নওগাঁয় মাদরাসাছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও প্রতিবাদ করায় পরিবারকে মারধর : মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৩
- প্রকাশের সময় : ০৬:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
- / 11
নওগাঁর ধামইরহাটে এক মাদরাসাছাত্রীকে রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা-মা ও ছোট ভাইকে বাড়িতে ঢুকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে জখম করেছে বখাটেরা। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে ধামইরহাট থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি হলেন উপজেলার শিবরামপুর এলাকার মো. আলম হোসেনের ছেলে মো. তাকমিম হোসেন (২২)।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় জগদল ফারাজিয়া দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী। মাদরাসায় যাতায়াতের পথে দীর্ঘ দিন ধরে তাকে আপত্তিকর কথাবার্তা বলে উত্যক্ত ও হেনস্তা করে আসছিল বখাটে তাকমিম। এই বিষয়ে ছাত্রীর বাবা পূর্বেও লিখিতভাবে থানা পুলিশকে অবহিত করেছিলেন।
এরই জেরে গত ৪ জুলাই সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে মাঠে ছাগল বেঁধে বাড়ি ফেরার পথে ওই ছাত্রীর হাত ধরে টানাটানি ও যৌন হয়রানি করে তাকমিম। ছাত্রীর চিৎকারে বখাটে তাকে ছেড়ে দিলে, বাড়ি ফিরে সে বিষয়টি পরিবারকে জানায়। পরে ছাত্রীর মা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেন।প্রতিবাদের জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে বখাটে তাকমিমসহ আরও দুই সহযোগী মিলে ওই ছাত্রীর বাড়িতে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে। সেখানে তারা ছাত্রীর মা, স্বয়ং ভুক্তভোগী ছাত্রী এবং তার ছোট ভাইকে লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে এই ঘটনায় ছাত্রীর বাবা মো. আনোয়ার হোসেন (৪৮) বাদী হয়ে ধামইরহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
বিষয়টি নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নজরে আসলে তিনি অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনায় ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মধ্যরাতে ঝটিকা অভিযান চালায়। অভিযানকালে মামলার প্রধান আসামি মো. তাকমিম হোসেনসহ জড়িত অপর দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এ বিষয়ে ধামইরহাট থানা পুলিশ জানায়, নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের যৌন হয়রানি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে জেলা পুলিশ সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করবে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।





















