ডেটা সেন্টারের জন্য ৪২০ ফুটবল মাঠের সমান বন উজাড় করল গুগল, তদন্ত শুরু
- প্রকাশের সময় : ১০:০৪:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 8
নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য উত্তর ফিনল্যান্ডের একটি গ্রামীণ এলাকায় প্রায় ৪২০টি ফুটবল মাঠের সমান (৩০০ হেক্টরের বেশি) বনাঞ্চল উজাড় করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। তবে আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন বা পরিবেশের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই এই বিপুল বনভূমি ধ্বংস করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফিনিশ পরিবেশ রক্ষা সংস্থার করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে দেশটির তদারকি সংস্থা ফিনিশ সুপারভাইজরি এজেন্সি।
ফিনিশ অ্যাসোসিয়েশন ফর নেচার কনজারভেশনের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারপারসন হান্না হালমিনপা জানান, আইনগত বিষয়গুলো স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পের সব কার্যক্রম স্থগিত রাখা উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উপগ্রহের ছবিতে স্পষ্ট দেখা গেছে সংরক্ষিত বনাঞ্চলগুলোতেও ব্যাপকভাবে গাছ কাটা হয়েছে। তবে গুগল তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে যে তারা বন আইন মেনেই প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এবং বিস্তারিত প্রাকৃতিক জরিপ চালিয়েই সুরক্ষিত অঞ্চলগুলোকে অক্ষত রাখা হয়েছে।
ইউরোপে গুগলের একক বৃহত্তম বিনিয়োগের অংশ হিসেবে আগামী দুই বছরে ফিনল্যান্ডে ১ হাজার ৩০০ কোটি ইউরো ব্যয়ের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, এটি তারই একটি অংশ। উত্তর ফিনল্যান্ডের মুহোস পৌরসভার অধিগ্রহণ করা এলাকায় বর্তমানে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে জমি পরিষ্কারের কাজ চলছে। বিশাল এই পরিকাঠামো নির্মাণ স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য আনবে এবং হাজার হাজার কর্মসংস্থান তৈরি করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মুহোসের মেয়র কিম্মো হিনো। তবে পাশাপাশি জ্বালানি খরচ ও পরিবেশের ক্ষতি নিয়ে স্থানীয় কৃষক ও অধিবাসীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টিকে ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুগলকে তাদের এই বিনিয়োগ পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঠান্ডা জলবায়ু এবং পরমাণু ও নবায়নযোগ্য শক্তির সহজলভ্যতার কারণে ফিনল্যান্ড ইদানীং ডেটা সেন্টার বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দেশটির সরকারও অর্থনৈতিক মন্দা ও বেকারত্ব কাটাতে এসব বিদেশি বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কিন্তু মাইক্রোসফট ও টিকটকের পাশাপাশি গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ধ্বংসকারী ও বিপুল বিদ্যুৎখেকো এই প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ এখন চরমে পৌঁছেছে। পরিবেশ সুরক্ষায় কঠোর বিধিমালার দাবিতে উত্থাপিত একটি নাগরিক আবেদনে তিন দিনেই ৫০ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করার পর বিষয়টি এখন সরকার ও নীতিপ্রণেতাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: এএফপি





















