Dhaka ০৮:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
গুণী শিক্ষক হিসেবে সংবর্ধনা পাচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবার আহাজারি, ‘আমার বাচ্চা ফেরত দেন, আর কিছু চাই না’ এলপিজির দাম বাড়ল সাতদিন ধরে চলে ‘বরের মেলা’: সেজেগুজে থাকেন পাত্ররা, পছন্দ করে কিনে নেন কনেরা! জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশ সীমান্তে পড়ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আত্রাইয়ে মাদক, বাল্যবিবাহ ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির একটি হতে পারে বাংলাদেশ: ইইউ রাষ্ট্রদূত কোটালীপাড়ায় শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে যুবককে মারধর বাংলাদেশ এখন কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার: ইইউ রাষ্ট্রদূত

জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশ সীমান্তে পড়ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৫:১৫:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 24

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিলেও বর্তমানে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় পড়ছে।

রবিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজ কার্যালয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ‘ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’ (আইআইএমএম)-এর প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ-সহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক সহায়তা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। মন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘ সংস্থাসমূহকে রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা পূর্বের ন্যায় উচ্চ মাত্রায় বজায় রাখার আহ্বান জানান, যাতে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা যায়।

আইআইএমএম প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তাদের দল কক্সবাজার ও বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রায় দুই শতাধিক ভিকটিম ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে। সংগৃহীত এসব তথ্য-প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আইআইএমএম কেবল ২০১৭ সালের ঘটনার মধ্যেই তদন্ত সীমাবদ্ধ রাখছে না, বরং সাম্প্রতিক সময়ে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ফলে বেসামরিক জনগণের ওপর নেমে আসা সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে নথিভুক্ত করছে।

বৈঠকে বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্তে মিয়ানমার অংশ থেকে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের মারাত্মক ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন। পাহাড়ি ঢল ও বর্ষার কারণে মাইন সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশে চলে আসায় সাধারণ কৃষক ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন বিপন্ন হচ্ছে বলে জানান। এছাড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির গৃহীত পদক্ষেপ এবং সীমান্ত পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়।

আইআইএমএম টিম সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে আসা ভিকটিমদের তথ্য সংগ্রহে মাঠপর্যায়ের বিজিবি কমান্ডারদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সম্মতি প্রকাশ করা হয়।

মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) আসন্ন রায় মিয়ানমারের ওপর বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশ সীমান্তে পড়ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৫:১৫:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশ মানবিক কারণে লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিলেও বর্তমানে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যকার সশস্ত্র সংঘাতের প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকায় পড়ছে।

রবিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজ কার্যালয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ‘ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’ (আইআইএমএম)-এর প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ-সহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক সহায়তা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে, যা বাংলাদেশের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। মন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘ সংস্থাসমূহকে রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা পূর্বের ন্যায় উচ্চ মাত্রায় বজায় রাখার আহ্বান জানান, যাতে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা যায়।

আইআইএমএম প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তাদের দল কক্সবাজার ও বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রায় দুই শতাধিক ভিকটিম ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে। সংগৃহীত এসব তথ্য-প্রমাণ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আইআইএমএম কেবল ২০১৭ সালের ঘটনার মধ্যেই তদন্ত সীমাবদ্ধ রাখছে না, বরং সাম্প্রতিক সময়ে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ফলে বেসামরিক জনগণের ওপর নেমে আসা সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে নথিভুক্ত করছে।

বৈঠকে বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্তে মিয়ানমার অংশ থেকে পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের মারাত্মক ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন। পাহাড়ি ঢল ও বর্ষার কারণে মাইন সীমান্ত রেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশে চলে আসায় সাধারণ কৃষক ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন বিপন্ন হচ্ছে বলে জানান। এছাড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির গৃহীত পদক্ষেপ এবং সীমান্ত পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়।

আইআইএমএম টিম সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত পেরিয়ে আসা ভিকটিমদের তথ্য সংগ্রহে মাঠপর্যায়ের বিজিবি কমান্ডারদের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সম্মতি প্রকাশ করা হয়।

মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) আসন্ন রায় মিয়ানমারের ওপর বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠাতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।