যুক্তরাষ্ট্রে লিমন-বৃষ্টিকে হত্যা : খুনের আগে চ্যাটজিপিটির সহায়তা নেন অভিযুক্ত
- প্রকাশের সময় : ০১:১৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 27
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই শিক্ষার্থী হত্যার মামলায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তি খুনের আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিয়েছিলেন। তিনি প্ল্যাটফর্মটিতে সন্দেহজনক তথ্য খুঁজে হত্যার পরিকল্পনা সাজান। এমন তথ্য উঠে এসেছে আদালতের নথিতে।
সোমবার এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৬ বছর বয়সী হিশাম আবুঘারবিয়েহর বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যা মামলা হয়েছে। নিহতরা হলেন— জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি। দুজনের বয়সই ২৭ বছর। লিমনের মরদেহ গত শুক্রবার উদ্ধার করা হয়। তিনি অভিযুক্তের রুমমেট ছিলেন এবং অভিযুক্ত নিজেও ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সাবেক শিক্ষার্থী।
আদালতে দাখিল করা এক আবেদনে প্রসিকিউটররা দাবি করেন, ১৩ এপ্রিল রাতে অভিযুক্ত চ্যাটজিপিটির কাছে একজন মানুষকে আবর্জনার ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলে দিলে কী হতে পারে, সে বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। নিহতদের নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন আগে তিনি এ উত্তর খুঁজেন।
নথিতে আরও বলা হয়, চ্যাটজিপিটি এ ধরনের কাজকে বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করলে অভিযুক্ত পুনরায় জানতে চান, ‘কীভাবে বিষয়টি ধরা পড়বে।’
প্রসিকিউটররা অভিযুক্তকে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আটক রাখার আবেদন জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ওপেনএআই তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) হিলসবরো কাউন্টি আদালতে উপস্থাপিত নথিতে ঘটনাটির বিস্তারিত টাইমলাইন তুলে ধরা হয়। রোববার (২৬ এপ্রিল) প্রকাশিত এসব নথিতে বলা হয়, জামিল লিমনকে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
প্রসিকিউটররা জানান, অপরাধের নৃশংসতা বিবেচনায় অভিযুক্তকে জামিন না দিয়ে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়, আসামি সমাজের জন্য হুমকি এবং কোনো শর্তেই তার জামিন দেওয়া উচিত নয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, লিমনের মরদেহ হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, নাহিদা বৃষ্টিকেও একই এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, ব্রিজটির দক্ষিণের জলাধার থেকে মানবদেহের কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে তা এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
তদন্তকারীরা লিমনের অ্যাপার্টমেন্টে বিপুল পরিমাণ রক্তের উপস্থিতির ভিত্তিতে ধারণা করছেন, বৃষ্টিও নিহত হয়েছেন। এ বিষয়ে তার পরিবারকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।
ফরেনসিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিমনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত ছিল। তার পিঠের নিচে গভীর ক্ষত পাওয়া গেছে, যা লিভার পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
তদন্তে জানা গেছে, গত ১৬ এপ্রিল সর্বশেষ লিমন ও বৃষ্টিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশপাশে দেখা যায়। পরদিন থেকেই তারা নিখোঁজ ছিলেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আবুঘারবিয়াহ দাবি করেন, তিনি ওইদিন লিমন ও বৃষ্টিকে দেখেননি। তবে তদন্তে ক্লিয়ারওয়াটার বিচ এলাকায় তার গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করা হয়, যেখানে লিমনের মোবাইল ফোনের লোকেশনও পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বক্তব্য পরিবর্তন করে বলেন, লিমন তাকে অনুরোধ করেছিলেন তাকে ও তার প্রেমিকাকে ক্লিয়ারওয়াটারে পৌঁছে দিতে।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় গোয়েন্দারা লক্ষ করেন, অভিযুক্তের বাঁ হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে ব্যান্ডেজ ছিল। তিনি দাবি করেন, পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে আঙুল কেটেছেন। এছাড়া উদ্ধার হওয়া একটি রসিদে দেখা যায়, ১৬ এপ্রিল তিনি ময়লার ব্যাগ, জীবাণুনাশক ওয়াইপস এবং এয়ার ফ্রেশনার কিনেছিলেন।
























