‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ দিবস আজ
- প্রকাশের সময় : ০৮:৩৯:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
- / 12
আজ ৫ আগস্ট। জুলাই বিপ্লবীদের ভাষায় ‘৩৬ জুলাই’। দুই বছর আগে এই দিনে ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেড় দশকের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আত্মত্যাগের স্মরণে আজ দেশব্যাপী পালিত হচ্ছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি পুষ্পস্তবক অর্পণ, স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন, শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে মহান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়। তিনি বলেন, ‘এই বিজয় ছাত্র-জনতার। এত ত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সব শহীদের প্রতি জাতি চিরঋণী। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নই হবে প্রকৃত শ্রদ্ধা।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও বক্তব্য দিয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলা জুলাইয়ের চেতনার পরিপন্থি। তিনি সবাইকে জুলাইয়ের আদর্শ বাস্তবায়নে নৈতিক অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, জুলাই গণ-আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্য অর্জনে সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।
দিবসের কর্মসূচি
দিবসটি উপলক্ষে দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। সকাল ৯টায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন এবং বেলা ১১টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া দেশের সব জেলায় আলোচনা সভা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন সম্প্রচারমাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দোয়া ও প্রার্থনা, সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, শিশু পরিবার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি জাদুঘরগুলো আজ বিনা টিকিটে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র শিশুদের জন্যও বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্যোগে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিকেলে ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ শীর্ষক কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের জনপ্রিয় কয়েকটি ব্যান্ড ও সংগীতশিল্পীরা অংশ নেবেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজধানীর পল্টনে সমাবেশ করবে। পাশাপাশি সারা দেশেও দলটির উদ্যোগে সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট বিকেলে রাজধানীতে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।























