লিমন-বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হিশাম সম্পর্কে বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
- প্রকাশের সময় : ০৫:১১:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
- / 11
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন এবং নাহিদা বৃষ্টির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ শুক্রবার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপর শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, তবে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিপুল রক্তের আলামতের ভিত্তিতে তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, তিনিও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে থাকতে পারেন। খবর সিএনএনের।
এই ঘটনায় লিমন ও বৃষ্টির রুমমেট ২৬ বছর বয়সী হিশামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যাটারি (শারীরিক হামলা), জোরপূর্বক আটকে রাখা, প্রমাণ নষ্ট করা, মৃত্যুর খবর গোপন রাখা এবং মৃতদেহ সরানোর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, হিসাম আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার সহিংসতার অভিযোগ ওঠে এবং তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। যদিও পরবর্তীতে সেসব মামলা খারিজ হয়ে যায়। এমনকি তার আপন বড় ভাই আদালতে অভিযোগ করেছিলেন যে হিসাম তাকে ও তাদের মাকে আক্রমণ করেছিলেন। এ ঘটনায় আদালত একসময় তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছিল, যাতে হিসাম পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করা বা তাদের বাসা-বাড়ির যেতে না পারে।
গ্রেপ্তারের সময়ও নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হিশাম নিজেকে একটি বাড়ির ভেতরে আটকে রাখে, ফলে তাকে বের করে আনতে সোয়াট টিম ও আলোচক দল মোতায়েন করতে হয়। পরে তিনি আত্মসমর্পণ করে।
নিহত জামিল লিমন ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের একজন গবেষক। তিনি পরিবেশ ও ভূগোল নিয়ে গবেষণা করছিলেন এবং ভবিষ্যতে দেশে ফিরে শিক্ষকতা করার স্বপ্ন দেখতেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নাহিদা বৃষ্টিকে বিয়ে করার কথাও ভাবছিলেন।
এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনায় বাংলাদেশ ও প্রবাসী কমিউনিটিতে গভীর শোক নেমে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও শিক্ষার্থীদের পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলছে, এবং নাহিদা বৃষ্টির সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

























