শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইনের মুখোমুখি হতে হবে: রাশেদ খান
- প্রকাশের সময় : ১২:০৪:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / 8
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জীবিত থাকলে দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “হাসিনা বেঁচে থাকলে দেশে ফিরে আসুক। আমরা তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে নেওয়ার জন্য বরণ করে নেব।”
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে মোবারকগঞ্জ চিনিকলের গেস্টহাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিকে মনে রাখতে হবে, বিএনপি দুর্বল হলে তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তার দাবি, আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় ফিরলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর দমন-পীড়ন আরও বেড়ে যেতে পারে।
জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগও তোলেন তিনি। তার ভাষ্য, বিদেশি কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন এবং সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচির নামে ‘মব’ তৈরি করেছেন। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছেন, যা উল্টো আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার পথ তৈরি করে দিতে পারে।
সম্প্রতি প্রচারিত শেখ হাসিনার একটি অডিও বার্তা প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, অডিওটি প্রকৃতপক্ষে শেখ হাসিনার কি না, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা জীবিত থাকলে দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার মোকাবিলা করা উচিত।
আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল এবং তাদের রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ নেই বলে তিনি মনে করেন।
স্থানীয় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান বলেন, কালীগঞ্জের উন্নয়নে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চান তারা। তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন চাঁদাবাজি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আবু তালিব, ঝিনাইদহ-৪ আসনের বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, সাবেক প্যানেল মেয়র ও রাজনীতিবিদ হামিদুল ইসলাম হামিদ, কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ, মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এএনএম জোবায়ের, বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তবিবুর রহমান মিনি, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা।



















