বর্ণিল আয়োজনে শুরু ২ দিন ব্যাপী বাংলা উৎসব॥ সহস্রাধিক শিশ-কিশোরের ঊচ্ছ্বাস
- প্রকাশের সময় : ১১:২৪:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / 5
বাংলা নিয়ে হরেক রকম প্রতিযোগিতা, বর্ণিল সাজ, নানান নামে বিভিন্ন রংয়ে শিশুদের হাতে তৈরি দেয়াল পত্রিকা শোভা পাচ্ছে এক পাশ জুড়ে। এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরে শিশু-কিশোররা আনন্দে উদ্বেলিত। কারণ, এমন উৎসব বছরে একবারই হয়। এ প্রতিযোগিতার নাম বাংলা উৎসব।
রাজবাড়ী একাডেমির উদ্যোগে রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী এ উৎসব শুরু হয়েছে শুক্রবার সকালে। এটি তাদের দশম আয়োজন। এ উপলক্ষে সকালে একটি বর্ণ শোভাযাত্রা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে একই জায়গায় গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় শিশুদের হাতে ছিল নানা রংয়ের বিভিন্ন বর্ণ, বেলুন ইত্যাদি। যা শোভাযাত্রাকে নতুন মাত্রা এনে দেয়। পরে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন।
আয়োজক কমিটি সূত্র জানায়, দুদিন ব্যাপী এ উৎসবে বর্ণ, যুক্তবর্ণ, মাত্রা, কারচিহ্ন, ফলা, শব্দ, বাক্য, বানান সংশোধন, ভুল সংশোধন, শব্দার্থ হাতের সুন্দর লেখা, বর্ণচাল, বর্ণ দিয়ে শব্দ বানাও, চিত্রাঙ্কন, মেধা যাচাই, বিরাম চিহ্ন, উপসর্গ ও অনুসর্গ, বাগধারা, বিপরীত শব্দ, এক কথায় প্রকাশ, প্রকৃতি ও প্রত্যয়, কারক ও বিভক্তি, সন্ধি, সমাস, পদ পরিবর্তন/বিপরীত শব্দ, সমার্থক শব্দ, সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দ, একই শব্দ বিভিন্ন অর্থে প্রয়োগ, বিতর্কসহ ৫০টির বেশি বিষয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে। এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী। উৎসবে এসব শিক্ষার্থীরা চারটি বিভাগে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। বিভাগগুলোগর নাম রাজবাড়ীর উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর নামে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির নাম চন্দনা বিভাগ, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিভাগের নাম গড়াই, কুমার নাম দেওয়া হয়েছে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এবং নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয় পদ্মা বিভাগ নামে।
দেয়াল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা দেখিয়েছে তাদের মেধা ও মনন কতটা তীক্ষ্ম। নামগুলোও নান্দনিক। ঐতিহ্য আলেখ্য, স্বপ্ননীড়, বাংলাদেশের সংস্কৃতি, শেকড়ের টানে বাংলা, বাংলা ও বাঙালিয়ানা হারিয়ে যাচ্ছে কি?, রূপে রসে বাংলা সহ বিভিন্ন নামে দেয়াল পত্রিকায় শিশুরা লেখা ও ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছে বাঙালির কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শেরে বাংলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সেমন্তী তরীর ভাষ্য, এসব প্রতিযোগিতা তাদের মেধা বিকাশে সহযোগিতা করে। পুরস্কার নয়, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াই বড় কথা।
অংশগ্রহণকারী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী পূর্ণতা জানায়, তারা বছরজুড়ে এ উৎসবের জন্য অপেক্ষায় থাকে। গত বছরও সে বাংলা উৎসবে অংশ নিয়েছিল। অনেক জ্ঞানী, গুণী মানুষ আসেন। তাদের সান্নিধ্য পাওয়া যায়।
রাজবাড়ী একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ডা. ইকবাল হোসেন বলেন, এটি প্রচলিত অর্থে বারোয়ারি যে উৎসব তেমন নয়। এখানে বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে ৫০টির মত বিষয় এ উৎসবে সন্নিবেশিত থাকে। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে উজ্জীবীত করা, যা বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে শুরু হলে তাদের জন্য অনেক ভালো হবে।
রাজবাড়ী একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, রাজবাড়ীর ছেলে মেয়েদের বাংলা ভাষার প্রতি যেন মমতাবোধ তৈরি হয় এজন্য তাদের প্রচেষ্টা থাকে। সারা বছরই তারা বিভিন্ন স্কুলে স্কুলে গিয়ে ভাষা বিষয়ক প্রতিযোগিতা ও অনুষ্ঠান করে থাকেন। আমাদের ভাষা সুললিত ভাষা। এমন সুমধুর ভাষা কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়না। বাংলা ভাষার ঐতিহ্য সারা বিশ্বময়। অন্য ভাষার সাথে তুলনা করলে আমরা অনেকটাই এগিয়ে আছি। যে কোনো কিছু চর্চা আর পরিচর্যায় বিকশিত হয়। বাংলা ভাষাকে বিকশিত করতে হলে আমাদের চর্চা ও পরিচর্যা দুইই করতে হবে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা বাংলা ভাষাকে পেয়েছি। এভাষাকে আমাদের ভালোবাসতে হবে। এজন্য তারা বাংলা নিয়ে এ উৎসবের আয়োজন করেন। এ উৎসবে ব্যাপক সাড়ায় তারা অনুপ্রাণিত। তারা এ উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে চান।
উৎসব উপলক্ষে বিকেলে বাংলা উৎসব স্মারক বক্তৃতা ও গুণীজন সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। গুণীজন সংবর্ধনা দেওয়া হয় সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সমাজসেবক আজিজা খানমকে। বক্তৃতা করেন বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এএএনএম মোমেনুজ্জামান, সাংস্কৃতিক অনুরাগী নাসিম শফি, প্রাক্তন অধ্যক্ষ এবিএম মঞ্জুরুল আলম দুলাল প্রমুখ।























