Dhaka ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মহেশপুরে পৃথক ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু পাঁচ ভাষায় মুক্তি পাবে রজনীকান্তের ‘জেলার ২’ সৌদি আরবে বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বললো দূতাবাস তাজমিনের পোশাক ও মোবাইল পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে সিআইডিতে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১০৪৪ ভরি স্বর্ণ, ১০৮৮ ভরি রুপা চালুর এক দিন পরই ফের বন্ধ ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ রুটে ফেরি চলাচল ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটে ৫১ ফ্লাইট বিঘ্নিত, ভোগান্তিতে ৫ সহস্রাধিক যাত্রী ‘ফ্যামিলি কার্ড ও বিনামূল্যে শিক্ষার মতো উদ্যোগ নারীদের সম্ভাবনা ও সুযোগ বাড়াচ্ছে’ ‘সংস্কারে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সঙ্গে নীতিগত ঐকমত্য, বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে সরকার’ দুর্গাপূজায় ৫ দিন ব্যাংক বন্ধ

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস: শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করছে জাতি

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ১০:৩১:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 190

 

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

রবিবার সকাল ৭টার দিকে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শ্রদ্ধা জানান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি। এরপর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধার অংশ হিসেবে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এরপর সকাল সোয়া ৭টার কিছু পরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সালাম জানান সশস্ত্র বাহিনীর চৌকস দল। এসময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা। একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যরা।

শ্রদ্ধা নিবেদেন শেষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ করবে।

এরপর একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাত্র দু’দিন আগে, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে ঘাতক চক্র কেবল ঢাকা শহরেই প্রায় দেড়শ’ বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন পেশার কৃতী মানুষকে চোখ বেঁধে নিয়ে যায় অজ্ঞাত স্থানে। সান্ধ্য আইনের মধ্যে সেই রাতে তালিকা ধরে ধরে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিল্পী-সাহিত্যিক, সংস্কৃতিসেবী ও পদস্থ’ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের ঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হত্যা করে ফেলে রাখা হয় নিস্তব্ধ ভুতুড়ে অন্ধকারে।

পরদিন সকালে ঢাকার মিরপুরের ডোবা-নালা ও রায়েরবাজার ইটখোলাতে বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে থাকতে দেখা যায় অনেক নিথর দেহ। কারও শরীর বুলেটবিদ্ধ, কারও অমানুষিক নির্যাতনে ক্ষতবিক্ষত। হাত পেছনে বেঁধে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয় অনেককে।

প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর শোকের আবহে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়ে থাকে। দেশের সর্বত্র জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। ওড়ে শোকের প্রতীক কালো পতাকা।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস: শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করছে জাতি

প্রকাশের সময় : ১০:৩১:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

 

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

রবিবার সকাল ৭টার দিকে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শ্রদ্ধা জানান শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি। এরপর জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধার অংশ হিসেবে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এরপর সকাল সোয়া ৭টার কিছু পরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সালাম জানান সশস্ত্র বাহিনীর চৌকস দল। এসময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা। একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্যরা।

শ্রদ্ধা নিবেদেন শেষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ করবে।

এরপর একে একে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাত্র দু’দিন আগে, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে ঘাতক চক্র কেবল ঢাকা শহরেই প্রায় দেড়শ’ বুদ্ধিজীবী ও বিভিন্ন পেশার কৃতী মানুষকে চোখ বেঁধে নিয়ে যায় অজ্ঞাত স্থানে। সান্ধ্য আইনের মধ্যে সেই রাতে তালিকা ধরে ধরে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিল্পী-সাহিত্যিক, সংস্কৃতিসেবী ও পদস্থ’ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের ঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হত্যা করে ফেলে রাখা হয় নিস্তব্ধ ভুতুড়ে অন্ধকারে।

পরদিন সকালে ঢাকার মিরপুরের ডোবা-নালা ও রায়েরবাজার ইটখোলাতে বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে থাকতে দেখা যায় অনেক নিথর দেহ। কারও শরীর বুলেটবিদ্ধ, কারও অমানুষিক নির্যাতনে ক্ষতবিক্ষত। হাত পেছনে বেঁধে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয় অনেককে।

প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর শোকের আবহে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়ে থাকে। দেশের সর্বত্র জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। ওড়ে শোকের প্রতীক কালো পতাকা।