ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলটকে কুড়াল দিয়ে আঘাত করেন সহ-পাইলট: আমিরাত
- প্রকাশের সময় : ০১:০৯:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 6
ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানের ককপিটে পাইলটকে হামলার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে আনলো সংযুক্ত আরব আমিরাত।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়াম জানিয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ের দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এর সহকারী পাইলট ককপিটে থাকা জরুরি কুড়াল (ক্র্যাশ অ্যাক্স) দিয়ে মূল পাইলটকে হামলা করেন এবং বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন।
আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল-শামসি শনিবার বলেছেন, ঘটনাটি ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং হামলাকারী সহকারী পাইলট বিমানটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সেটিকে বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তার বক্তব্য রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ওয়ামের বরাতে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি, হামলার উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য যোগসূত্র এবং এর পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না- এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ককপিটে হামলার পর দ্রুত নামতে থাকে বিমান
৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটটি। বিমানটি ছিল বোয়িং ৭৩৭। যাত্রার প্রায় দুই ঘণ্টা পর সৌদি আরবের আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় বিমানটি হঠাৎ দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে।
ব্রিটিশ বার্তা রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, একপর্যায়ে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের কিছু বেশি সময়ে বিমানটি ১৬ হাজার ফুটেরও বেশি নিচে নেমে যায়। পরে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে বিমানটি জরুরি সংকেত পাঠায় এবং সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণের জন্য গতিপথ পরিবর্তন করে।
ঘটনার সময় ককপিটে থাকা দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। মূল পাইলট আহত হলেও তিনি ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এরপর যাত্রী ও বিমানে থাকা অফ-ডিউটি পাইলটরা ককপিটে ঢুকে সহকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বিমানটি নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করে।
জরুরি কুড়াল দিয়েই হামলা?
হামলায় কী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, তা নিয়ে শুরু থেকেই বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর আগে বলেছিলেন, পাইলটকে কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে অস্ত্রটির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এখন আমিরাতের প্রসিকিউটর জেনারেলের বক্তব্যে ককপিটের ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছে। বাণিজ্যিক বিমানে জরুরি পরিস্থিতির জন্য এ ধরনের কুড়াল বা সমজাতীয় সরঞ্জাম রাখা হয়। ফলে এটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা এড়িয়ে কীভাবে ককপিটে নেওয়া হয়েছিল- এমন প্রশ্ন ওঠার সুযোগ নেই; বরং তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ওই সরঞ্জামটি কীভাবে হামলায় ব্যবহৃত হলো।
সন্ত্রাসী হামলার উদ্দেশ্য ছিল কি না, তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে
ঘটনার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেন। দলটি আমিরাতের জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (জিসিএএ) ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
তদন্তে ঘটনার পরিস্থিতি, হামলার উদ্দেশ্য, শারীরিক ও ডিজিটাল প্রমাণ এবং এর সঙ্গে কোনও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা উদ্দেশ্যের যোগসূত্র ছিল কি না- সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি হামলাটি আগে থেকে পরিকল্পিত ছিল কি না কিংবা কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নির্দেশে ঘটানো হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
আমিরাতের সরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার বিভিন্ন দাবি বা প্রচারিত তথ্য নিয়ে মন্তব্য করা হবে না। কর্তৃপক্ষ জনগণকে অনুমাননির্ভর বা যাচাই না করা তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে।
আহত পাইলট দেশে ফিরেছেন
ঘটনায় গুরুতর আহত ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে চিকিৎসার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমিরাতের জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে ভালো আছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখায় পাইলট, বিমানের ক্রু এবং যাত্রীদের সাহস ও দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসাও করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের হস্তক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আরও গুরুতর পরিণতি এড়ানো সম্ভব হয় বলে জানানো হয়েছে।
ফ্লাইদুবাইয়ের পক্ষ থেকেও এর আগে জানানো হয়েছিল, বিমানের ভেতরে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর ফ্লাইটের ক্রু ও অন্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেন। বিমানের সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে আছেন বলেও জানানো হয়।
ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য, হামলাকারীর সম্ভাব্য যোগসূত্র এবং ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল কি না- এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
সূত্র: আল-জাজিরা





















