মুস্তাফিজের এক ওভারেই বদলে গেল ম্যাচ, বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে পাকিস্তান
- প্রকাশের সময় : ১১:৩৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / 6
এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের দেওয়া ১১২ রানের লক্ষ্য ৯ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় তারা। ফলে স্বর্ণপদকের লড়াই নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। অন্যদিকে বাংলাদেশকে এখন ব্রোঞ্জ পদকের জন্য তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে হবে।
নাগোয়ার নিশিন করোগি স্পোর্টস পার্কের ধীরগতির উইকেটে ১৩ ওভারে ১১২ রানের লক্ষ্য পাকিস্তানের জন্য খুব কঠিন মনে হলেও বাংলাদেশের বোলারদের ব্যর্থতায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দ্রুতই তাদের হাতে চলে যায়। বিশেষ করে মুস্তাফিজুর রহমানের দুই ওভার বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। তিনি ২ ওভারে ৪১ রান দেন।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন তাওহীদ হৃদয়। তিনি ২৫ বলে এই রান করেন। হৃদয়ের পাশাপাশি সাইফ হাসান ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি।
পাওয়ার প্লের চার ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২৩ রান করে বাংলাদেশ। একপর্যায়ে ৬.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪৫ রান। এরপর তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেকের জুটিতে ৪৩ রান যোগ হলে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। তবে অল্প ব্যবধানে দুজনই ফিরে গেলে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা কমে যায়।
অধিনায়ক লিটন দাসও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন। তিন বলে মাত্র ২ রান করে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।
পাকিস্তানের হয়ে সুফিয়ান মুকিম ৩ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। সাইম আইয়ুব ২ ওভারে মাত্র ৩ রান দিয়ে একটি উইকেট শিকার করেন। তবে পাকিস্তানি বোলাররা ১৫টি ওয়াইড দেওয়ায় বাংলাদেশের সংগ্রহ কিছুটা বাড়ে।
১১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই পাকিস্তানকে চাপে রাখে বাংলাদেশের স্পিনাররা। প্রথম তিন ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২০ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। এরপর মুস্তাফিজুর রহমানকে বোলিংয়ে আনা হলে ম্যাচের গতি বদলে যায়।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বল হাতে নিয়ে মুস্তাফিজ প্রথম দুই বলেই সাইম আইয়ুবের কাছে টানা দুটি ছক্কা হজম করেন। যদিও ওভারের শেষ বলে স্লোয়ারে আইয়ুবকে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর দলীয় ৫৩ রানে উসমান খানও আউট হলে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি হয় বাংলাদেশের সামনে।
রিশাদ হোসেন ও শেখ মেহেদী দুই প্রান্ত থেকে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে পাকিস্তানের রান আটকে রাখছিলেন। কিন্তু দশম ওভারে আবার মুস্তাফিজকে আক্রমণে আনেন অধিনায়ক লিটন দাস। ওই ওভারেই ম্যাচ কার্যত বাংলাদেশের হাতছাড়া হয়ে যায়।
মুস্তাফিজের সেই ওভারে ২৩ রান নেন আব্দুল সামাদ। দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকানোর পর টানা চারটি চার মারেন তিনি। ফলে পাকিস্তানের জয়ের সমীকরণ নেমে আসে শেষ তিন ওভারে মাত্র ১৩ রানে।
শেষ পর্যন্ত ১১.৩ ওভারেই ৬ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। আব্দুল সামাদ ১৫ বলে ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন। সাইম আইয়ুব করেন ১২ বলে ২১ রান। নাসান নেওয়াজের ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে ২৭ রান।
এই জয়ে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের ফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত ও শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হবে। ওই ম্যাচের জয়ী দল ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে। আর পরাজিত দলের বিপক্ষে ৩ অক্টোবর সকালে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
ফলে স্বর্ণ ও রৌপ্য পদকের লড়াই থেকে ছিটকে গেলেও বাংলাদেশের সামনে এখনো ব্রোঞ্জ পদক জয়ের সুযোগ রয়েছে।















