Dhaka ০৫:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
আজ কাঁঠাল দিবস এক বছর ফ্রি রোগী দেখার কথা রাখলেও যে শর্ত দিলেন সেই চিকিৎসক ‘আমি যদি মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম…’: জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী কয়েকদিন পরই কাটার কথা ছিল পাট, রাতের আঁধারে ভেঙে গেল কৃষকের স্বপ্ন ফুটপাতে ঘুমন্ত নারীকে ধর্ষণ, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল আওয়ামী লীগের দাফন হয়ে গেছে দিল্লিতে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দল-মত ভুলে মানুষ রাস্তায় নামে, তাদের সম্মান করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পাংশায় ১০১ পিস ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার জাবিতে গভীর রাতে নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ, ১২ সিনিয়র শিক্ষার্থী আটক মধুখালীতে পাটের বাম্পার ফলনের আশা, কৃষকের মুখে ‘সোনালি স্বপ্ন’

মধুখালীতে পাটের বাম্পার ফলনের আশা, কৃষকের মুখে ‘সোনালি স্বপ্ন’

মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০২:১৬:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
  • / 8

 

 

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, সরকারি সহায়তা এবং বাজারে ভালো দামের প্রত্যাশায় পাট চাষে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। এবার উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। ফলে বাম্পার ফলনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে মধুখালী উপজেলায় মোট **৮ হাজার ৬৫৫ হেক্টর** জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল **৮ হাজার ৬৫০ হেক্টর**। রায়পুর, মেগচামী, কোরকদী, বাগাট, কামারখালী ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে পাটের চাষ হয়েছে।

কামারখালী ইউনিয়নের সালামতপুর গ্রামের কৃষক মিল্টন বলেন, মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটের গাছ ভালোভাবে বেড়ে উঠেছে। তবে পাট জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জলাশয়ের অভাব এখনো বড় সমস্যা। ডোবা ও খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় একই স্থানে একাধিকবার পাট জাগ দিতে হচ্ছে, এতে আশের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, **‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্প’**-এর আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ ও সার বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতিতে পাট চাষের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

কোরকদী ইউনিয়নের পাঁচ কোরকদী গ্রামের কৃষক কার্তিক কুমার জানান, এবারের পাটগাছ ইতোমধ্যে ৪ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত বেড়ে উঠেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের পাশাপাশি আশ থেকে সন্তোষজনক আয়ের আশা করছেন তিনি।

রায়পুর ইউনিয়নের ব্যাসদী গ্রামের কৃষক আব্দুল হাকিম শেখ বলেন, “আমি আড়াই একর জমিতে পাটের আবাদ করেছি। গাছের উচ্চতা প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ফুট হয়েছে। ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। তবে বড় সমস্যা হলো পাট জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানির অভাব। আমরা বৃষ্টির পানির ওপরই নির্ভরশীল। গত বছরের মতো এবারও যদি পাটের ভালো দাম থাকে, তাহলে কৃষকরা লাভবান হবেন।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহবুব ইলাহী বলেন, “পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর পাটের আবাদ ও গাছের বৃদ্ধি সন্তোষজনক হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকি করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, চলতি মৌসুমে কৃষকরা পাট ও পাটকাঠি বিক্রি করে ভালো মুনাফা অর্জন করতে পারবেন।”

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মধুখালীতে পাটের বাম্পার ফলনের আশা, কৃষকের মুখে ‘সোনালি স্বপ্ন’

প্রকাশের সময় : ০২:১৬:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

 

 

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত, সরকারি সহায়তা এবং বাজারে ভালো দামের প্রত্যাশায় পাট চাষে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কৃষকরা। এবার উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। ফলে বাম্পার ফলনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে মধুখালী উপজেলায় মোট **৮ হাজার ৬৫৫ হেক্টর** জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল **৮ হাজার ৬৫০ হেক্টর**। রায়পুর, মেগচামী, কোরকদী, বাগাট, কামারখালী ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে পাটের চাষ হয়েছে।

কামারখালী ইউনিয়নের সালামতপুর গ্রামের কৃষক মিল্টন বলেন, মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাটের গাছ ভালোভাবে বেড়ে উঠেছে। তবে পাট জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত জলাশয়ের অভাব এখনো বড় সমস্যা। ডোবা ও খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় একই স্থানে একাধিকবার পাট জাগ দিতে হচ্ছে, এতে আশের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে, **‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্প’**-এর আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ ও সার বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতিতে পাট চাষের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

কোরকদী ইউনিয়নের পাঁচ কোরকদী গ্রামের কৃষক কার্তিক কুমার জানান, এবারের পাটগাছ ইতোমধ্যে ৪ থেকে ৬ ফুট পর্যন্ত বেড়ে উঠেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের পাশাপাশি আশ থেকে সন্তোষজনক আয়ের আশা করছেন তিনি।

রায়পুর ইউনিয়নের ব্যাসদী গ্রামের কৃষক আব্দুল হাকিম শেখ বলেন, “আমি আড়াই একর জমিতে পাটের আবাদ করেছি। গাছের উচ্চতা প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ফুট হয়েছে। ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। তবে বড় সমস্যা হলো পাট জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানির অভাব। আমরা বৃষ্টির পানির ওপরই নির্ভরশীল। গত বছরের মতো এবারও যদি পাটের ভালো দাম থাকে, তাহলে কৃষকরা লাভবান হবেন।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহবুব ইলাহী বলেন, “পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর পাটের আবাদ ও গাছের বৃদ্ধি সন্তোষজনক হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকি করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, চলতি মৌসুমে কৃষকরা পাট ও পাটকাঠি বিক্রি করে ভালো মুনাফা অর্জন করতে পারবেন।”