Dhaka ০৯:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদের আগেই লাগামহীন মাংসের বাজার

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০১:০৪:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫
  • / 291

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে বেড়েছে মাংসের দাম। ঈদের কারণে বাজারে মুরগি ও গরুর মাংসের দামে প্রভাব পড়েছে। এজন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।

শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে সব ধরনের মুরগির দাম বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি কক মুরগির কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ৩২০ টাকা, দেশি মুরগি ৫০০ থেকে ৫৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দাম ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গরুর মাংসে ২০ থেকে ৩০ টাকা বাড়তি দাম চাচ্ছেন বিক্রেতা। খাসির মাংস কেজিপ্রতি ১২০০টা বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজা এখন শেষের দিকে। কয়েকদিন পরেই ঈদ। ফলে বাজারে মাংসের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। আর চাহিদা বাড়লে দাম এমনিতেই একটু বেড়ে যায়।

সরবরাহ ঘাটতি নেই জানিয়ে মুরগি ব্যবসায়ীরা বলেন, সব ধরনের মুরগির দামই বেড়ে গেছে। আগে যে দামে আমরা বিক্রি করতাম এখন সে দামে কিনতেই পারি না।

খিলক্ষেত কাঁচা বাজারের ক্রেতা শাহ আলম বলেন, প্রতি শুক্রবার মুরগি কিনি। কিন্তু ব্রয়লার মুরগির দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমাদের মতো গরিব মানুষ সমস্যায় পড়ে যাচ্ছে। দাম আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।

দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। এখনো ঈদ কয়েকদিন বাকি। সাধারণত ঈদের একদিন আগে বিক্রেতারা মাংসের দাম বাড়ান কিন্ত এবার ভিন্ন।

আজকের বাজারে দু-একটি মাছের দাম বাড়লেও বেশিরভাগ মাছের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০০ টাকার আশপাশেই বিক্রি হচ্ছে পাঙ্গাশ-তেলাপিয়া, সরপুঁটিসহ বেশ কয়েক জাতের মাছ। বাজারে প্রতি কেজি বড় আকৃতির রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা পর্যন্ত, কাতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। কোরাল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, চাষের কই ২৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের শিং ৪৫০ টাকা, চাষের মাগুর ৫০০ টাকা।

এর মধ্যে দাম বেড়েছে চিংড়ি ও ইলিশ মাছের। প্রতি কেজি মাঝামাঝি আকারের চিংড়ি ৭০০-৮০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০-১৩০০ টাকায়।

কেনাকাটা করতে আসা মামুন বলেন, সবজি ও মুদির আইটেমগুলোর দাম বলা চলে আগের মতোই। তবে মাছ, মুরগি, গরুর দাম বেড়েছে।

বেগুন ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, পটল ৮০ থেকে ৯০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, কচুর লতি ১২০ টাকা আঁটি, সাজনা ১৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে লেবুর হালি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, ধনেপাতা এক আঁটি ১০ টাকা, লাল শাক ১০ টাকা আঁটি, লাউ শাক ৪০ টাকা, পালং শাক ১০ টাকা, কলমি শাক তিন আঁটি ২০ টাকা ও পুঁইশাক ২৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

বিগত সময়গুলোতে বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের আগ্রাসনে কোণঠাসা থাকত দেশি জাতের পেঁয়াজ। কখনো দামের কারণে, কখনো মান আবার কখনো সংকটকালে সরবরাহের কারণে ছড়ি ঘোরাতো ভারতের পেঁয়াজ। তবে এবার চিত্র ভিন্ন। এবার বাজার দখল করেছে দেশি পেঁয়াজ।

 

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ঈদের আগেই লাগামহীন মাংসের বাজার

প্রকাশের সময় : ০১:০৪:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে বেড়েছে মাংসের দাম। ঈদের কারণে বাজারে মুরগি ও গরুর মাংসের দামে প্রভাব পড়েছে। এজন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।

শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে সব ধরনের মুরগির দাম বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি কক মুরগির কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ৩২০ টাকা, দেশি মুরগি ৫০০ থেকে ৫৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দাম ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গরুর মাংসে ২০ থেকে ৩০ টাকা বাড়তি দাম চাচ্ছেন বিক্রেতা। খাসির মাংস কেজিপ্রতি ১২০০টা বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজা এখন শেষের দিকে। কয়েকদিন পরেই ঈদ। ফলে বাজারে মাংসের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। আর চাহিদা বাড়লে দাম এমনিতেই একটু বেড়ে যায়।

সরবরাহ ঘাটতি নেই জানিয়ে মুরগি ব্যবসায়ীরা বলেন, সব ধরনের মুরগির দামই বেড়ে গেছে। আগে যে দামে আমরা বিক্রি করতাম এখন সে দামে কিনতেই পারি না।

খিলক্ষেত কাঁচা বাজারের ক্রেতা শাহ আলম বলেন, প্রতি শুক্রবার মুরগি কিনি। কিন্তু ব্রয়লার মুরগির দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমাদের মতো গরিব মানুষ সমস্যায় পড়ে যাচ্ছে। দাম আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে।

দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। এখনো ঈদ কয়েকদিন বাকি। সাধারণত ঈদের একদিন আগে বিক্রেতারা মাংসের দাম বাড়ান কিন্ত এবার ভিন্ন।

আজকের বাজারে দু-একটি মাছের দাম বাড়লেও বেশিরভাগ মাছের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০০ টাকার আশপাশেই বিক্রি হচ্ছে পাঙ্গাশ-তেলাপিয়া, সরপুঁটিসহ বেশ কয়েক জাতের মাছ। বাজারে প্রতি কেজি বড় আকৃতির রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা পর্যন্ত, কাতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। কোরাল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা, চাষের কই ২৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের শিং ৪৫০ টাকা, চাষের মাগুর ৫০০ টাকা।

এর মধ্যে দাম বেড়েছে চিংড়ি ও ইলিশ মাছের। প্রতি কেজি মাঝামাঝি আকারের চিংড়ি ৭০০-৮০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০-১৩০০ টাকায়।

কেনাকাটা করতে আসা মামুন বলেন, সবজি ও মুদির আইটেমগুলোর দাম বলা চলে আগের মতোই। তবে মাছ, মুরগি, গরুর দাম বেড়েছে।

বেগুন ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, পটল ৮০ থেকে ৯০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, কচুর লতি ১২০ টাকা আঁটি, সাজনা ১৮০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে লেবুর হালি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, ধনেপাতা এক আঁটি ১০ টাকা, লাল শাক ১০ টাকা আঁটি, লাউ শাক ৪০ টাকা, পালং শাক ১০ টাকা, কলমি শাক তিন আঁটি ২০ টাকা ও পুঁইশাক ২৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

বিগত সময়গুলোতে বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের আগ্রাসনে কোণঠাসা থাকত দেশি জাতের পেঁয়াজ। কখনো দামের কারণে, কখনো মান আবার কখনো সংকটকালে সরবরাহের কারণে ছড়ি ঘোরাতো ভারতের পেঁয়াজ। তবে এবার চিত্র ভিন্ন। এবার বাজার দখল করেছে দেশি পেঁয়াজ।