‘আল্লাহ, আমাকে খাবার দাও’ বলে আকুতি জানানো সাজু শেখের স্ত্রী মারা গেছেন

- প্রকাশের সময় : ১০:৫০:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 13
‘আল্লাহ, আমাকে খাবার দাও, আমার স্ত্রীকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি’—অসুস্থ স্ত্রীর মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দিতে এমন আকুতি জানানো ৮০ বছর বয়সী সাজু শেখের স্ত্রী নূরজাহান বেগম আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ৭৫ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের খুনুয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন নূরজাহান বেগম। ওই দিন বিকেল ৫টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য ইলিয়াস মিয়া। তিনি বলেন, ‘নূরজাহান বেগম আমার ওয়ার্ডের একজন বাসিন্দা ছিলেন। দীর্ঘদিন অসুস্থতার কারণে বিছানায় পড়ে ছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।’
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে যায় নূরজাহান বেগমের। এরপর থেকে চলাফেরার সক্ষমতা হারিয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি। আর্থিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করানো সম্ভব হয়নি। অসুস্থ স্ত্রীর দেখাশোনা করতে গিয়ে খাবার, ওষুধ ও সংসারের খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হতো বৃদ্ধ সাজু শেখকে।
প্রায় ৬৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে এই দম্পতির তিন মেয়ে ও তিন ছেলে রয়েছে। মেয়েদের সবার বিয়ে হয়েছে। তবে সন্তানদের কাছ থেকে নিয়মিত সহায়তা পেতেন না তাঁরা। তিন ছেলের একজন করোনাকালে নিরুদ্দেশ হয়ে গেলেও মাঝেমধ্যে খোঁজখবর নিতেন। আরেক ছেলে ঢাকায় রিকশা চালান এবং বছরে এক-দুবার বাড়িতে আসেন।
কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে অসুস্থ স্ত্রীকে কোলে নিয়ে খাবারের জন্য আকুতি জানাতে দেখা যায় সাজু শেখকে। তাঁদের অসহায়ত্বের দৃশ্যটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের খোঁজ নেওয়া হয়। পৌঁছে দেওয়া হয় মানবিক সহায়তাও।
তবে বার্ধক্য, অসুস্থতা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াইয়ের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত জীবনসঙ্গীকে হারালেন সাজু শেখ। দীর্ঘদিনের সঙ্গীকে হারিয়ে এখন নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছেন ৮০ বছরের এই বৃদ্ধ।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমরা সংবাদ পেয়ে বৃদ্ধ এই দম্পতিকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। একই সঙ্গে তাঁদের জন্য থাকার একটি ঘরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পরিবারটিকে সহযোগিতা করেছে। বৃদ্ধা নূরজাহান বেগমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি।’




















