মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
রাশনা ইমামকে প্রধান করে নারী ক্রিকেটারদের যৌন হয়রানির অভিযোগের কমিটি বিসিবির একই নামে একাল-সেকালের ৫ ঢাকাই সিনেমা যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু সাফে সেই ‘অভিশপ্ত’ ঘড়ির কাঁটা কি এবারও কাঁদাবে বাংলাদেশকে যে দিনগুলো মিস করেন সুপারস্টার রজনীকান্ত উয়েফার চাপে ‘বিশ্বকাপ বিক্রি’ প্রকল্পের নথি দেখাতে রাজি ফিফা বাগ্‌দান ভাঙার গুঞ্জন, জিয়া শঙ্কর লিখলেন, ‘আমরা একে অপরকে ভালোবাসি’ ফুটবলাররা কি আসলেই বোকা, নাকি আমরা ভুল জানি বিজেপি নেতাদের আপত্তিতে সরানো হলো দিয়া মির্জার ভিডিওটি, আদালতের অসন্তোষ সৈয়দপুর বিএইউএসটিতে দিনব্যাপী এন্টারপ্রেনার্স ফেয়ার অনুষ্ঠিত

ছয় সন্তানকে বড় করেও শেষ বয়সে গাছের নিচে ঠাঁই ৯৫ বছরের বৃদ্ধ পিতার

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৭:১১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • / 16
জীবনের সবটুকু সুখ ও শ্রম বিলিয়ে দিয়ে দুই ছেলে ও চার মেয়েকে বড় করেছিলেন ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ হাজী শামসুল হক মোল্লা। কিন্তু জীবনের শেষভাগে এসে সেই সন্তানদের কাছেই তিনি হয়ে উঠেছেন চরম ‘বোঝা’। জমিজমা সব লিখে নেওয়ার পর কোনো সন্তানের ঘরেই ঠাঁই হয়নি তাঁর। অবশেষে সব ভাই-বোন মিলে বৃদ্ধ বাবাকে বাড়ির পাশে একটি গাছের নিচে ফেলে রেখে যায়। অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামে।
হাজী শামসুল হক মোল্লা ওই গ্রামের ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে। জানা গেছে, তাঁর দুই ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা ফেরিওয়ালা এবং ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাসের হেলপার। চার মেয়ের মধ্যে মায়া বেগম, সাবিনা বেগম ও সালমা বেগমের বিয়ে হয়ে গেছে এবং ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধী মেয়েটি ছাড়া বাকি পাঁচ সন্তানই এখন নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত।
কয়েক বছর আগে নিজের জমি বিক্রি করে হজ পালন করেন শামসুল হক। সে সময় অবশিষ্ট জমিজমাও সন্তানদের মাঝে ভাগ করে দেন। কিন্তু বিপত্নীক এই বৃদ্ধের খোঁজ নেওয়া বন্ধ করে দেয় সন্তানরা। গত কয়েক দিন তিনি বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে ছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে মায়া বেগম তাঁর বৃদ্ধ বাবাকে ভাইদের বাড়িতে নিয়ে এলে দুই ভাই ও তাঁদের স্ত্রীরা মিলে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে একটি গাছের নিচে ফেলে রাখে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে বড় মেয়ে মায়া বেগম বলেন, “আমার স্বামী অসুস্থ। তাছাড়া আমার বাড়িতে প্রতিবন্ধী বোন কাজুলীও থাকে। এ অবস্থায় বাবার ভরণপোষণ আমার পক্ষে সম্ভব নয়।” মেঝ মেয়ে সাবিনা বেগম বলেন, “বাবা আমাদের চার বোনকে জমি বিক্রি করে মাত্র ৪ লাখ টাকা করে দিয়েছেন। আর দুই ভাইকে নগদ টাকাসহ ৮ কাঠা করে জমি দিয়েছেন। এখন বোনেরা কেন বাবার দেখভাল করবে?”
অভিযুক্ত দুই ছেলে আজিজুল ও রেয়াজুল ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি তাঁদের স্ত্রীরাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রতিবেশীরা জানান, জমিজমা হাতিয়ে নিয়ে সন্তানরা এখন বৃদ্ধ পিতাকে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে, যা অত্যন্ত অমানবিক।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃদ্ধ শামসুল হক বলেন, “আমি এখন কোথায় যাব, কী করব? কিছুই বুঝতে পারছি না। সারা জীবন কষ্ট করে যাদের বড় করলাম, তাদের কাছেই আজ আমি বোঝা হয়ে গেলাম।”
ঘটনাটি জানতে পেরে দ্রুত পদক্ষেপ নেন কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং বৃদ্ধকে উদ্ধার করেন। ইউএনও বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক। আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধ শামসুল হক সাহেবের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছি। তাঁর সন্তানরা যদি বাবার দায়িত্ব ও ভরণপোষণ না নেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ছয় সন্তানকে বড় করেও শেষ বয়সে গাছের নিচে ঠাঁই ৯৫ বছরের বৃদ্ধ পিতার

প্রকাশের সময় : ০৭:১১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
জীবনের সবটুকু সুখ ও শ্রম বিলিয়ে দিয়ে দুই ছেলে ও চার মেয়েকে বড় করেছিলেন ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ হাজী শামসুল হক মোল্লা। কিন্তু জীবনের শেষভাগে এসে সেই সন্তানদের কাছেই তিনি হয়ে উঠেছেন চরম ‘বোঝা’। জমিজমা সব লিখে নেওয়ার পর কোনো সন্তানের ঘরেই ঠাঁই হয়নি তাঁর। অবশেষে সব ভাই-বোন মিলে বৃদ্ধ বাবাকে বাড়ির পাশে একটি গাছের নিচে ফেলে রেখে যায়। অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামে।
হাজী শামসুল হক মোল্লা ওই গ্রামের ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে। জানা গেছে, তাঁর দুই ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা ফেরিওয়ালা এবং ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাসের হেলপার। চার মেয়ের মধ্যে মায়া বেগম, সাবিনা বেগম ও সালমা বেগমের বিয়ে হয়ে গেছে এবং ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধী মেয়েটি ছাড়া বাকি পাঁচ সন্তানই এখন নিজেদের সংসার নিয়ে ব্যস্ত।
কয়েক বছর আগে নিজের জমি বিক্রি করে হজ পালন করেন শামসুল হক। সে সময় অবশিষ্ট জমিজমাও সন্তানদের মাঝে ভাগ করে দেন। কিন্তু বিপত্নীক এই বৃদ্ধের খোঁজ নেওয়া বন্ধ করে দেয় সন্তানরা। গত কয়েক দিন তিনি বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে ছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে মায়া বেগম তাঁর বৃদ্ধ বাবাকে ভাইদের বাড়িতে নিয়ে এলে দুই ভাই ও তাঁদের স্ত্রীরা মিলে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে একটি গাছের নিচে ফেলে রাখে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে বড় মেয়ে মায়া বেগম বলেন, “আমার স্বামী অসুস্থ। তাছাড়া আমার বাড়িতে প্রতিবন্ধী বোন কাজুলীও থাকে। এ অবস্থায় বাবার ভরণপোষণ আমার পক্ষে সম্ভব নয়।” মেঝ মেয়ে সাবিনা বেগম বলেন, “বাবা আমাদের চার বোনকে জমি বিক্রি করে মাত্র ৪ লাখ টাকা করে দিয়েছেন। আর দুই ভাইকে নগদ টাকাসহ ৮ কাঠা করে জমি দিয়েছেন। এখন বোনেরা কেন বাবার দেখভাল করবে?”
অভিযুক্ত দুই ছেলে আজিজুল ও রেয়াজুল ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি তাঁদের স্ত্রীরাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। প্রতিবেশীরা জানান, জমিজমা হাতিয়ে নিয়ে সন্তানরা এখন বৃদ্ধ পিতাকে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে, যা অত্যন্ত অমানবিক।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃদ্ধ শামসুল হক বলেন, “আমি এখন কোথায় যাব, কী করব? কিছুই বুঝতে পারছি না। সারা জীবন কষ্ট করে যাদের বড় করলাম, তাদের কাছেই আজ আমি বোঝা হয়ে গেলাম।”
ঘটনাটি জানতে পেরে দ্রুত পদক্ষেপ নেন কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং বৃদ্ধকে উদ্ধার করেন। ইউএনও বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক। আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধ শামসুল হক সাহেবের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছি। তাঁর সন্তানরা যদি বাবার দায়িত্ব ও ভরণপোষণ না নেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”