শিশুকে বলাৎকারের পর হুজুর মাথায় হাত দিয়ে বলেন ‘মনে করো তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’
- প্রকাশের সময় : ০৮:২৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
- / 26
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদ্রাসার শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্দেশ্যে সালিশ বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের তালোয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিং থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং ওই মাদ্রাসার শিক্ষক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুলাই সকালে মাদ্রাসার বড় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে গেলে কয়েকজন শিশু মাদ্রাসায় অবস্থান করছিল। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক এক শিশুকে বলাৎকার করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি অন্য কয়েকজন শিশু প্রত্যক্ষ করলেও ভয়ে কাউকে জানায়নি।
পরে বিষয়টি জানাজানি হলে মঙ্গলবার দুপুরে এক শিশুকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ রয়েছে, এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা মাদ্রাসায় ভিড় করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে। এ সময় ভুক্তভোগী শিশু ও তার বাবাকেও নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশের উপস্থিতির আগে ভুক্তভোগী শিশুটি অভিযোগ করে বলে, ঘটনার দিন সকালে ঘুমিয়ে থাকার সময় শিক্ষক তার ওপর যৌন নির্যাতন করেন। পরে জেগে উঠলে শিক্ষক তাকে ঘটনাটি স্বপ্ন ভেবে ভুলে যেতে বলেন।
এদিকে অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য মঙ্গলবার দুপুরে মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা সালিশ বৈঠকে বসেন। বৈঠকে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি মো. জুলফিকার মাহমুদ, সহ-সভাপতি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল করিমসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রাথমিকভাবে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয় এবং পরদিন আরও বড় পরিসরে সালিশের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
তবে ফৌজদারি অপরাধের ঘটনায় সালিশের উদ্যোগের বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি দাবি করেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের সুযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ‘এ ধরনের গুরুতর অপরাধের ঘটনায় আইনগতভাবে সালিশের কোনো সুযোগ নেই। সংবাদ পাওয়ার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’






















