Dhaka ০৯:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
রগকাটা জামায়াত-শিবির স্বরূপে ফিরেছে: নুরুল হক নুর কালীগঞ্জে খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে মিলল ৭০ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার-বিদেশি মুদ্রা আগামী পাঁচ বছর কুষ্টিয়া সদর আসনে আমিই প্রধানমন্ত্রী: আমির হামজা ভাষার আলোয় মেধার উচ্ছ্বাস, রাজবাড়ী একাডেমির উদ্যোগে প্রাক বাংলা উৎসব বিভ্রান্তি ও হঠকারিতার রাজনীতি ছেড়ে দেশ গঠনে এগিয়ে আসুন: প্রধানমন্ত্রী নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব: আইনমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে দেশ স্বাধীন হতো না, তিনি স্বাধীনতার স্থপতি: আসিফ নজরুল ভারতের স্বাধীনতা দিবসে বেনাপোল-পেট্রাপোলে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ নওগাঁর ধামইরহাট থানা পরিদর্শনে পুলিশ সুপার

‘জেল খাটতে কেমন লাগে’ বোঝার জন্য হত্যা করা হয় শিশু হোসাইনকে

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 111

কোনো ধরনের শত্রুতা ছিল না, শুধু জেল খাটতে কেমন লাগে এমন কৌতুহলে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একদল বখাটে কিশোর মিলে ছুরিকাঘাতে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে হোসাইন নামে ১১ বছরের এক শিশুকে। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছয় কিশোরকে গ্রেফতারের পর তাদের স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী।

পুলিশ জানায়, গত ১৮ এপ্রিল সকালে ফতুল্লার তক্কার মাঠ এলাকার ভাসমান ফুল বিক্রেতা সুমনের শিশু সন্তান হোসাইন (১১) নিখোঁজ হয়। পাঁচদিন পর ২৩ এপ্রিল বিকেলে ফতুল্লার ইদ্রাকপুর ব্যাংক কলোনি এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ির ময়লার স্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয় হোসাইনের অর্ধগলিত মরদেহ। পরে এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা হলে ইয়াসিন নামে এক কিশোরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বরিশাল জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পর্যায়ক্রমে গ্রেফতার করা হয় আরও পাঁচ কিশোরকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী জানান, ঘটনার দিন অভিযুক্ত সাইফুল, তানভীর ও ইউনুস নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ‘খুন করলে জেলে যেতে হয়’ আর সেই অভিজ্ঞতা নেয়ার ইচ্ছা থেকেই তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া হোসাইনকে টার্গেট করে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল তাদের আরও তিন বন্ধু রাহাত, হোসাইন ও ওমর। পরে সবাই মিলে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পরিত্যক্ত ওই বাড়িতে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেফতার ছয় কিশোরের বয়স ১৮ বছরের নিচে এবং তারা প্রত্যেকেই মাদকাসক্ত। জেল খাটতে কেমন লাগে শুধু এমন কৌতুহলবশে শিশু হোসাইনকে তারা ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। তাদের মধ্যে মামলার প্রধান আসামি ইয়াসিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও এক কিশোর এখনও পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

‘জেল খাটতে কেমন লাগে’ বোঝার জন্য হত্যা করা হয় শিশু হোসাইনকে

প্রকাশের সময় : ০৭:৩৪:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

কোনো ধরনের শত্রুতা ছিল না, শুধু জেল খাটতে কেমন লাগে এমন কৌতুহলে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একদল বখাটে কিশোর মিলে ছুরিকাঘাতে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে হোসাইন নামে ১১ বছরের এক শিশুকে। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছয় কিশোরকে গ্রেফতারের পর তাদের স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী।

পুলিশ জানায়, গত ১৮ এপ্রিল সকালে ফতুল্লার তক্কার মাঠ এলাকার ভাসমান ফুল বিক্রেতা সুমনের শিশু সন্তান হোসাইন (১১) নিখোঁজ হয়। পাঁচদিন পর ২৩ এপ্রিল বিকেলে ফতুল্লার ইদ্রাকপুর ব্যাংক কলোনি এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ির ময়লার স্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয় হোসাইনের অর্ধগলিত মরদেহ। পরে এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা হলে ইয়াসিন নামে এক কিশোরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বরিশাল জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পর্যায়ক্রমে গ্রেফতার করা হয় আরও পাঁচ কিশোরকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী জানান, ঘটনার দিন অভিযুক্ত সাইফুল, তানভীর ও ইউনুস নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ‘খুন করলে জেলে যেতে হয়’ আর সেই অভিজ্ঞতা নেয়ার ইচ্ছা থেকেই তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া হোসাইনকে টার্গেট করে গাঁজা সেবনের প্রলোভন দেখিয়ে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল তাদের আরও তিন বন্ধু রাহাত, হোসাইন ও ওমর। পরে সবাই মিলে তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে পরিত্যক্ত ওই বাড়িতে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেফতার ছয় কিশোরের বয়স ১৮ বছরের নিচে এবং তারা প্রত্যেকেই মাদকাসক্ত। জেল খাটতে কেমন লাগে শুধু এমন কৌতুহলবশে শিশু হোসাইনকে তারা ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। তাদের মধ্যে মামলার প্রধান আসামি ইয়াসিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও এক কিশোর এখনও পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে বলেও জানান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী।