২০২৬: নতুন বছরের আলোয় হারানোর বেদনা ভুলে বড় হোক অর্জনের খাতা
- প্রকাশের সময় : ১০:৩৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
- / 175
নতুন বছরের আগমনী বার্তা মানুষকে নতুন উদ্যমে আগামীর পথে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা দেয়। সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উন্নতির শিখরে পৌঁছানোর অঙ্গীকার নিয়েই শুরু হলো ২০২৬ সাল। বিদায়ী বছরের গ্লানি পেছনে ফেলে নতুন দিনের সূর্য নতুন প্রত্যাশা আর শান্তির বার্তা নিয়ে উদিত হলো।
বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইংরেজি নববর্ষকে বরণ করা হলেও বাংলাদেশে এবারের থার্টি ফার্স্ট নাইট ছিল ভিন্ন আবহে। রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে ঢাকা মহানগর এলাকায় আতশবাজি ও পটকা ফোটানোসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবুও মধ্যরাত পেরোনোর পর শহরের বিভিন্ন স্থানে উদযাপনের শব্দ শোনা যায়।
২০২৫ সালের শেষ প্রান্তে দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে কোটি মানুষ গভীর বেদনায় আচ্ছন্ন হয়। বিদায়বেলায় সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা তার জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন ঘটায়। এর আগে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড দেশবাসীকে নাড়া দেয়। পাশাপাশি সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় পুরো জাতি শোকাহত হয়।
শোকের পাশাপাশি জাতীয় জীবনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের কথাও সামনে আসে। মানবতাবিরোধী অপরাধে পলাতক আসামি শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়। অন্তর্বর্তী সরকার বহুল আকাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবনের আশা জাগে। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতি সঞ্চার করে।
নতুন বছরের প্রথম আলোয় দীর্ঘ অপেক্ষার পর নতুন শুরুর স্বপ্ন দেখছে দেশবাসী। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং সাম্প্রতিক আন্দোলনের অভিজ্ঞতাকে পাথেয় করে বাংলাদেশ এগোতে চায় নবজাগরণের পথে। ২০২৬ সাল শুধু ক্যালেন্ডার বদলের নয়, বরং অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা আর অর্জনের গৌরব থেকে প্রেরণা নিয়ে ব্যক্তি, পরিবার ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধতার নতুন অঙ্গীকারের সূচনা।























