রামিসা হত্যা : ৬৬ পাতার রায়সহ নথি আজই যাচ্ছে উচ্চ আদালতে
- প্রকাশের সময় : ১২:২৮:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
- / 21
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ডের ৬৬ পাতার রায়ের কপিসহ পুরো মামলার নথি আজ মঙ্গলবারই পাঠানো হচ্ছে উচ্চ আদালতে। আসামিদের মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য এ নথি পাঠানো হবে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টরা।
রোববার সবচেয়ে দ্রুততম সময় ছয় কার্যদিবসে দেশের আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। এরই মধ্যে রায়ের কপি প্রস্তুত করা হয়েছে। আইনানুসারে ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য আজই উচ্চ আদালতে পাঠানো হবে বলে কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালটির বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ। গতকাল সোমবার রাত পর্যন্ত মামলার রায় ও নথি পাঠানোর জন্য প্রস্তুতির কাজ চলছিল বলেও জানান তিনি।
পঙ্কজ পিটার গোমেজ বলেন, ‘মামলাটির রায় ও নথি পাঠানোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শেষ হয়েছে। রায় হয়েছে ৬৬ পাতার। আজ এ রায়ের কপি, মামলার সিডিসহ পুরো নথি সিলগালা করে উচ্চ আদালতের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হবে। রাজারবাগ পুলিশের সদস্যরা এসে এগুলো নিরাপদে নিয়ে যাবেন।’
এদিকে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘দ্রুতই মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। রায়ের নথি কখন, কীভাবে যাবে ট্রাইব্যুনালের বিষয়। আশা করছি দ্রুতই উচ্চ আদালতে রায়ের ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষ হয়ে আসামিদের সাজা কার্যকর হবে।’
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, নিম্ন আদালতে কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে সেই দণ্ড কার্যকর করার আগে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এ প্রক্রিয়াকে ‘ডেথ রেফারেন্স’ বলা হয়। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা খালাস চেয়ে জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল দায়ের করার সুযোগ পান। উচ্চ আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রায় ও মামলার নথি ডেথ রেফারেন্স শাখা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠান। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে তা প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয়। এরপর তিনি মামলাটির শুনানির জন্য হাইকোর্টের একটি ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চ নির্ধারণ করে দিলে আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হবে।
ঘোষণার পর রামিসা হত্যার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জে ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে ফাঁসির আসামিদের নির্ধারিত ‘কনডেম সেলে’ রাখা হয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বলেন, ‘কারাগার নিরাপদ জায়গা। আসামিদের নিরাপদে রাখা আমাদের দায়িত্ব। সবসময় নিরাপত্তাকর্মী থাকে। কোনো কয়েদি যদি অন্য কয়েদির প্রতি বিরূপ আচরণ বা মারামারি করে, তখন কারা কর্তৃপক্ষ থেকে পানিশমেন্ট সেলে নেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘ফাঁসির আসামিদের সাধারণত একা রাখা হয় না। কারণ রায়ের পর তারা মনস্তাত্ত্বিকভাবে খারাপ থাকে। আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটাতে পারে। এজন্য সবার সঙ্গে রাখা হয়। সাধারণত ফাঁসির একটি সেলের আয়তন বিবেচনায় দুই থেকে পাঁচজনকে রাখা হয়।’
























