কক্ষ লাইলী আক্তারকে ভাড়া দেন।

শনিবার ফরিদার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ার পর তার ছোট মেয়ে মরিয়ম ও স্বজনরা খোঁজ শুরু করেন। বিকেলে ফরিদার ভাগ্নে মামুনসহ স্বজনরা বাড়িতে গিয়ে লাইলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তার কথাবার্তায় অসংগতি দেখা দিলে সন্দেহ হয়। এ সময় লাইলীকে তার ঘরের বারান্দা পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে দেখা যায়।

পরে বাড়ির পেছনে খোঁজাখুঁজি করে একটি বস্তার মধ্যে পলিথিনে মোড়ানো খণ্ড-বিখণ্ড লাশ দেখতে পান স্বজনরা। এ সময় লাইলীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে ফরিদা বাড়িতে একা থাকার সুযোগে লাইলী তার সহযোগী চাঁপানগর গ্রামের আমির হোসেন, সোহেল রানা ও রবিউল ইসলামকে ডেকে আনেন। তারা ঘরে ঢুকে ফরিদাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে লাশটি খণ্ড-বিখণ্ড করে পলিথিনে মুড়িয়ে বাড়ির পেছনে ও ডোবায় ফেলে রাখেন। এ সময় বাড়ি থেকে ৭ লাখ টাকা ও ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

শনিবার বাড়ির পেছন থেকে পলিথিনে মোড়ানো লাশের নয়টি প্যাকেট উদ্ধার করে পুলিশ। রবিবার মাথাসহ আরও চারটি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে ১৩ প্যাকেটে লাশের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

লাইলীর বিরুদ্ধে এর আগেও হত্যার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ জানায়, ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় ফাহিমা নামের এক শিশুকে গলা কেটে হত্যা করে খালে পুঁতে রাখেন লাইলী ও তার প্রেমিক আমির হোসেন। নিহত ফাহিমা ছিল আমির হোসেনের মেয়ে। ওই মামলায় প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগের পর মাত্র এক মাস আগে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান লাইলী।

ফরিদা ইয়াসমিনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চারজনকে আসামি করে দেবীদ্বার থানায় মামলা করেছেন তার স্বামী মফিজুল ইসলাম।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহীন জানান, গ্রেফতার প্রধান আসামি লাইলী আক্তার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। স্বর্ণালংকার ও টাকা লুটের উদ্দেশ্যেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।