Dhaka ০৯:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সৌদি আরবে হুতিদের হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের নিন্দা এআইকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ না বললে শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে: হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের প্রথম দিন শেষে ৮ উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩১৭ রান সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল, তিন ঘণ্টা কোথায় ছিলেন তাজমিন? মানসিক অসুস্থতা ঘিরে কুসংস্কার দূর করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর রাজবাড়ীর আমবাগান থেকে ৪২টি ককটেল উদ্ধার রাজবাড়ীতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেলেন দুই শতাধিক রোগী কুমিল্লায় তাজমিন হত্যায় সন্দেহভাজন অটোরিকশাচালক গ্রেপ্তার অসংখ্য ডিসেম্বর আসবে যাবে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরবে না: রাশেদ খাঁন কী করেছিলেন মেজর নিদাল হাসান? কেন ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড

সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল, তিন ঘণ্টা কোথায় ছিলেন তাজমিন?

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৯:০৮:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যার ঘটনায় নানা তথ্য নিয়ে আলোচনা চলছে। মৃত্যুর আগের রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজারে হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামার পর তার চলাচলের সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে রয়েছে। ওই ফুটেজে তাকে কয়েকটি দোকানের দিকে যেতে এবং এক দোকানির সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তবে এরপর সে কোন পথে গেছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাত সাড়ে ৩টার দিকে ধানখেতে তাজমিনকে হত্যা করা হয়। প্রশ্ন উঠেছে, এর আগের প্রায় তিন ঘণ্টা তাজমিন কোথায় ছিলেন?

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে আসা আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে পদুয়ার বাজারের হোটেল নূরজাহানের সামনে নামে ওই কিশোরী। এরপর সে হোটেলের পাশের খাবারের দোকান এবং পশ্চিম পাশে থাকা কয়েকটি স্টেশনারির দোকানের দিকে যায়। একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায় তাকে। এ সময় দোকানিকে কিছু একটা দেখাতে বা দিকনির্দেশনা দিতে দেখা যায়।

ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাত ১২টার দিকে দোকানের সামনে কিছু একটা দেখানোর পর কিশোরীটি সেখান থেকে অন্য পাশে যায়। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে নূরজাহান এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়। এরপর সে কোন পথে গেছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তার চলাচলের পথ ও সম্ভাব্য যাতায়াতের মাধ্যম নিয়ে তদন্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামার পর কিশোরীটি কোথায় গিয়েছিল, কারও সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল কি না এবং মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে কিছুটা দূরে পাওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে কিশোরীটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের অন্তত চার-পাঁচটি ধানখেতে ধানগাছ এলোমেলো অবস্থায় দেখা যায়। পাশেই পড়ে ছিল একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি থেকে ২০ থেকে ৩০ গজ দূরে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ দেখতে পান তিনি। আশপাশের ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তি ও দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন দেখে সেদিকে এগিয়ে গেলে একটি ধানক্ষেতে নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহের মাথা কাদায় গোঁজা ছিল এবং গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল।

নিহত কিশোরীর বাবা আবদুল আলীম বলেন, ৪ অক্টোবর কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হয় তার মেয়ে। পরে বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায় সে। বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে বাসে রওনা দেয় তাজমিন।

তিনি বলেন, রাতে মেয়েকে একাধিকবার ফোন করলেও সে ফোন রিসিভ করেনি। বুধবার রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে তার মেয়ে মোবাইল ফোনে মেসেজ ও লাইভ লোকেশন পাঠায়। মেসেজে তাকে এসে নিয়ে যেতে বলে। আবদুল আলীম বলেন, ‘তখন আমি ঘুমে ছিলাম।’

তাজমিনের স্কুল ফরিদা বিদ্যায়তনের প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ মজুমদার বলেন, সে তাঁদের স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে অজ্ঞাত কারণে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সে আর স্কুলে আসেনি।

জান্নাতুল তাজমিনের গৃহশিক্ষক সাদ বিন এরশাদ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন তাকে পড়িয়েছেন। মেয়েটি চঞ্চল স্বভাবের ছিল। তার মা কিছুটা অসুস্থ থাকায় দুই যমজ ভাইয়ের দেখভাল করত সে। তার বাবা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের পর এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। ওই মামলায় অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল, তিন ঘণ্টা কোথায় ছিলেন তাজমিন?

প্রকাশের সময় : ০৯:০৮:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন (১৫) হত্যার ঘটনায় নানা তথ্য নিয়ে আলোচনা চলছে। মৃত্যুর আগের রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজারে হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নামার পর তার চলাচলের সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে রয়েছে। ওই ফুটেজে তাকে কয়েকটি দোকানের দিকে যেতে এবং এক দোকানির সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তবে এরপর সে কোন পথে গেছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাত সাড়ে ৩টার দিকে ধানখেতে তাজমিনকে হত্যা করা হয়। প্রশ্ন উঠেছে, এর আগের প্রায় তিন ঘণ্টা তাজমিন কোথায় ছিলেন?

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে আসা আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে পদুয়ার বাজারের হোটেল নূরজাহানের সামনে নামে ওই কিশোরী। এরপর সে হোটেলের পাশের খাবারের দোকান এবং পশ্চিম পাশে থাকা কয়েকটি স্টেশনারির দোকানের দিকে যায়। একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায় তাকে। এ সময় দোকানিকে কিছু একটা দেখাতে বা দিকনির্দেশনা দিতে দেখা যায়।

ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাত ১২টার দিকে দোকানের সামনে কিছু একটা দেখানোর পর কিশোরীটি সেখান থেকে অন্য পাশে যায়। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে নূরজাহান এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়। এরপর সে কোন পথে গেছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তার চলাচলের পথ ও সম্ভাব্য যাতায়াতের মাধ্যম নিয়ে তদন্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামার পর কিশোরীটি কোথায় গিয়েছিল, কারও সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল কি না এবং মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে কিছুটা দূরে পাওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

ধানক্ষেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে কিশোরীটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের অন্তত চার-পাঁচটি ধানখেতে ধানগাছ এলোমেলো অবস্থায় দেখা যায়। পাশেই পড়ে ছিল একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি থেকে ২০ থেকে ৩০ গজ দূরে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ দেখতে পান তিনি। আশপাশের ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তি ও দৌড়াদৌড়ির চিহ্ন দেখে সেদিকে এগিয়ে গেলে একটি ধানক্ষেতে নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহের মাথা কাদায় গোঁজা ছিল এবং গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল।

নিহত কিশোরীর বাবা আবদুল আলীম বলেন, ৪ অক্টোবর কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হয় তার মেয়ে। পরে বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে যায় সে। বুধবার রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে বাসে রওনা দেয় তাজমিন।

তিনি বলেন, রাতে মেয়েকে একাধিকবার ফোন করলেও সে ফোন রিসিভ করেনি। বুধবার রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে তার মেয়ে মোবাইল ফোনে মেসেজ ও লাইভ লোকেশন পাঠায়। মেসেজে তাকে এসে নিয়ে যেতে বলে। আবদুল আলীম বলেন, ‘তখন আমি ঘুমে ছিলাম।’

তাজমিনের স্কুল ফরিদা বিদ্যায়তনের প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ মজুমদার বলেন, সে তাঁদের স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তবে অজ্ঞাত কারণে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সে আর স্কুলে আসেনি।

জান্নাতুল তাজমিনের গৃহশিক্ষক সাদ বিন এরশাদ বলেন, তিনি দীর্ঘদিন তাকে পড়িয়েছেন। মেয়েটি চঞ্চল স্বভাবের ছিল। তার মা কিছুটা অসুস্থ থাকায় দুই যমজ ভাইয়ের দেখভাল করত সে। তার বাবা একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করতেন।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের পর এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। ওই মামলায় অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।