Dhaka ০১:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোনো চিফ জাস্টিসের কেয়ারটেকার গভমেন্ট হওয়ার দরকার নাই : আইনমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:৪৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • / 10

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, কোনো চিফ জাস্টিসের কেয়ারটেকার গভমেন্ট হওয়ার দরকার নেই।

রোববার বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুমসংক্রান্ত আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত অংশীজন সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়া বা অবসরের পর আইন কমিশনসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের সুযোগ পেতে বিচারপতিরা কর্মক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা হারাচ্ছেন। অবসরের পর অনেকেই হিসাব কষা শুরু করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত নতুন আইনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা কোনোভাবেই খর্ব করা হবে না; বরং প্রতিষ্ঠানটিকে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন করা হবে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইনস্ট্রুমেন্ট আইনে উল্লেখ না থাকলেও এতে আইনের কার্যকারিতা বা প্রয়োগে কোনো সমস্যা হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বিভিন্ন বাছাই কমিটিতে থাকতে অনীহা প্রকাশ করছেন। বিচারিক কাজে ব্যস্ততার কারণে তারা দায়িত্ব নিতে পারছেন না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, তথ্য কমিশনের বাছাই কমিটি গঠনের জন্য দেড় মাস ধরে চিঠি পাঠানো হলেও এখনো কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি।

সভায় গুমের অভিযোগ ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো বাহিনীর প্রধানের রিপোর্ট কমিশনের কাছে গ্রহণযোগ্য না হলে কমিশন নিজস্ব ক্ষমতায় তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। এছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে কাউকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

গুমসংক্রান্ত আইনের খসড়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আইনমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আনা অধ্যাদেশে অপরাধীদের বেশি সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুমসংক্রান্ত আইন দ্রুত জনগণের সামনে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক নেতাদের সাজা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক নিপীড়ন চালানো হয়েছিল। রাতের বেলা তড়িঘড়ি করে সাক্ষ্য গ্রহণ করে এক রাতেই সাজা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল বলে তারা মন্তব্য করেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কোনো চিফ জাস্টিসের কেয়ারটেকার গভমেন্ট হওয়ার দরকার নাই : আইনমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ১০:৪৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, কোনো চিফ জাস্টিসের কেয়ারটেকার গভমেন্ট হওয়ার দরকার নেই।

রোববার বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুমসংক্রান্ত আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত অংশীজন সভায় তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সদ্য সাবেক প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়া বা অবসরের পর আইন কমিশনসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগের সুযোগ পেতে বিচারপতিরা কর্মক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা হারাচ্ছেন। অবসরের পর অনেকেই হিসাব কষা শুরু করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি জানান, প্রস্তাবিত নতুন আইনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা কোনোভাবেই খর্ব করা হবে না; বরং প্রতিষ্ঠানটিকে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন করা হবে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইনস্ট্রুমেন্ট আইনে উল্লেখ না থাকলেও এতে আইনের কার্যকারিতা বা প্রয়োগে কোনো সমস্যা হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা বিভিন্ন বাছাই কমিটিতে থাকতে অনীহা প্রকাশ করছেন। বিচারিক কাজে ব্যস্ততার কারণে তারা দায়িত্ব নিতে পারছেন না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, তথ্য কমিশনের বাছাই কমিটি গঠনের জন্য দেড় মাস ধরে চিঠি পাঠানো হলেও এখনো কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি।

সভায় গুমের অভিযোগ ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো বাহিনীর প্রধানের রিপোর্ট কমিশনের কাছে গ্রহণযোগ্য না হলে কমিশন নিজস্ব ক্ষমতায় তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। এছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে কাউকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

গুমসংক্রান্ত আইনের খসড়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আইনমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আনা অধ্যাদেশে অপরাধীদের বেশি সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং গুমসংক্রান্ত আইন দ্রুত জনগণের সামনে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক নেতাদের সাজা দেওয়ার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক নিপীড়ন চালানো হয়েছিল। রাতের বেলা তড়িঘড়ি করে সাক্ষ্য গ্রহণ করে এক রাতেই সাজা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল বলে তারা মন্তব্য করেন।