Dhaka ০১:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আপনাদের মেয়ে আর নেই’- মধ্যরাতে শ্বাশুড়িকে ফোনে জানিয়ে লাপাত্তা জামাই

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০১:২০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫
  • / 153

রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় চার সন্তানের জননী এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

নিহত গৃহবধুর নাম ফাহমিদা তাহসিন কেয়া (২৫)। তিনি চার সন্তানের জননী। রাজধানীর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার শামীম সরণির মেট্রো পিলারের ৩২২ এর উল্টো পাশে ৫৮৩ অনামিকা কনকর্ড অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন।

নিহতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী সিফাত আলী(৩০) ওই গৃহবধুকে শ্বাসরোধে হত্যার পর কৌশলে ফোন করে স্বজনদের জানিয়ে পালিয়ে গেছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে থাকা এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা মাত্র ঘটনাস্থলে এসেছি। সরেজমিন করবো। মরদেহ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে শুনেছি। মৃত্যুর কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে স্বামী পলাতক।

নিহতের ফুফু সৈয়দা ফাতেমা জাহান কলি জানান, রাত ২টার দিকে সিফাত তার শাশুড়ি নাজমা বেগমকে ফোন করে জানায় কেয়া খুবই অসুস্থ। আপনারা বাসায় আসেন। কী হয়েছে জানতে চাইলে সিফাত একপর্যায়ে স্বীকার করে যে কেয়া আর বেঁচে নেই। এরপর নাজমা বেগম তার স্বামীসহ দ্রুত বাসায় পৌঁছান। তারা দেখেন সিফাত কেয়াকে নিয়ে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে যাচ্ছে। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ডাক্তাররা কেয়াকে মৃত ঘোষণা করলে সিফাত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
পরে নাজমা বেগম ও তার স্বামী বাসায় ফিরে দেখেন, সিফাত বাসায় তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে।
ভুক্তভোগী কেয়ার বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, সিফাত খুবই বদমেজাজি। সন্তানদের সামনেই খারাপ আচরণ ও মারধর করতো। সে নিজে কিছু করে না। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে ভাইবোনের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল এবং এর বলি হয়েছে কেয়া।

তিনি বলেন, কেয়ার চার সন্তান। এক মেয়৷ তিন ছেলে। এদের মধ্যে বড় মেয়েটি ভিকারুননিসা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। কয়েকদিন আগে কেয়া ফোন করে বলছিল, সে আর পারছে না, সংসার করবে না, একবারে ফিরে আসতে চাইছিল। আমরাই বুঝিয়ে আটকাইছি। ভুল করছি।আজ তার খেসারত মেয়েটা দিয়ে গেলো!

তিনি আক্ষেপ করে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ছোট ছোট নাতি-নাতনীদের কি হবে? আমার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। গলায় দাগ দেখেছি। সুস্থ মানুষ তো হঠাৎ করে মারা যাবে এমনটা হতে পারে না। সিফাত কেন পালাবে?

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সিফাতের বাবা দীর্ঘদিন ধরে হংকংয়ে থাকেন এবং তার মা অনেক আগেই মারা গেছেন।

মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. সাজ্জাত রোমান জানান, গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর খবরে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। মরদেহ
ঢামেক হাসপাতাল মর্গে আছে। সেখানে সুরতহাল করা হবে।

আত্মহত্যা নাকি হত্যা এখনো স্পষ্ট না।সুরতহাল, ময়না তদন্ত ও ঘটনার পুলিশী তদন্তে স্পষ্ট হবে মৃত্যুর রহস্য। সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

‘আপনাদের মেয়ে আর নেই’- মধ্যরাতে শ্বাশুড়িকে ফোনে জানিয়ে লাপাত্তা জামাই

প্রকাশের সময় : ০১:২০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় চার সন্তানের জননী এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

নিহত গৃহবধুর নাম ফাহমিদা তাহসিন কেয়া (২৫)। তিনি চার সন্তানের জননী। রাজধানীর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার শামীম সরণির মেট্রো পিলারের ৩২২ এর উল্টো পাশে ৫৮৩ অনামিকা কনকর্ড অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন।

নিহতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী সিফাত আলী(৩০) ওই গৃহবধুকে শ্বাসরোধে হত্যার পর কৌশলে ফোন করে স্বজনদের জানিয়ে পালিয়ে গেছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে থাকা এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা মাত্র ঘটনাস্থলে এসেছি। সরেজমিন করবো। মরদেহ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে শুনেছি। মৃত্যুর কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে স্বামী পলাতক।

নিহতের ফুফু সৈয়দা ফাতেমা জাহান কলি জানান, রাত ২টার দিকে সিফাত তার শাশুড়ি নাজমা বেগমকে ফোন করে জানায় কেয়া খুবই অসুস্থ। আপনারা বাসায় আসেন। কী হয়েছে জানতে চাইলে সিফাত একপর্যায়ে স্বীকার করে যে কেয়া আর বেঁচে নেই। এরপর নাজমা বেগম তার স্বামীসহ দ্রুত বাসায় পৌঁছান। তারা দেখেন সিফাত কেয়াকে নিয়ে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে যাচ্ছে। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর ডাক্তাররা কেয়াকে মৃত ঘোষণা করলে সিফাত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
পরে নাজমা বেগম ও তার স্বামী বাসায় ফিরে দেখেন, সিফাত বাসায় তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে।
ভুক্তভোগী কেয়ার বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, সিফাত খুবই বদমেজাজি। সন্তানদের সামনেই খারাপ আচরণ ও মারধর করতো। সে নিজে কিছু করে না। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে ভাইবোনের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল এবং এর বলি হয়েছে কেয়া।

তিনি বলেন, কেয়ার চার সন্তান। এক মেয়৷ তিন ছেলে। এদের মধ্যে বড় মেয়েটি ভিকারুননিসা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। কয়েকদিন আগে কেয়া ফোন করে বলছিল, সে আর পারছে না, সংসার করবে না, একবারে ফিরে আসতে চাইছিল। আমরাই বুঝিয়ে আটকাইছি। ভুল করছি।আজ তার খেসারত মেয়েটা দিয়ে গেলো!

তিনি আক্ষেপ করে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ছোট ছোট নাতি-নাতনীদের কি হবে? আমার মেয়েকে খুন করা হয়েছে। গলায় দাগ দেখেছি। সুস্থ মানুষ তো হঠাৎ করে মারা যাবে এমনটা হতে পারে না। সিফাত কেন পালাবে?

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সিফাতের বাবা দীর্ঘদিন ধরে হংকংয়ে থাকেন এবং তার মা অনেক আগেই মারা গেছেন।

মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. সাজ্জাত রোমান জানান, গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর খবরে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। মরদেহ
ঢামেক হাসপাতাল মর্গে আছে। সেখানে সুরতহাল করা হবে।

আত্মহত্যা নাকি হত্যা এখনো স্পষ্ট না।সুরতহাল, ময়না তদন্ত ও ঘটনার পুলিশী তদন্তে স্পষ্ট হবে মৃত্যুর রহস্য। সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।