রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot

ফেসবুক পোস্টের জেরে ২৬ বছর পর হারিয়ে যাওয়া নুর আলম ফিরে পেলেন পরিবার

শাহজাহান হেলাল
  • প্রকাশের সময় : ০১:২৮:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • / 1

দীর্ঘ ২৬ বছর পর পরিবারের কাছে ফিরে গেলেন ময়মনসিংহের মো. আলী হোসেন। মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় পরিবারের অজান্তে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। ফরিদপুরের মধুখালীতে স্থানীয়দের কাছে ‘নুর আলম’ নামে পরিচিত হয়ে বসবাস করছিলেন। অবশেষে একজন সাংবাদিকের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তাঁর পরিবারের সন্ধান মেলে।

জানা যায়, মো. আলী হোসেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পান্ডাপাড়া গ্রামের মো. চাঁন মিয়া ও মোসা. আবেদা খাতুনের ছেলে। প্রায় ২৬ বছর আগে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় পরিবারের অজান্তে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। এরপর আর বাড়ি ফেরা হয়নি তাঁর। পথপরিক্রমায় একসময় ফরিদপুরের মধুখালীতে পৌঁছান। কিন্তু নিজের বাড়ির ঠিকানা, এমনকি নিজের নামও বলতে পারতেন না তিনি।

মধুখালীতে দীর্ঘদিন বিভিন্ন হোটেল ও বাসাবাড়িতে বিনা পারিশ্রমিকে খাবারের বিনিময়ে কাজ করেছেন। স্থানীয় লোকজনের দেওয়া ‘নুর আলম’ নামেই পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। একপর্যায়ে শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হলে রাস্তায় কিংবা খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে থাকেন। এ সময় মধুখালীর কিছু দয়ালু মানুষ তাঁর খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

গত অক্টোবর মাসে সাংবাদিক শাহজাহান হেলাল নিজের ফেসবুক পেজে নুর আলমের ছবি দিয়ে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তাঁর পরিচয় জানার জন্য যোগাযোগ আসতে থাকে।

পোস্টের সূত্র ধরে কয়েকটি পরিবার নিজেদের স্বজন বলে দাবি করে মধুখালীতে এলেও যাচাই-বাছাইয়ের পর তাঁদের কেউ নুর আলমকে নিজেদের হারিয়ে যাওয়া স্বজন হিসেবে শনাক্ত করতে পারেননি।

অবশেষে গত ৭ নভেম্বর শনিবার ময়মনসিংহ থেকে একটি পরিবার মধুখালী রেলগেট এলাকায় এসে নুর আলমকে শনাক্ত করে। তাঁদের দাবি, ২৫-২৬ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া তাঁদের পরিবারের সদস্য মো. আলী হোসেনই বর্তমানে নুর আলম নামে পরিচিত।

পরিবারের দাবির সত্যতা যাচাইয়ে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১ নম্বর অষ্টধার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক আরমানের দেওয়া প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে আলী হোসেন ও তাঁর পরিবারের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

পরে মধুখালী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এসএম মাসুদুজ্জামান ও মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকদেব রায়ের পরামর্শক্রমে এবং স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে নুর আলম ওরফে মো. আলী হোসেনকে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দীর্ঘ ২৬ বছর পর হারিয়ে যাওয়া স্বজনকে ফিরে পেয়ে রেলগেট এলাকায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় তাঁরা সাংবাদিক শাহজাহান হেলালসহ স্থানীয় সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সাবেক পুলিশ সদস্য মো. তারিকুল ইসলাম, আলী হোসেনের বড় বোন হোসনেয়ারা বেগম, বড় দুলাভাই মো. আবু বক্কার সরদার, মামাতো ভাই ইমরান মীর, ভাতিজা মজনু মিয়া এবং তাঁর ছেলে মো. মানিক মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

একটি ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে দীর্ঘ ২৬ বছর পর স্বজনদের ফিরে পাওয়ার এ ঘটনা মধুখালীতে স্থানীয়দের মধ্যে আবেগ ও আনন্দের সৃষ্টি করেছে।

 

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ফেসবুক পোস্টের জেরে ২৬ বছর পর হারিয়ে যাওয়া নুর আলম ফিরে পেলেন পরিবার

প্রকাশের সময় : ০১:২৮:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ ২৬ বছর পর পরিবারের কাছে ফিরে গেলেন ময়মনসিংহের মো. আলী হোসেন। মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় পরিবারের অজান্তে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। ফরিদপুরের মধুখালীতে স্থানীয়দের কাছে ‘নুর আলম’ নামে পরিচিত হয়ে বসবাস করছিলেন। অবশেষে একজন সাংবাদিকের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তাঁর পরিবারের সন্ধান মেলে।

জানা যায়, মো. আলী হোসেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পান্ডাপাড়া গ্রামের মো. চাঁন মিয়া ও মোসা. আবেদা খাতুনের ছেলে। প্রায় ২৬ বছর আগে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় পরিবারের অজান্তে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তিনি। এরপর আর বাড়ি ফেরা হয়নি তাঁর। পথপরিক্রমায় একসময় ফরিদপুরের মধুখালীতে পৌঁছান। কিন্তু নিজের বাড়ির ঠিকানা, এমনকি নিজের নামও বলতে পারতেন না তিনি।

মধুখালীতে দীর্ঘদিন বিভিন্ন হোটেল ও বাসাবাড়িতে বিনা পারিশ্রমিকে খাবারের বিনিময়ে কাজ করেছেন। স্থানীয় লোকজনের দেওয়া ‘নুর আলম’ নামেই পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। একপর্যায়ে শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হলে রাস্তায় কিংবা খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে থাকেন। এ সময় মধুখালীর কিছু দয়ালু মানুষ তাঁর খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

গত অক্টোবর মাসে সাংবাদিক শাহজাহান হেলাল নিজের ফেসবুক পেজে নুর আলমের ছবি দিয়ে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তাঁর পরিচয় জানার জন্য যোগাযোগ আসতে থাকে।

পোস্টের সূত্র ধরে কয়েকটি পরিবার নিজেদের স্বজন বলে দাবি করে মধুখালীতে এলেও যাচাই-বাছাইয়ের পর তাঁদের কেউ নুর আলমকে নিজেদের হারিয়ে যাওয়া স্বজন হিসেবে শনাক্ত করতে পারেননি।

অবশেষে গত ৭ নভেম্বর শনিবার ময়মনসিংহ থেকে একটি পরিবার মধুখালী রেলগেট এলাকায় এসে নুর আলমকে শনাক্ত করে। তাঁদের দাবি, ২৫-২৬ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া তাঁদের পরিবারের সদস্য মো. আলী হোসেনই বর্তমানে নুর আলম নামে পরিচিত।

পরিবারের দাবির সত্যতা যাচাইয়ে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ১ নম্বর অষ্টধার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল হক আরমানের দেওয়া প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে আলী হোসেন ও তাঁর পরিবারের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

পরে মধুখালী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার এসএম মাসুদুজ্জামান ও মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকদেব রায়ের পরামর্শক্রমে এবং স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে নুর আলম ওরফে মো. আলী হোসেনকে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দীর্ঘ ২৬ বছর পর হারিয়ে যাওয়া স্বজনকে ফিরে পেয়ে রেলগেট এলাকায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় তাঁরা সাংবাদিক শাহজাহান হেলালসহ স্থানীয় সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সাবেক পুলিশ সদস্য মো. তারিকুল ইসলাম, আলী হোসেনের বড় বোন হোসনেয়ারা বেগম, বড় দুলাভাই মো. আবু বক্কার সরদার, মামাতো ভাই ইমরান মীর, ভাতিজা মজনু মিয়া এবং তাঁর ছেলে মো. মানিক মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

একটি ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে দীর্ঘ ২৬ বছর পর স্বজনদের ফিরে পাওয়ার এ ঘটনা মধুখালীতে স্থানীয়দের মধ্যে আবেগ ও আনন্দের সৃষ্টি করেছে।