উখিয়ায় পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ১১
- প্রকাশের সময় : ০৬:৩৩:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
- / 32
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে আবারো ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এবার পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে মেয়েদের একটি হেফজ মাদরাসার উপর আচড়ে পড়েছে। এতে মুহূর্তেই মাটিচাপা পড়ে যায় মাদরাসার ভবন, ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুরু হয় প্রাণ বাঁচানোর আর্তনাদ।
হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে আরো ১০ জনকে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো শিক্ষার্থী আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর প্রায় ১টার দিকে উখিয়ার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ/৩ ব্লকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় আকস্মিক এ ধস নামে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, ১৪ এপিবিএন পুলিশ, ক্যাম্প প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ভারী যন্ত্রপাতি প্রবেশে সীমাবদ্ধতা থাকায় কোদাল, শাবল ও হাতের সাহায্যে মাটি সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ পর্যন্ত ১১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আরো কেউ আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার সময় মেয়েদের হেফজ মাদরাসাটিতে ৩০ জনেরও বেশি ছাত্রী অবস্থান করছিল। পাহাড়ধসের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো ভবনটি মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। আশপাশের বাসিন্দারা প্রথমে নিজেদের উদ্যোগে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান জোরদার করে।
মাদরাসার পাশের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে পাহাড় ভেঙে পড়লে চারদিকে ধুলার মেঘ ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই মাদরাসাটি মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। ভেতর থেকে শিশুদের কান্না ও সাহায্যের আকুতি শোনা যাচ্ছিল। স্থানীয়রা জীবন বাজি রেখে মাটি সরিয়ে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করেন।
উদ্ধার হওয়া আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এদিকে মাত্র দুই দিন আগেই গত ৬ জুলাই উখিয়ার ৭, ১১ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আটজনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারো নতুন এই বিপর্যয় রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, বন উজাড় ও টানা বর্ষণের কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে হাজারো পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিহত ও আহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। ক্যাম্পজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারি আর নিখোঁজদের খোঁজে মরিয়া, অপেক্ষা—সব মিলিয়ে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিরাজ করছে এক বিভীষিকাময় পরিবেশ।



















