শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

৭ নভেম্বর ছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক প্রতিরোধ: রাশেদ খান

একরামুল ইসলাম তুষার, কালীগঞ্জ
  • প্রকাশের সময় : ০৫:২৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / 1

ঝিনাইদহে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা বিএনপির উদ্যোগে পৃথকভাবে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মসজিদের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, দুপুরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে আরেকটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। এতে দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

র‌্যালি ও মতবিনিময় সভা শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয়নি। বিএনপি সরকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এবারই প্রথম সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ইতিহাস তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, ওই দিনের ঘটনা ছিল মূলত ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহি ও সাধারণ জনতার ঐতিহাসিক প্রতিরোধ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সহযোগিতা করলেও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের ওপর বিভিন্নভাবে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে, যা জনগণ মেনে নেয়নি।

তিনি আরও বলেন, একাত্তরের পর থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর মতে, পঁচাত্তরের আগের সময়ে ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ফ্যাসিবাদের দোসররা গণহত্যা চালিয়েছে।

১৯৬৯, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান আগের সব আন্দোলনকে ছাড়িয়ে গেলেও বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র প্রকৃত ‘বিপ্লব’ সংঘটিত হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। তাঁর দাবি, ওই বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন সিপাহি ও জনতা।

১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের সেনা অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এত দিন জাতিকে মিথ্যা ইতিহাস ও ভুল বয়ান শোনানো হয়েছে। এখন সময় এসেছে সঠিক ও সত্য ইতিহাস তুলে ধরার।

তিনি আরও বলেন, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দেশের বড় পরিবর্তন সূচিত হয়েছিল। একইভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গঠনের যাত্রায় দেশের সব রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এসে সহযোগিতা করতে হবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

৭ নভেম্বর ছিল ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক প্রতিরোধ: রাশেদ খান

প্রকাশের সময় : ০৫:২৯:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ঝিনাইদহে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা বিএনপির উদ্যোগে পৃথকভাবে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মসজিদের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, দুপুরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে আরেকটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়। এতে দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

র‌্যালি ও মতবিনিময় সভা শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছর ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয়নি। বিএনপি সরকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এবারই প্রথম সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ইতিহাস তুলে ধরে রাশেদ খান বলেন, ওই দিনের ঘটনা ছিল মূলত ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সিপাহি ও সাধারণ জনতার ঐতিহাসিক প্রতিরোধ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সহযোগিতা করলেও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের ওপর বিভিন্নভাবে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে, যা জনগণ মেনে নেয়নি।

তিনি আরও বলেন, একাত্তরের পর থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর মতে, পঁচাত্তরের আগের সময়ে ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ফ্যাসিবাদের দোসররা গণহত্যা চালিয়েছে।

১৯৬৯, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান আগের সব আন্দোলনকে ছাড়িয়ে গেলেও বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র প্রকৃত ‘বিপ্লব’ সংঘটিত হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। তাঁর দাবি, ওই বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন সিপাহি ও জনতা।

১৫ আগস্ট ও ৩ নভেম্বরের সেনা অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এত দিন জাতিকে মিথ্যা ইতিহাস ও ভুল বয়ান শোনানো হয়েছে। এখন সময় এসেছে সঠিক ও সত্য ইতিহাস তুলে ধরার।

তিনি আরও বলেন, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দেশের বড় পরিবর্তন সূচিত হয়েছিল। একইভাবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গঠনের যাত্রায় দেশের সব রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে এসে সহযোগিতা করতে হবে।