শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
‘আমি শুনেছি সেদিন তুমি’র সুর শাহরুখের সিনেমার গানে? মৌসুমীর ভিন্নমত সোমবার আসছেন হামজা ও ফারহান ব্যানারে জিয়ার ছবি নেই, শেখ মুজিবকে ‘জাতির পিতা’ বলায় মঞ্চ থেকে নামানো হলো বক্তাকে রিয়ালের পরবর্তী সভাপতি কি নাদাল, যা বলছে ক্লাবের নিয়ম শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে ক্ষমা চাওয়ানোর অভিযোগ জাবি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের তীব্র প্রতিবাদে চট্টগ্রামের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান থেকে বাদ পরীমনি আর্জেন্টিনার আপিলে শাস্তি কমল মলিনার, কমেনি পারেদেসের হৃদয়ের কাছেই রহস্যটা জানতে বললেন সিমন্স কালীগঞ্জে ২৫ জন অসহায় ব্যক্তিকে সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রদান করলেন এমপি আবু তালিব নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হলো জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস

ব্যানারে জিয়ার ছবি নেই, শেখ মুজিবকে ‘জাতির পিতা’ বলায় মঞ্চ থেকে নামানো হলো বক্তাকে

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:২১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / 10

জয়পুরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনাসভার ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকা এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ ও ‘জাতির পিতা’ সম্বোধন করা নিয়ে তীব্র হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। একই সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া।

শনিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। তবে ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিমন্ত্রীও তাৎক্ষণিকভাবে মঞ্চে ওঠেননি। পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসকসহ অন্য কর্মকর্তারা মঞ্চে গিয়ে জিয়াউর রহমানের একটি পোস্টার স্কচটেপ দিয়ে ব্যানারে সংযুক্ত করেন। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা পর প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে উঠলে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

সভা চলাকালে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন জিয়া পরিষদের জয়পুরহাট পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে একাধিকবার ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ সম্বোধন করেন। এতে সভাস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে এবং হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এ কে এম গোলাম মাহফুজ উত্তেজিত হয়ে ডায়াসের দিকে এগিয়ে যান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মারুফ হাসানকে তাৎক্ষণিকভাবে ডায়াস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে পরিবেশ কিছুটা শান্ত হলে সভা পুনরায় শুরু হয়।

ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি বাদ পড়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও প্রশাসনে এখনো তাদের দোসররা ঘাপটি মেরে রয়েছে, যারা সরকারের উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর পর দিবসটি পালিত হচ্ছে, অথচ যাঁর নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে এই আয়োজন, ব্যানারে তাঁর ছবিই রাখা হয়নি। এটি নেতাকর্মীদের জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী অনুষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা ও ত্রুটিবিচ্যুতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা ইচ্ছাকৃত হয়ে থাকলে অবশ্যই দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে নির্দেশ দেন।

অনাকাঙ্ক্ষিত এ ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া বলেন, ইন্টারনেট থেকে নকশা সংগ্রহ করে ব্যানারটি তৈরি করার কারণে এই অসাবধানতা হয়েছে।

আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, সিভিল সার্জন আল-মামুন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতা জগলুল আলম প্রমুখ।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ব্যানারে জিয়ার ছবি নেই, শেখ মুজিবকে ‘জাতির পিতা’ বলায় মঞ্চ থেকে নামানো হলো বক্তাকে

প্রকাশের সময় : ০৯:২১:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

জয়পুরহাটে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনাসভার ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকা এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ ও ‘জাতির পিতা’ সম্বোধন করা নিয়ে তীব্র হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। একই সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া।

শনিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। তবে ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি না দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিমন্ত্রীও তাৎক্ষণিকভাবে মঞ্চে ওঠেননি। পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসকসহ অন্য কর্মকর্তারা মঞ্চে গিয়ে জিয়াউর রহমানের একটি পোস্টার স্কচটেপ দিয়ে ব্যানারে সংযুক্ত করেন। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা পর প্রতিমন্ত্রী মঞ্চে উঠলে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

সভা চলাকালে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন জিয়া পরিষদের জয়পুরহাট পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক মারুফ হাসান। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে একাধিকবার ‘জাতির পিতা’ ও ‘বঙ্গবন্ধু’ সম্বোধন করেন। এতে সভাস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে এবং হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এ কে এম গোলাম মাহফুজ উত্তেজিত হয়ে ডায়াসের দিকে এগিয়ে যান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মারুফ হাসানকে তাৎক্ষণিকভাবে ডায়াস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে পরিবেশ কিছুটা শান্ত হলে সভা পুনরায় শুরু হয়।

ব্যানারে জিয়াউর রহমানের ছবি বাদ পড়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ ওহাব। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও প্রশাসনে এখনো তাদের দোসররা ঘাপটি মেরে রয়েছে, যারা সরকারের উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধান বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর পর দিবসটি পালিত হচ্ছে, অথচ যাঁর নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে এই আয়োজন, ব্যানারে তাঁর ছবিই রাখা হয়নি। এটি নেতাকর্মীদের জন্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী অনুষ্ঠানের অব্যবস্থাপনা ও ত্রুটিবিচ্যুতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা ইচ্ছাকৃত হয়ে থাকলে অবশ্যই দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদের প্রশাসককে নির্দেশ দেন।

অনাকাঙ্ক্ষিত এ ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়া বলেন, ইন্টারনেট থেকে নকশা সংগ্রহ করে ব্যানারটি তৈরি করার কারণে এই অসাবধানতা হয়েছে।

আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম, সিভিল সার্জন আল-মামুন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন এবং জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতা জগলুল আলম প্রমুখ।